🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমি ইদানিং দেখছি আমার চেহারা হয়ত সুন্দর লাগছে আয়না তে দেখে নিজে মনে খুশি হলাম পরে দেখি চেহারার সৌন্দর্য নেই।বর্তমানে আমার চেহারা অনেক খারাপ হয়ে গেছে ভালোই হচ্ছে না।আবার পড়াশোনা বা তেলাওয়াত সুমধুর করে যখন করি পরে তিলাওয়াত বেধে যায় বা সুমধুর আর হয়না।অনেকদিন আর তেলাওয়াত সুমধুর হয়না আমার।সেদিন চোখ দেখে ভাবলাম আমার চোখটা সুন্দর তারপর থেকে চোখের নিচে কালো হয়ে গেছে বাজে ভাবে।এমন সব ক্ষেত্রে হয়।জানিনা কেন এমন হচ্ছে।আমি তো আলহামদুলিল্লাহ বলি।আমার কি মন থেকে শুকরিয়া হয়না বলে এমন হচ্ছে? আরেকটা প্রশ্ন সূরা তালাক পড়লে কি ফজীলত হবে? এটা কি জ্বিনের নজর কিনা কীভাবে বুঝতে পারি?কি রুকাইয়া করব?আমার বদনজরের কিছুটা সমস্যা আছে রুকাইয়া করেছি নিজে নিজে অনেক কম লাগে কিন্তু পুরোপুরি কমেনি মনে হয়।
iftawa.info (হানাফি ফিকহ) — উত্তর

আপনার বর্ণিত লক্ষণগুলো থেকে সম্ভাব্য কারণে এবং করণীয় সংক্ষেপে:

1) এটা কি বদনজর/আয়ন (evil eye)?
- ইসলামিক শিক্ষায় বদনজর/আয়ন হয়েই থাকে; হাদিসে বলা হয়েছে: "العين حق وإن كان شيء سبق القدر سبقت له العين" — অর্থাৎ আয়ন সত্য এবং যদি কোনো কিছু ভাগ্যকে ছাড়িয়ে আগেই ঘটত, তবে তা আয়নের কারণে হত (রিপোর্ট: সহীহ মুসলিম)।
- সাধারণভাবে আয়ন সন্দেহ করবেন, যখন কোনো ভাল বদল (চেহারা, সুগম তেলাওয়াত, কণ্ঠ ইত্যাদি) হঠাৎ করেই বিরূপভাবে বদলে যায় এবং এর আগে কাউকে দেখে প্রশংসা পেয়েছিলেন বা কেউ অতিরিক্ত তাকিয়ে/প্রশংসা করে ছিল।

2) কী করবেন (আচরণ ও চিকিৎসা — হানাফি রাহনুসারে):
- দাওয়া ও তাওয়াক্কু’ল বাড়ান: আল্লাহর দিকে ভরসা ও কৃতজ্ঞতা (শুকরিয়া) অব্যাহত রাখুন — শু‌ক্র বলে থাকে কোনো একরকম শাস্তি হয় না; পরীক্ষায়ও কৃতজ্ঞ থাকা ফরজ নয় কিন্তু উত্তম আমল।
- তাওসিয়াহ (রুকইয়া ও পূর্ববৎ কাজ): কোরআনের মাওয়াজ্জে (বিশেষত আয়াতুল কুরসী, সুরা ফালাক ও সুরা নাস — মুআওয্জাতাইন) ও আল-ফাতিহা নিয়মিত তিলাওয়াত করুন; পড়ে হালকা ভাবে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে ঐ তেলাওয়াত কৃত অংশে মুছে নিন (রতবভাবে, স্বচ্ছ সৌজন্যপূর্ণ পদ্ধতি)। ঘরে ও ঘুমানোর আগে মু'আওয়িদাত দু'আগুলো পড়ুন। নিয়মিত সাহরি (দৈনিক) ওযু ও নামাজ বজায় রাখুন।
- যখন কারো প্রশংসা শুনেন তখন নিজে বা প্রশংসাকারীর জন্য "ما شاء الله" বলতে উসাহিত করুন। অন্যকে অতিরিক্ত প্রশংসা করে হঠাৎ প্রকাশ করলে সাবধানতা অবলম্বন করুন।
- যেকোনো ধরণের রুকইয়া করাতে চান: শপথশূন্য, শরীয়তসম্মত রুকইয়া করান — যে ব্যক্তি কোরআন ও সুন্নাহ জানে ও শরীয়তসম্মত উপায়ে রুকইয়া করে। নিজে নিজে পারেন তবে ধারাবাহিক ও শালীনভাবে করবেন (উপরে উল্লেখিত আয়াত ও দোয়া)।
- চিকিৎসা ও মানসিক সাহায্য: যেসব লক্ষণ শারীরিক (চোখের নিচে কালচে, কণ্ঠ পরিবর্তন, দীর্ঘকাল সুন্দর তিলাওয়াত না থাকা) — চোখ/চর্ম/কণ্ঠ বিশেষজ্ঞ ও মনোরোগ/মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন; স্ট্রেস, অবসাদ বা ফিজিওলজিক্যাল সমস্যাও কণ্ঠ ও চেহারায় বদল আনতে পারে। ধর্মীয় চিকিৎসার পাশাপাশি চিকিৎসা গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও অনুমোদিত।
- নিজে রুকইয়া করে কমলেযদি হয়: নিয়মিত কোরআন, সূরা মুআওয়িযাতayn, আয়াতুল কুরসী, "أعوذ بكلمات الله التامات..."—পড়া ও হালকা ফুঁ দেয়া। যদি পুরোপুরি অতিরিক্ত সমস্যা থাকে তাহলে যোগ্য রুকইয়া-কর্তার কাছে যান।
- সামাজিক আচরণ: যারা তোমাকে দেখে প্রশংসা করে কৃপণতার সাথে বলুন "ما شاء الله" এবং নিজেও অহংকার বা গর্ব থেকে বিরত থাকুন; ইচ্ছাকৃতভাবে চেহারা প্রদর্শন কমিয়ে আনতে পারেন যদি মনে হয় এটা অতিরিক্ত দৃষ্টিকে আহবান করে।

3) নোট:
- শোকরিয়া না বলার কারণে আল্লাহ শাস্তি দেন — এধরণের ধারনা সংগ্রহ করবেন না। কৃতজ্ঞ থাকাই উত্তম, কিন্তু যে কোনো পরীক্ষায় ধৈর্য ও দোয়াই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
- যদি রুকইয়া বা সাধারণ প্রতিরোধের পরে উন্নতি না হয়, চিকিৎসা-পরীক্ষা ও প্রফেশনাল রুকইয়া কর্তার সহায়তা নিন।

হাদিস-উৎস (একটিমাত্র রেফারেন্স): "العين حق وإن كان شيء سبق القدر سبقت له العين" — সহীহ মুসলিম।