🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

☘অনুশীলন-১☘ প্রশ্ন: ক. বিছানা বা  তোষকে বাচ্চা /বিড়ালের পেশাব লাগলে তা যদি বারবার ধোয়া সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে কি নাপাক বিছানা বা তোষকের উপর  পাক চাদর বিছিয়ে তার উপর ইবাদত করা জায়েজ আছে? তার উপর নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা জায়েজ আছে কি? খ. মোটা বিছানা বা তোষক নাপাক হয়ে গেলে তা পাক করার পদ্ধতি কি? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন। 🌿 নোটিশ 🌿 ifatwa.info ফাতওয়া ওয়েবসাইট থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করে নিজের কাছে জমা রাখতে হবে। অতঃপর যখন উস্তায ক্লাসে জমা দিতে বলবেন তখন জমা দিতে হবে। আগে জমা দেওয়া যাবে না। সময় - আগামী সোমবার পর্যন্ত অর্থাৎ ৭ দিন।
উত্তর (হানাফী ফিকহ অনুযায়ী):

ক) যদি বিছানা/তোষকে শিশুর বা বিড়ালের পেশাব (অথবা অন্য নাজাঈ বস্তু) লেগে যায় এবং বারবার ধোয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সরাসরি নাজায়়াপূর্ণ অংশের উপর নামায, কুরআন তেলাওয়াত বা জিকির করা যাবেনা। কিন্তু যদি আপনি তাকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেন একটি পাক (শুদ্‌ধ) চাদর দিয়ে — শর্ত হলো ওই চাদর সত্যিকারের পরিপূর্ণ পবিত্র (পাক) হতে হবে, পেশাবের আর্দ্রতা বা ধোঁয়া/গন্ধ তার মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে না এবং চাদরের উপর কোন দৃশ্যমান দাগ বা গন্ধ নেই — তখন ঐ চাদরের উপর নামায আদায়, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা জায়েজ। তবে যদি নাজাঈটি ভেজা থেকে নিচে লিক করে বা গন্ধ ঝরে আসছে, অথবা চাদর সন্দেহভাজন হয়ে যায়, তাহলে ঐ স্থানে ইবাদত করা অনুমোদিত নয়। নিরাপদ হলে বরং আলাদা পরিষ্কার ছত্র বা কম্বল ব্যবহার করুন বা মাটির উপর পরিষ্কার জানমাল বিছিয়ে নামায করুন।

খ) মোটা বিছানা/তোষক নাপাক হলে পবিত্র করার পদ্ধতি (বিস্তারিত, হানাফী রীতি অনুযায়ী):
1. প্রথমে দৃশ্যমান নাজায়়া (পেশাব ইত্যাদি) সম্ভব হলে শুকনো কাপড় বা কাগজ দিয়ে রুগিয়ে ফেলুন — অতিরিক্ত ছড়িয়ে পড়া রোধ করুন।
2. কঠিনভাবে লেগে থাকলে টেনে ঝাড়া বা কেটে বাদ দিতে হবে; শুকানো মলিন অংশ খসে ফেলুন।
3. ধোয়া শুরু করুন: নাজায়়ার জায়গায় প্রচুর পানি ঢালুন (বা পানিতে ভিজিয়ে ঘষুন) যতক্ষণ না দাগ পরিষ্কার হচ্ছে এবং রঙ/গন্ধ ম্লান হচ্ছে। সাবান/ডিটर्जেন্ট ব্যবহার করা যায় যাতে দাগ ও গন্ধ দ্রুত ওঠে।
4. যদি পেশাব তুষার বা ভিতরের ভরতে (stuffing) পর্যন্ত শোবেছে, তবে যতটা সম্ভব পানি ঢেলে বাইরে থেকে প্রবাহ করান যাতে ভিতরের নাজায়়া বেরিয়ে আসে। বারবার পানি বদলাতে থাকবে যতক্ষণ না গন্ধ ও রঙ পুরোপুরি চলে যায়।
5. রগড়ে-রগড়ে ধোয়ার পরে পরিষ্কার পানি দিয়ে বহুবার ধৌত করুন যতক্ষণ না পানি সম্পূর্ণ পরিষ্কার-নির্মল হয়ে আসে এবং গন্ধ না থেকে যায়।
6. শুকানো: সঠিকভাবে রোদে শুকিয়ে নিন; রোদ ও হাওয়া শুকায় এবং বশিবর্জন করে। যদি রোদে শুকানো সম্ভব না হয়, ভালোভাবে বাতাস চলাচল করানো প্রয়োজন।
7. যদি ভিতরের ফিলিং (স্টাফিং) থেকে দূষণ মুছে না যায় বা তা নষ্ট হয়ে গেছে, তবে সেই ফিলিং বের করে ফেলা অথবা পুরো বিছানা/তোষকের বদলি করাই উত্তম।
8. যদি উপরোক্ত কোনোরকমে পরিষ্কার করা সম্ভব না হয় (অর্থাৎ গভীরে শোবেছে এবং মুছে ওঠে না), তবে ঐ বিছানায় সরাসরি নামায করা যাবে না; বরং পরিষ্কার এবং পবিত্র একটি ইমাম/চাদর/ম্যেট ব্যবহার করুন বা টেকশীল (গৃহস্থালী জলরোধী চাদর) ও তার ওপর বহু স্তরের পাক আবরণের ব্যবস্থা করুন যাতে কোন স্পর্শ/গন্ধ বাইরে না আসে।

উপসংহার: লক্ষ্য রাখতে হবে যে ইবাদতের স্থান যে অংশে আপনি স্পর্শ করবেন বা যেখানে কুরআন তেলাওয়াত করবেন, সেই অংশ নিশ্চিতভাবে পবিত্র হতে হবে — অথবা নিরাপদভাবে তা ঢেকে পবিত্র অবস্থায় রক্ষা করতে হবে। পরিষ্কারের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব পানি ব্যবহার করে দাগ-গন্ধ সম্পূর্ণ মুছে ফেলাই উত্তম; না হলে পরিবর্তন/বহুস্তরীয় পবিত্র আবরণ অবলম্বন করুন।

রেফারেন্স (একটি): সাহিহ মুসলিম — “অতত্‌হুরু শতরুল ইমান” (শুদ্ধতা/পরিষ্কারের গুরুত্ব উল্লেখ; তুলনামূলক নির্দেশনার জন্য)।