🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

ফার্মেসিতে কোনো মহিলা সদস্য না থাকলে আমি কি মহিলাদের ডায়াবেটিস, প্রেসার মেপে দেওয়া,ইঞ্জেকশন-ইনসুলিন দেওয়া এসব কাজ করতে পারবো? রিকশাওয়ালারা যদি নামাজে বাদ দিয়ে রিকশা চালায় তবে মালিকের কি গুণাহ হবে? কোনো ফতোয়া বিষয়ক ফেসবুক গ্ৰুপে প্রশ্ন করে এরপর কোনো কারণে তা ডিলিট করে দিল এক্ষেত্রে তা কি জায়েয? কারণ ঐ ক্ষেত্রে গ্ৰুপের মুফতিরা যদি অসুবিধায় পরে।
উত্তর (হানাফী ফিকহ অনুযায়ী):

1) ফার্মেসিতে কোনো মহিলা সদস্য না থাকলে মহিলাদের ব্লাড সুগার/প্রেসার মাপা, ইনজেকশন (ইনসুলিন) দেওয়া ইত্যাদি:
- যদি সেই চিকিৎসা/পদ্ধতিটি নারীর স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি বা প্রয়োজনীয় হয়, তাহলে পুরুষ কর্মী দ্বারা তা করানো জায়েজ; শর্ত হলো খলওয়া (একান্ত নির্জনতা) এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় উন্মোচন না করা, লজ্জাজনক স্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্য স্পষ্ট থাকা।
- সম্ভব হলে অন্য কর্মী উপস্থিত রাখুন বা পাতলা পর্দা/দ্বিতীয় ব্যক্তি রেখে, রোগীর সম্মতি নিন ও সম্ভাব্যভাবে নারী সহকারী খোঁজার পরামর্শ দিন।
- সংক্ষেপে: চিকিৎসাগত জরুরীতা ও মর্যাদা বজায় রেখে করা গেলে জায়েজ; নৈকট্য বা অনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হলে হারাম।

2) রিকশাওয়ালা যদি নামাজ বাদ দিয়ে রিকশা চালায়, মালিকের গুনাহ:
- যদি মালিক নিজে শ্রমিকদের নামাজ বাদ দিতে বলেন বা বাধ্য করেন, তাহলে মালিকও গুনাহগার।
- যদি মালিক বাধ্য না করে এবং রিকশাওয়ালারা নিজের ইচ্ছায় নামাজ বাদ দেয়, তাহলে তাদেরই মূল দায়িত্ব এবং গুনাহ বেশী।
- যারা জায়েজ কারণে (যেমন নিরাপত্তাহীনতা, অতি জরুরি কাজ) যথাযথ কারণ ব্যতীত নামাজ বাদ দেয়, তাদেরকে কাদায় (মিসিং সালাতে কাদা) আদায় করা উচিত; এবং সম্ভব হলে কাজের ব্যবস্থা এমনভাবে করা উচিত যাতে নামাজ বা বিশ্রামের সুযোগ মেলে।

3) ফতোয়া-সংক্রান্ত ফেসবুক গ্রুপে প্রশ্ন পোস্ট করে পরে ডিলিট করা:
- প্রশ্ন ডিলিট করা নিজে স্বয়ং অনৈতিক বা হারাম নয়। তবে যদি ডিলিট করে অন্যদের কষ্ট বা অসুবিধা সৃষ্টি করে (মুফতিরা অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে, অন্যান্যের সুবিধা নষ্ট হয়), তা নৈতিকভাবে অনুচিত এবং "ক্ষতি করা" হিসেবে দোষের কারণ হতে পারে।
- ইসলাম ক্ষতি-নিষেধের নীতিতে গুরুত্ব দেয়; তাই প্রয়োজন হলে কনফার্ম করে, মাফি চাইয়া বা মুফতিকে জানিয়ে ডিলিট করা উত্তম।

আইনী নীতির মূল তথ্যসূত্র হিসাবে: “لا ضرر ولا ضرار” (হাদিস) — ক্ষতি করা যায় না। (সুনান ইবন মাযাহ)