আচ্ছালামু আলাইকুম। আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। হজরতের কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে , ১. এখন বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, পানের উপর আগুন জ্বালিয়ে তা দোকানদার কাস্টোমারের মুখে পুরে দেয়। এই আগুন খাওয়া কি জায়েজ আছে , কুরআন হাদিস থেকে বিস্তারিত জানতে চাই ???
২. মুসলিমরা তাদের জীবনসঙ্গী হিসেবে মুমিনদেরকেই পছন্দ করবে, এই বিষয়ে কুরআন হাদিস থেকে বিস্তারিত জানতে চাই।
ওয়ালাইকুম আসসালাম। ifatwa.info (হানাফী ফিকহ) অনুযায়ী সংক্ষেপে উত্তর নিচে দিলাম।
১) পানের ওপর আগুন জ্বালিয়ে দোকানদার কাস্টমারের মুখে পুরে দেওয়া — কি জায়েজ?
- স্পষ্টভাবে যদি সেই কাজের ফলে মানুষকে আঘাত, পোড়া বা কষ্ট হয়, তবে তা হারাম ও অবৈধ। ইসলামে অন্যের ক্ষতি করা নিষেধ; কারও শরীরে আহত করার মতো কাজ শাস্তিযোগ্য এবং দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে (বিকল্যঙ্গতা, দাওয়াই বা ইত্যাদি মকুল ক্ষতিপূরণ)।
- এমন কাজ যদি অনিচ্ছায় বা অসচেতনভাবে ঘটে তবু দায় থাকে; যদি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয় তবে অপরাধ আরও গুরুতর। এমনকি যদি গ্রাহক সমঝোতা প্রদান করেও সেটা গুরুতর ক্ষতি করে, শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ থেকে মুক্তি নেই; সাধারণত আল-‘উমূর আল-ইজমাত (হানাফী) অনুযায়ী অন্যকে আঘাত করা বারণ।
- সংক্ষিপ্ত হুকুম: কাউকে পুড়িয়ে বা ঝলসে দেওয়া, মুখে আগুন প্রবেশ করানো বা এমন কোনো জিনিস করা যা শরীরকে ক্ষতিতে ফেলে—নিষিদ্ধ (haram) এবং অপরাধীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে/শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
রেফারেন্স (একটি): حدیثِ معروف — "لا ضَرَرَ وَلا ضِرَارَ" (নো হরম/নো হর্মিং) — (রিসালত ও হুকুম নির্ধারণে মূল নীতি হিসেবে গ্রহণযোগ্য; সূত্র: رواه ابن ماجہ)।
২) জীবনসঙ্গী হিসেবে মুমিনদেরকেই পছন্দ করার ব্যাপারে:
- সাধারণ নীতি (হানাফী): দাম্পত্যে ধর্ম/ইমান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। ভালো ইমানবিশ্বাসী, ধার্মিক ও সৎ চরিত্রী মানুষ জীবনসঙ্গী হিসেবে অগ্রাধিক্য পাবে।
- পুরুষের সম্পর্কে: একজন মুসলমান পুরুষকে মুমিনা নারীই শ্রেষ্ঠ সঙ্গী; হানাফী মাযহাব অনুসারে পুরুষ যদি চায়, তিনি আছলাহ (শুদ্ধ) খ্রিস্টান/ইহুদি (আহ্లুল কিতাব) নারীর সঙ্গেও বিবাহ করতে পারবেন, তবে যদি তা ইসলামের রক্ষণাবেক্ষণে বা সন্তানদের ধর্মগত ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এমন আশঙ্কা থাকে তাহলে মুমিনা নারীকেই অগ্রাধিকার দেয়া উত্তম। কাফিরা/মুশরিকা‑র সাথে বিয়ে নিষিদ্ধ।
- নারীর সম্পর্কে: মুসলিম নারীকে অবিশ্বাসী/অমুসলমান পুরুষের সঙ্গে বিয়ে করা হারাম (হানাফী ও ইজমা' অনুযায়ী)।
- ব্যবহারিক দিক: বিবাহের ক্ষেত্রে "ধর্ম ও চরিত্র" প্রধান মাপকাঠি—ইমান, আমল, আদব-আচরণ, পরিবারের পরিবেশ ও সন্তানের তালীম-তরবিয়াকে গুরুত্ব দিতে হয়। হানাফী ফিকহে বিবাহে এসব দিক বিচার্য ও পরামর্শযোগ্য।
কথা সংক্ষেপে:
- কারও শরীর-স্বাস্থ্য নষ্ট করে এমন কাজ (যেমন মুখে আগুন করা/পোড়ানো) ইসলামীভাবে় হারাম এবং দায়ী হতে হবে (حديث: لا ضرر ولا ضرار)।
- জীবনের সঙ্গী নির্বাচন‑এ ইমান ও চরিত্র প্রাধান্য দেওয়া উচিত; পুরুষদের জন্য আহলুল কিতাব নারীর বিবাহ অনুমতি রয়েছে কিন্তু মুমিনা নারীই উত্তম, নারীদের জন্য কাফির/অমুসলমান পুরুষের সাথে বিয়ে হারাম।
আপনি যদি নির্দিষ্ট বাস্তব ঘটনার (চোখে পোড়া, গুরুতর আঘাত হলে) ওপর ফিকহী প্রয়োগ/পূর্নাঙ্গ উত্তর চান, সেক্ষেত্রে ঘটনাবিশেষ জানালে আরও নির্দিষ্ট হুকুম বলা যাবে।