🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

১) মোবাইল ফোনে কি ছবি তোলা জায়েজ? মোবাইলে নিজেদের ছবি তুলে নিজের কাছে রাখা যাবে? কেবল মেমোরি হিসেবে রাখার জন্য বা কোনো খারাপ নিয়ত না থাকলে এবং কোনো গায়রে মাহরাম দেখবেনা এমন হলে কি আমি ছবি তুলে ফোনে রাখতে পারবো? দ্বীন এ ফেরার পূর্বের কিছু ছবি আছে যেগুলো কেউ দেখবেনা আমি কি এগুলো রাখতে পারবো নাকি গোনাহ হবে। ২) ছবি থাকলে কি মরার পর গোনাহ হতে থাকে? ৩) মাগরিব এর টাইমে জানালা দরজা বন্ধ করতে বলা হয় যাতে শয়তান ঘরে না ঢুকতে পারে এটা কি সহীহ? মাগরিব এর টাইমে ঘরের জানালা খোলা থাকলে।কি কিছু হবে? এই সময় মহিলারা না বের হওয়াই কি উত্তম?
ইফতাওয়া.ifatwa.info (হানাফী ফিকহ) অনুযায়ী সংক্ষেপে জবাব:

১) মোবাইল ফোনে ছবি তোলা ও নিজের ছবি ফোনে রাখা:
- কাগ্জ-চিত্র বা আধুনিক ভাস্কর্য-চিত্র বানানো—যেখানে মানুষ বা জীবন্ত প্রজাতির স্থির ছবি নিয়মিতভাবে আঁকা/গড়া হয়—এটি ক্লাসিক্যাল হানাফী সূত্রে অবৈধ/মাকরূহ-টাইপ বিবেচ্য। তবে আধুনিক আলো-ক্যামেরা দিয়ে তোলা ফটোগ্রাফি সম্পর্কে হানাফী উলামা’র সমসাময়িক অবস্থান আমাদের অনুমতিপূর্ণ গণ্য করেছে, বিশেষত যখন তা পরিচয়, স্মৃতি বা প্রয়োজনীয় কাজে নেওয়া হয় এবং কোনো খারাপ নিয়ত বা ফিতনা (অশ্লীলতা, গায়রে-মাহরাম দেখানো ইত্যাদি) নেই।
- যদি আপনি ছবিগুলো কেবল নিজের স্মৃতি হিসেবে রাখেন, কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য না থাকে এবং তা গায়রে-মাহরাম দেখাবে না, তবে সাধারণত তা জায়েজ ধরা হয়; তবে ছবিতে সরাসরি আঙ্গিক/আবরণের উন্মোচন থাকলে নিষেধ।
- পূর্বে দ্বীনে ফেরার আগে নেওয়া ছবিও একইভাবে: এনে রাখলে গোনাহ হয় না যদি তাতে অন্য কোন হারাম নিয়ত বা প্রচার না থাকে এবং কেউ তা দেখতে পাবে না।

দ্রষ্টব্য: কোন চিত্র নিজে তৈরি করলে (গড়লে) এবং সেটা বস্তুত জীবন্তকে অনুকরণ করে প্রশংসা/পূজা-পাঠে ব্যবহার করলে হাদীস অনুসারে কঠোর সতর্কতা রয়েছে (নীচে কেবল একটি হাদীস উল্লেখ করা হলো)।

হাদীস (উল্লিখিত মাত্র এক সূত্র): সাহিহ আল-বুখারীতে বর্ণিত এক হাদীসে নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি চিত্র বানায়, তাকে কিয়ামতের দিনে শাস্তি দেওয়া হবে” (বুখারি) — এহেন নসিহত চিত্র-রচনার বিপক্ষে বলে।

২) ছবি থাকলে কি মরার পর গোনাহ থামে না:
- কেবল ছবি রাখার কারণে মরার পর আপনাকে আলাদা করে শাস্তি দেওয়া হবে—এমনটা হানাফী মূলমত নয়। বাস্তবে শাস্তি বা গোনাহ মূলত ব্যক্তির নিয়ত ও কাজের ওপর নির্ভর করে (যেমন, যদি কেউ অবৈধ ছবি বানানোর/প্রচারের সহযোগিতা করে)। সাধারণভাবে ব্যক্তি যদি কারো ছবি সংরক্ষণ করে রাখে, তা নিজের স্মৃতির জন্য এবং সেখানে কোনো হারাম দিক না থাকে, তাহলে মরার পর তার জন্য আলাদা শাস্তির ধারনা-supported নয়।

৩) মাগরিবের সময় জানলা/দরজা বন্ধ করার ব্যাপার ও মহিলাদের বাহিরে না যাওয়া:
- ইসলামে রাতের নিরাপত্তার জন্য দরজা-জানলা, ঘর-সংরক্ষণ ইত্যাদি ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে; ঘুমানোর আগে দোয়া পাঠ, আয়াতুল কুরসি ও শেষ দু’সুরা পাঠ প্রভৃতি সুপারিশ আছে। কিন্তু মাগরিব সময় জানলা আবশ্যকভাবে বন্ধ রাখতে হবে—এই সম্পর্কে হানাফী ফিকহে কোনো কঠোর ফিকহী বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা নেই; বরং সাধারণ নীতিমালা হলো নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য দরজা-জানলা বন্ধ রাখা যুক্তিযুক্ত।
- মহিলাদের জন্য: মাগরিব-সময়ে বেড়াতে বের হওয়া যদি জরুরি না (আবশ্যক কাজ, শিক্ষা ইত্যাদি) তাহলে বাড়িতে থাকা ও সাদাসিধে ও হিজাব বজায় রাখা উত্তম ও নিরাপদ। অনবশ্যকভাবে রাতের অন্ধকারে নির্জন স্থানে বা শর্তহীনভাবে বের হওয়া পরামর্শযোগ্য নয়। সংক্ষেপে: অনবশ্যক বাইরে যাওয়া এড়ানো উত্তম, কিন্তু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আপনি যেতে পারেন—তবে শরীয়ত ও নিরাপত্তা মেনে চলতে হবে।

শেষ কথা সংক্ষেপে:
- ক্যামেরা/ফোন-ছবি যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে তার উপরেই শারঈ বৈধতা নির্ভর করে; স্মৃতি বা প্রয়োজনীয় কাজে রাখা সাধারণত হানাফী রায়ে জায়েজ, কিন্তু খোলা-আবরণ/ফিতনার ছবি রাখা বা প্রদর্শন করা হারাম/নপ্রিয় হতে পারে।
- ছবি-রচনার সম্পর্কিত সতর্কতা বোঝাতে উল্লিখিত হাদীসটি দেখুন (সাহিহ আল-বুখারী)।

(উপরের উত্তরটি হানাফী ফিকহ অনুসারে ifatwa.info রীতি মেনে দেয়া হলো; হাদীস/কিতাব থেকে কেবল একটি সূত্র হিসেবে সাহিহ আল-বুখারীর উক্ত হাদীস নির্দেশ করা হয়েছে।)