গর্ভে জমজ সন্তান,১ টা সন্তান ৩ মাসেই মারা গেছে,গর্ভের সন্তানের বয়স ৫ মাস,,তার শরীরে পানি জমতেছে,,পানি বাড়তে থাকলে বাঁচে না এমন সন্তান,,এই সন্তান কি এবরশন করা জায়েজ হবে?
উপযুক্ত ফিকহি সিদ্ধান্ত (হানাফি অনুযায়ী):
- হাদীস অনুসারে ভ্রূণের রুҳ (আত্মা) ১২০ দিনের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়। (রিপোর্ট: সহীহ বুখারি—ইউমরান/খলক-বিষয়ক হাদীস: "إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا نُطْفَةً..." ইত্যাদি)। এই বিধান অনুযায়ী ১২০ দিনকে (প্রায় চার মাস) হানাফি মাদ্হাবে সাধারণত "নাফসার আগে" (ensoulment) সময়ধারা হিসেবে গণ্য করা হয়।
- যদি চিকিৎসক নিশ্চিতভাবে বলে যে ভ্রূণ ইতোমধ্যে মৃত (নির্জীব) — তাহলে সেটিকে বের করে দেয়া যাবে; কারণ মৃত ভ্রূণকে তুলে ফেলা হত্যা নয়, এবং মায়ের জীবন/স্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য এ কাজ করা জায়েজ। এ ক্ষেত্রে সময়সীমা (১২০ দিন) বাধ্যতামূলকভাবে বাধা নয় যদি ভ্রূণ মৃত প্রমাণিত হয়।
- যদি ভ্রূণ জীবিত কিন্তু তার অবস্থা (উদাহরণ: শরীরে অতিরিক্ত পানি জমা হয়ে-হাইড্রোপ্সি) অত্যন্ত খারাপ এবং চিকিৎসা অনুযায়ী প্রাণ রক্ষা করার কোন সম্ভাবনা নেই, তারপরও সরাসরি ভ্রূণ নষ্ট করা (এবরশন) সাধারণত অনুমোদিত নয় শুধুমাত্র এই পূর্বাভাসের ভিত্তিতে — হানাফি মতে বাস্তবিক শারীরিক ক্ষতি বা মায়ের জীবন-ঝুঁকি না থাকলে গর্ভপাত করা হারাম/নাগজ়র (নাচ্ছে) বিবেচিত হয়।
- যদি গর্ভধারণ চালিয়ে যাওয়া মায়ের জীবনে সরাসরি এবং বাস্তবগতভাবে ঝুঁকি তৈরি করে (চিকিৎসক প্রমাণ করে), তবে মায়ের জীবন রক্ষার্থে গর্ভপাত করা জায়েজ। বিশেষ করে যদি ভ্রূণ মরণশীল এবং মায়ের স্বাস্থ্যে আশানুরূপ বিপদ সৃষ্টির আশংকা থাকে, তখন কর্তব্য হবে চিকিৎসক ও শারীয়ত-জ্ঞানসম্পন্ন স্থানীয় আলিমের সঙ্গে দ্রুত পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেওয়া।
সংক্ষেপে:
1) ভ্রূণ ইতিমধ্যে মৃত হলে তুলে নেওয়া যাবে।
2) ভ্রূণ জীবিত হলেও যদি গর্ভধারণ মায়ের জীবন বা স্থায়ী গুরুতর ক্ষতির কারণ হয়—তাহলে মায়ের জীবন রক্ষার প্রয়োজনে গর্ভপাত অনুমোদিত।
3) শুধুমাত্র এই ভ্রূণের বাঁচার সম্ভাবনা কম বলে গর্ভপাত করা নিজে থেকেই জায়েজ নয় যদি মায়ের জীবনে কোনো সরাসরি ঝুঁকি না থাকে।
আপনি দ্রুত একজন গাইনেকোলজিস্ট থেকে লিখিত চিকিৎসা প্রতিবেদ — (ভ্রূণের অবস্থা, মায়ের ঝুঁকি) নিন এবং সেটি স্থানীয় হানাফি মুফতিকে/ইমামকে দেখিয়ে শারীয় সিদ্ধান্ত নিন।