🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

ফরজ ওয়াজিব সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আদায় করার পর বাকি সব আমল না করলে সম্পদ এবং সন্তানের ফিতনা হবেকি। কারন ইনকাম করতে গেলে বাকি ইবাদাত করতে বেশী কষ্ট হতে পারে আবার সব সময় করা হয়ে উঠবেনা। এগুলো কি পরকালীন পাথেয় সংগ্রহ করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে ?
ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি সংক্ষিপ্ত উত্তর:

যদি কোনো ব্যক্তি শুধু ফরজ, ওয়াজিব এবং সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আদায় করেন এবং বাকি সব নফল, সুন্নাতে গাইরে মুয়াক্কাদা ও মুস্তাহাব আমল ছেড়ে দেন, তাহলে তার সম্পদ ও সন্তানের ফিতনা হবে কিনা এবং পরকালীন পাথেয় সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে কিনা – এই প্রশ্নের দুটি অংশে বিভক্ত উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

১. সম্পদ এবং সন্তানের ফিতনা হবে কি?
উত্তর: না, শুধুমাত্র নফল, সুন্নাতে গাইরে মুয়াক্কাদা বা মুস্তাহাব আমল না করার কারণে সরাসরি সম্পদ বা সন্তানের ফিতনা হবে এমনটা বলা যায় না। রিজিকের বিষয়টি আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করে রেখেছেন এবং এর আগমন বিভিন্ন পথে হতে পারে। হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জন করাও একটি ইবাদত। ফিতনা সাধারণত তাকওয়ার অভাব, হারাম উপার্জন, মানুষের হক নষ্ট করা, আল্লাহর অবাধ্যতা বা সামগ্রিক দ্বীন থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। শুধু নফল ইবাদত না করা ফিতনার সরাসরি কারণ নয়। তবে, অতিরিক্ত নফল ইবাদত আল্লাহর নৈকট্য বৃদ্ধি করে এবং এর বরকতে আল্লাহ রিজিকে প্রাচুর্য ও সহজতা দিতে পারেন, যা থেকে বঞ্চিত হওয়া যেতে পারে।

২. এগুলো কি পরকালীন পাথেয় সংগ্রহ করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে?
উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই। নফল, সুন্নাতে গাইরে মুয়াক্কাদা ও মুস্তাহাব আমলগুলো পরকালীন পাথেয় সংগ্রহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলো পরিত্যাগ করা পরকালীন সাফল্যের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

কারণ:
* ফারজ ইবাদতের ত্রুটি পূরণ: কিয়ামতের দিন যখন বান্দার আমলের হিসাব নেওয়া হবে, তখন প্রথমে ফরজ ইবাদতগুলো দেখা হবে। যদি ফরজ ইবাদতে কোনো ত্রুটি থাকে, তখন আল্লাহ বলবেন, "দেখো, আমার বান্দার কোনো নফল ইবাদত আছে কিনা, যা দ্বারা তার ফরজের ত্রুটি পূরণ করা যায়।" (তিরমিযী) সুতরাং, নফল ইবাদত ফরজের ঘাটতি পূরণে অত্যন্ত সহায়ক।
* মর্যাদা বৃদ্ধি: নফল ইবাদত বান্দাকে আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা দান করে। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে।
* ক্ষমা ও পুরস্কার: নফল আমল অধিক সওয়াব ও পুরস্কারের মাধ্যম। এগুলো পরিত্যাগ করলে বিশাল সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
* আল্লাহর ভালোবাসা লাভ: হাদীসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার এত কাছে চলে আসে যে আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি..." (বুখারী)। এই ভালোবাসা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরকালে অনেক বড় নিয়ামত লাভের কারণ হবে।

সংক্ষিপ্ত সার:
কাজেই, ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আদায় করা ফরয, ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ছেড়ে দেওয়ার পাপ থেকে বাঁচাবে, কিন্তু শুধুমাত্র এটুকু করলে তা পরকালে সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভে যথেষ্ট নাও হতে পারে এবং ফরযের ত্রুটি পূরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হবে। আয়ের প্রয়োজনে পূর্ণ সময় ব্যস্ত থাকলেও, অল্প পরিমাণে হলেও নফল ইবাদতের জন্য সময় বের করার চেষ্টা করা উচিত, কারণ এগুলো আল্লাহর নৈকট্য ও পরকালীন পাথেয় সংগ্রহের জন্য অপরিহার্য।

১ রেফারেন্স:

> হাদীস: আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন বান্দার সর্বপ্রথম হিসাব নেওয়া হবে সালাতের। যদি সালাত পূর্ণ হয় তবে সে সফল ও কামিয়াব হবে। আর যদি সালাত পূর্ণ না হয় তবে সে বিফল ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি তার ফরযের মধ্যে কোন ঘাটতি থাকে, তবে আল্লাহ তা'আলা (ফিরিশতাদেরকে) বলবেন, 'দেখো, আমার বান্দার কোন নফল (ঐচ্ছিক) সালাত আছে কিনা, যা দিয়ে তার ফরযের ঘাটতি পূরণ করা যায়?' এরপর তার অন্যান্য আমলেরও একই নিয়মে হিসাব নেওয়া হবে।"
>
> (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৪১৩)