উস্তাদ, আমার ছোট ভাই পেটে থাকতে আমার খালু মাজারে খাসি মানত করছিলেন যেটা আমরা জানতাম না। এখন তার সামর্থ্য নেই বলে আমাদেরকে বলতেছে, আদায় না করলে নাকি আমার ছোট ভাইয়ের ক্ষতি হবে।
এখন সে অনেক দুষ্টুমি করে বলে তারা বলে এটা মানত না পূরণ করার ফলাফল।
এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি? এই মানত কি আমাদেরকে আদায় করতে হবে?
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
মানত (নজর/নজর করা) যিনি করেছেন, তিনি নিজে তা পালনের জন্য দায়ী। আপনাদের কখনো বাধ্য করা যায় না যদি আপনারা নিজে কোনো প্রতিশ্রুতি না দিয়ে থাকেন। যদি মানতকারী এখন সামর্থ্যহীন হন, তবে তিনি নিজে কফারা/দণ্ডপূর্ণ ব্যবস্থা করলেও হবে। এছাড়া কেউ যদি বলছে আদায় না করলে ভাইয়ের ক্ষতি হবে—এটি কুসংস্কার; আল্লাহই ক্ষতি বা লাভ দেন, মানুষের মানতে না হলে মানুষকে ক্ষতি করা ইসলাম স্বীকার করে না।
বিস্তারিত (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত নির্দেশ):
- যে ব্যক্তি মানত করেছে, তিনিই পারফর্ম করবেন। অন্য কেউ নিজস্ব ইচ্ছায় সে দায়িত্ব গ্রহণ করলে করবেন; অনিচ্ছায় কেউ জবর করে দিতে বাধ্য নন।
- সাধারণত নবর/সংকল্প যদি আল্লাহর পথে কোনো ইবাদত (যেমন কোরবানি, দান) করতে বলা হয়, তা সম্পূর্ণ করা কর্তব্য। যদি সম্পন্ন করতে না পারে, তাহলে শাস্ত্রগত কাসফারা বা বিকল্প ব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে।
- যারা বলে মানত না করলে 'অদৃশ্য ক্ষতি' হবে—এমন কুসংস্কারকে মানতে হবে না; এতে ভীত হয়ে জঙ্গম বা অনর্জিত কাজ করা যাবে না। যদি মানতটি এমন স্থানে বা উদ্দেশ্যে করা হয় যা শির্ক বা নবুয়াতহীন (যেমন কবরশ্রেণীর উদ্দেশ্যে আল্লাহ ছাড়া কাউকে আরাধনা) ইচ্ছা রেখে করা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়—এই ক্ষেত্রে তৌবাহ করতে হবে এবং আল্লাহর ইবাদত হিসেবে সঠিকভাবে দান/ইবাদত করলে বেশি ভালো।
কুরআনের একটি আয়াত (নজর/শপথ-বিষয়ক দলিল হিসেবে) নির্দেশ করে কবে শাস্তি (কফারা) করা লাগবে এবং কিরূপ কফারা আছে — এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন (সূরা মাইদাহ ৫:৮৯): "إِنَّ اللَّهَ لَا يُؤَاخِذُكُمْ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَـكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدتُمُ الْأَيْمَانَ ۖ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ..." (মাইদাহ ৫:৮৯) — অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত শপথ ভাঙলে নির্দিষ্ট কফারা আছে (দশজনকে খাওয়ানো/পরিধান করানো বা দাস মুক্ত করা ইত্যাদি, অসমর্থ হলে তিন দিন রোজা) — এবং হানাফি ফিকহে নিকটসিদ্ধিপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্যতা বিবেচনা করা হয়। (কর্তৃপক্ষ হিসেবে সিদ্ধান্ত ও প্রয়োগ ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুসারে ভিন্ন হতে পারে।)
আপনাদের করণীয় (সংক্ষিপ্তভাবে):
1) যদি আপনি বা কেউ বিশেষভাবে প্রতিশ্রুত হননি, কোনো দায় আপনার উপর নেই — চাপ মেনে টাকা দান করা বাধ্যতামূলক নয়।
2) খালা নিজেই যদি মানত করেছেন, তাঁকে বোঝান—ইসলাম অনুযায়ী তিনি নিজে এটা পূরণ করবেন; যদি সামর্থ্য না থাকে, কফারা অনুযায়ী ব্যবস্থা করবেন; এবং যদি মানতটি কুবুলযোগ্য ছিল না (শির্কাভিমুখ), তাও বারবার করবেন না ও তাওবাহ করুন।
3) চাইলেই ওই ভাইয়ের জন্য স্বেচ্ছায় সাদাকাহ বা দান করে দিতে পারেন (এটা পুরোদমে সুচিন্তিত ধারা), কিন্তু চাপ খেয়েই নয়।
4) যদি পরিস্থিতি জটিল মনে হয়, স্থানীয় মুসলিম পণ্ডিত/ইমাম দ্বারা ব্যক্তিগত পরামর্শ গ্রহণ করুন।
রেফারেন্স: কোরআন, সূরা আল-মাইদাহ (৫), আয়াত ৮৯।