🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমি কোন ওয়াসওয়াসার রুগী নই। আপনাদের এই সুন্দর সাইট টিতে আমার একাউন্ট থাকাতে অনেকই আমাকে তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করতে বলে এইজন্য এর আগে কয়েকটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছি।এবং আপনাদের উত্তরের উপর আলহামদুলিল্লাহ ভরসা হয় সবসময়। প্রশ্ন: স্বামী স্ত্রীর মাঝে অনেকবার তাল* এর মজলিশ সৃষ্টি হয়েছে।স্বামী স্ত্রী যেহেতু জানত না এভাবে তাল* হতে পারে, তাদের এই মজলিসগুলো মূল নিয়্যতই ছিল স্বামী কতৃক স্ত্রীকে উকিলের মাধ্যমে তাল* দিবে।এক্ষেত্রে স্বামী অনেকবার স্ত্রীকে এইসব মজলিশে হুমকি দিয়েছে যা ছিল ছেড়ে দিবে,এইসব আলোচনার সময় স্বামী স্ত্রীকে অসংখ্য কেনায়া তাল* এর শব্দ বলেছে। যেগুলোর নিয়তও ছিল ভবিষ্যতকেন্দ্রিক।এর মাঝে স্বামী এমন শব্দও অনেক বার বলেছে তোমাকে আমার ভালো লাগে না,তোমার সংগে সংসার করা সম্ভব না। ১।এখন কথা হলো এরকম মজলিশগুলোতে এরকম সকল কথা ও নিয়ত ভবিষ্যতকেন্দ্রিক হলে করণিয় কি? কোন তাল কি পতীত হবে? ২।যদি পতীত হয় তবে প্রতি মজলিশ গুলোতে কি ১ তাল করে পতীত হবে নাকি একবার তাল বায়েন হওয়াতে পরবর্তী মজলিশগুলোতে আর কোন তাল* পতীত হবে না? ৩।এরকম মজলিশে স্ত্রী একবার বলেছে যদি সে একমাসের মাঝে মা না হতে পারে তবে চলে যাবে,তার তাল* এর কোন নিয়ত ছিল না, পরীস্থিতি সামলাতে সে মিথ্যা বলেছিল। এক্ষেত্রে কি তাল* পতীত হবে? ৪. তালের মজলিশে কি যখনই কেনায়া বলা হোক(যদি নিয়ত না থাকে) সেটা বিবেচনা করা হয়? নাকি এর আগের ও পরের বাক্যগুলোর উপর ভিত্তি করে নিয়ত বিবেচনা করা হয়? যেমন স্বামী বলল তোমাকে ছেড়ে দিব। এরপর সে কিছু অভিযোগ করল বা স্ত্রী অনুনয় করল। এরপর স্বামী বলল যে তার পক্ষে সংসার করা সম্ভব না।এক্ষেত্রে কি হবে ৪. এমন মজলিশে স্বামী যদি বলে যে কাবিনের টাকা পরীশোধের টাকা তার আছে সে করতে পারবে (এটাও ভবিষ্যতের ইংগীত) এক্ষেত্রে কি তাল হবে?
উত্তর (হানাফী ফিকহ অনুসারে — সূত্র: রাদ্দ আল-মুতার (ইবনে আবদিন), কিতাব-উত-তালাক):

১) সাধারণ নীতিঃ ভাষ্য ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচার করা হবে — নিয়ত (মনোইচ্ছা) শর্ত নয়, কিন্তু যদি কথাগুলো স্পষ্টভাবে ঠাট্টা/হাসি-ভবনে বলা হয় এবং সবারই ধারণা থাকত যে বলাটা মজা মাত্র, তাহলে তালাক পাথেতে না। ხოლო যদি কথাগুলো এমনভাবে বলা হয় যে সাধারণভাবে তা তালাক বোঝায় (উদাহরণ: “আমি তোমাকে তালাক দিলাম/তুমি তালাক” ইত্যাদি স্বতস্ফূর্ত, সামনের কণ্ঠে উচ্চারণ), তাহলে তা বৈধ তালাক গণ্য হবে, যদিও বলা সময় স্বামী “ভবিষ্যতে” বলে বললেও যদি ভাষ্যটি তালাক বোঝায় তা কার্যকর। অন্যদিকে যখন ভাষ্য ভবিষ্যৎকেন্দ্রিক প্রমিস/হুমকি (যেমন: “আমি তোমাকে ছেড়ে দেব” — ভবিষ্যতে) স্পষ্টভাবে বোঝায় যে তা কেবল হুমকি বা প্রতিশ্রুতি, তাহলে সাধারণত তা সঙ্গে সঙ্গেই তালাক নয়।

২) প্রতি আলাদা স্পষ্ট ভাষ্য আলাদা তালাক হিসেবে গণ্য হবে — অর্থাৎ প্রতিটি মজলিসে যদি স্বামী আলাদাভাবে এমন মন্তব্য করে যা তালাক হিসাবে বিবেচিত হয়, প্রতিটির জন্য আলাদা তালাক সংখ্যা গন্য হবে। একবার তালাক ঘটে যাওয়ার পর পরবর্তী মজলিসেও যদি আবার স্পষ্ট তালাকঘোষণা করা হয়, তা পুনরায় তালাক হবে। (তবে যদি প্রথমটিই স্পষ্টভাবে মজা বলে ঘোষণা করা হয় এবং কেউ তা তালাক বুঝে নেয়নি, তাহলে তা বলে না ধরা হবে।)

৩) স্ত্রী যখন বলেছে “এক মাসের মধ্যে না হলে আমি চলে যাব” — স্ত্রী নিজে এই কথা বললে তা স্বতঃসিদ্ধভাবে তালাক নয়; তালাক দেওয়ার ক্ষমতা মূলত স্বামীর। স্ত্রীর কণ্ঠে দেয়া এমন শর্তভিত্তিক বা হুমকিমূলক কথা তালাক গণ্য করে না। (এতে খোলা বিষয়: স্ত্রী যদি স্বয়ংকে তালাক দাবি করে বা অন্য কোনো বিশেষ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তবে আর কথা আলাদা।)

৪) কেনায়া/ইঙ্গিত (hints) সম্পর্কিত বিচারঃ শুধুমাত্র ইঙ্গিত বা অর্ধেক বাক্য কেবল থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তালাক ধরা হবে না যদি তা স্পষ্ট না হয়; এখানে বাক্যের পূর্ব ও পরের প্রসঙ্গ, কণ্ঠভঙ্গি, উপস্থিত লোকজন কিভাবে গ্রহণ করে ইত্যাদি বিবেচ্য — অর্থাৎ পুরো মজলিসের প্রেক্ষাপট দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমন: “আমি তোমাকে ছেড়ে দিব” — যদি তা কেবল ক্ষোভ বা হুমকি হিসেবে বলা হয় এবং পরে সেই মানুষ অভিযোগ করল কিংবা অনুনয় করল, তাহলে তা তালাক হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে; কিন্তু যদি বাক্যটি স্বাভাবিক, স্পষ্টভাবে তালাকসূচক অর্থ বহন করে, তখন তা তালাক।

৫) কাবিন/পैসা ফেরত দেওয়ার মতো ভবিষ্যতপ্রক্ট অঙ্গীকার (যেমন: “কাবিনের টাকা আমি পরিশোধ করে দেব”)— এগুলো তালাক নয়; এগুলো প্রজ্ঞাপন/প্রতিজ্ঞা এবং বিবাহবিচ্ছেদ নির্দেশ করে না। কেবল এমন ভাষ্যই তালাক হিসাবে গণ্য হবে যা শব্দের স্বাভাবিক অর্থে তালাক বোঝায় অথবা যে বাক্য প্রচলিতভাবে তালাকপ্রকাশক বলে গৃহীত।

সংক্ষেপে: আপনি যদি মজার ছলে বা হুমকি-ভঙ্গিতে ভবিষ্যৎকেন্দ্রিক কথা বলেন এবং তা স্পষ্ট তালাকের মতো না হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণত তালাক পতিত হবে না; কিন্তু যদি কোনো মজলিসে এমন স্পষ্ট বাক্য উচ্চারণ করা হয় যাকে সাধারণভাবে তালাক বোঝা হয় (বা স্পষ্ট “তুমি তালাক” প্রভৃতি বলা হয়), তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রতিটি স্পষ্ট উচ্চারণ আলাদা আলাদা হিসেবে গন্য হবে। (সূত্র: রাদ্দ আল-মুতার, কিতাব-উত-তালাক)