🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ মুফতি সাহেব, আমার এবং আমার স্বামীর মধ্যে সামান্য মান-অভিমান হয়েছিল।পরবর্তীতে যখন আমাদের মধ্যে কথা হয়, তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করি যে তিনি কোনো নেতিবাচক কিছু ভেবেছেন কি না। তখন তিনি আমাকে আশ্বস্ত করার জন্য বারবার বলেন,"আমার তোমাকে তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত ছিল না।" প্রশ্ন : স্বামী যদি স্ত্রীকে আশ্বস্ত করতে গিয়ে বলে—"আমার তোমাকে তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত ছিল না", তবে এই বাক্যে 'তালাক' শব্দটির উল্লেখ থাকার কারণে কি শরীয়ত অনুযায়ী তালাক হয়?
ওয়ালাইকুমুস সালাম।

সংক্ষেপে জবাব: না — স্বামী যদি নিশ্চয়তা দেয় বলতে গিয়ে বলে "আমার তোমাকে তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত ছিল না", তখন নিজের কথায়ই তিনি তালাক হওয়াকে নাকচ করছেন; এ কথায় আলাদা করে নতুন কোনো তালাক ঘটে না, যদি সত্যিই তাঁর নীয়ত (ইচ্ছা/ইন্তেনশন) না থাকে।

বিস্তারে:
- হানাফি ফিকহ অনুযায়ী তালাক কথ্যভাবে কার্যকর হওয়ার জন্য সাধারণত শব্দ (লফ্‌জ) ও নীয়ত—দুইয়েরই বিবেচনা রাখা হয়; কাজে উদ্দেশ্য/নীয়ত গুরুত্বপূর্ণ। Hadith: "إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ" (যথার্থ কাজগুলি নীয়তের উপর নির্ভর করে) — (সহীহ বুখারি) — এ সূত্রেই বোঝা যায় যে যে বাক্যে নীয়ত নেই বা বাক্যটি নাকচকারী অর্থ বহন করে, সে ক্ষেত্রে তালাক সিদ্ধান্ত হয় না।
- তবে সতর্ক থাকতে হবে: যদি এর চেয়ে আগে স্বামী স্পষ্টভাবে "আমি তোমাকে তালাক দিলাম" ইত্যাদি বাক্য উচ্চারণ করে আর তখন তাঁর নীয়ত বাস্তবেই তালাক দেওয়ার ছিল, সেই পূর্বের ঘোষণাই কার্যকর হবে; পরবর্তীতে বললে "আমি দেওয়ার নীয়ত করি নাই" তা পুরোনো কার্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করবে না।
- যদি আপনার ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকে যে পূর্বে কোনো স্পষ্ট তালাক হয়েছিল কি না, তাহলে ঐ সময়কার কথাবার্তার সঠিক শব্দ এবং স্বামীর তখনকার মানসিক অবস্থা (গম্ভীর নাকি মজা/রাগে) যাচাই করা দরকার; প্রয়োজন হলে স্থানীয় মুদ্দতি মাশায়েখ বা কোর্ট/শুধু ফতোয়া কর্মকর্তার সহায়তা নিন।

সূত্র (একটি): "إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ" — সহীহ বুখারি।