🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমি একটা স্টুডেন্টকে পড়াই। কিন্তু ওকে পড়িয়ে আমি মেন্টালি স্যাটিসফেকশন পাচ্ছি না। আমার জন্য শারীরিকভাবেও অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর তাকে আমার গেম ডেভেলপমেন্ট শেখানোর কথা কিন্তু এখানে ইসলামিক কিছু বিষয়ের কারনে আমি গেম ডেভলপমেন্ট ওকে শেখাতে চাচ্ছি না কারণ এখানে হয়তো বিভিন্ন ক্যারেক্টার বানানো লাগতে পারে। এখন আমি স্টুডেন্টদের গার্ডিয়ানকে কিভাবে বলবো যে আমি তাকে পড়াতে চাই না। ইসলামিক সমাধান চাই।
ifatwa.info (হানাফী ফিক্হ) অনুযায়ী উত্তর:

আপনি যদি পড়ানো চালিয়ে গেলে শরীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তখন সেটি চালিয়ে যাওয়া অনুমোদিত নয় — ইসলামে “হানান-বিনা নূকসান” (ক্ষতি নিষেধ) নীতিটি প্রযোজ্য। হাদিসে বর্ণিত: "لا ضرر ولا ضرار" (মাওয়াত্তা ইমাম মালিক) — কোনো ক্ষতি করা বা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া উভয়ই হারাম। এই রাজনৈতিক-শিক্ষাগত পরিস্থিতিতে আপনি নীচের ধাপে চলবেন:

১) আপনার অবস্থার বাস্তবতা মূল্যায়ন করুন
- শারীরিক/মানসিক কষ্ট কি সাময়িক (ছুটি/ইয়াকীন/চিকিৎসা-নিয়ম করে ঠিক হবে) না স্থায়ী?
- পূর্বে যদি ব্যতিক্রমহীন চুক্তি/অগ্রিম অর্থ নেওয়া থাকে, সেটি বিবেচনা করতে হবে (নিয়ম অনুযায়ী পূরণ বা ফেরত দিতে হতে পারে)।

২) রূঢ়তা ছাড়া সদয় ও সৎভাবে অবহিত করুন
- মিথ্যা করবেন না; তবে সোজাসাপ্টা, হালকা ও সম্মানজনক ভঙ্গিতে বলুন।
- সম্ভাব্য বাক্যাভঙ্গি (বাংলায় নিদর্শন):
- "আসসালামু আলাইকুম। আল্লাহর স্বীকৃতি নিয়ে বলে বলছি, আমার শরীর/মনে বর্তমানে পড়ানো চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই দুঃখিত — আমি আর কনটিনিউ করতে পারছি না।"
- যদি ধর্মীয় কারণে বিশেষ বিষয়ে শেখাতে অনিচ্ছুক হন: "আমি ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকে গেমের নির্দিষ্ট অংশ (ক্যারেক্টার তৈরি/চিত্র সংক্রান্ত) শেখাতে অনিচ্ছুক। অন্য বিষয়ে যদি শিখতে চান আমি সাহায্য করতে পারি বা আপনাদের কাউকে সুপারিশ করব।"
- নরম কণ্ঠে, সম্মান প্রদর্শন করে এবং শিশুকে অপমান হবে এমন কিছু বলা থেকে বিরত থাকুন।

৩) বিকল্প ও সমাধান অফার করুন
- সম্ভব হলে বিকল্প পাঠ্যসূচি (কোর প্রোগ্রামিং, অ্যালগরিদম, গেম-লজিক, ইউজার-ইন্টারফেস ইত্যাদি) প্রস্তাব করুন যা দ্বিধাজনক অংশ এড়ায়।
- যদি সেটি গ্রহণ না করেন, তাহলে অন্য শিক্ষক/টিউটরের সুপারিশ দিন।
- পূর্বে অর্থ নেওয়া থাকলে ন্যায্য হিসাব করে ফেরত দিন বা স্থানান্তরের ব্যবস্থা করুন।

৪) চুক্তিগত দায়িত্ব মেনে চলুন
- আপনি যদি কাগজে কোনো চুক্তি করে থাকেন, তা বাতিল করার আগে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ করুন—প্রয়োজন হলে বদলি শিক্ষক করে দিন বা অর্থ ফেরত দিন। হানাফী-ফিকহ অনুযায়ী চুক্তির বাধ্যবাধকতা অগ্রাধিকারী।

৫) কথোপকথনের সময় সতর্কতা
- ছাত্রের প্রতি অপমানজনক বা সংখ্যা-অভিযোগমূলক বক্তব্য করবেন না।
- অভিভাবকের সঙ্গে শান্তভাবে বসে সমাধান বের করুন।
- যদি ধর্মীয় কারণ উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করুন—অন্যকে দোহাই দেবেন না বা কড়া অভিযোগ করবেন না।

৬) নৈতিক এবং আইনি দিক
- ইসলাম শিক্ষায় সততা ও ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ। নিজ কল্যাণ ও ধর্মীয় অনুশাসন দুটোই গুরুত্ব দিন।
- যদি গুরুতর স্বাস্থ্যজনিত কারণ থাকে, তা স্পষ্ট করে বলুন; ইসলামে নিজের শরীরকে ক্ষতি দেবার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেই।

শেষে: নম্রভাবে, স্পষ্টভাবে ও দায়িত্বশীল ভাবে বিষয়টি জানিয়ে দিন; একই সঙ্গে অবিলম্বে বিকল্প ব্যবস্থা দেবার চেষ্টা করুন। আল্লাহ তোমাকে সহজতা দান করুন।

(রেফারেন্স: হাদিস — "لا ضرر ولا ضرار" (মাওয়াত্তা ইমাম মালিক))