রিজিক তো নির্ধারিত বিষয় তবে হালাল ইনকাম করার জন্য চেষ্টা করতে হবে । আবার স্ত্রী সন্তানের ভরনপোষণ দেওয়া ওয়াজিব। হালাল ভাবে ড্রাইভিং করে ইনকাম করতে গেলে অনেক সময় জামাতে নামাজ মিস হতেও পারে । শত বেচে থাকার চেষ্টা করার পরেও মাকরুহ এবং গোনাহ হয়েও যেতে পারে যেহেতু মানুষ সয়তান এবং নফসের কারনে গোনাহ করে ফেলে সম্পদ এবং সন্তান এগুলো পরকালীন পাথেয় সংগ্রহ করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে?
ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি সংক্ষিপ্ত উত্তর, ১ রেফারেন্স সহ:
রিজিক আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত সত্য, তবে হালাল উপায়ে রিজিকের অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ওয়াজিব ও ফরয। এটি আল্লাহর নির্দেশ এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাত। রিজিক নির্ধারিত হওয়া সত্ত্বেও চেষ্টা করা আল্লাহর আদেশ এবং দ্বীনের অংশ।
১. রিজিক ও হালাল ইনকামের চেষ্টা:
আল্লাহ তা'আলা রিজিক বণ্টন করেছেন, তবে তিনি এর জন্য প্রচেষ্টা করার নির্দেশও দিয়েছেন। হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা ইবাদতের অংশ। সন্তান-সন্ততির ভরণপোষণ দেওয়া ফরয এবং এর জন্য হালাল পথে উপার্জন করা আবশ্যক।
২. জামাতে নামাজ ও জীবিকা:
জামাতে নামাজ আদায় করা পুরুষদের জন্য সুন্নাহ মুআক্কাদাহ (তাকিদপূর্ণ সুন্নাত)। এটি ওয়াজিবের কাছাকাছি। বিনা ওজরে জামাত ত্যাগ করা মাকরূহ তাহরিমি এবং গুনাহের কারণ। তবে, যদি হালাল উপার্জনের জন্য এমন কাজ করতে হয় যা জীবিকার জন্য অপরিহার্য এবং যার কারণে মাঝে মাঝে জামাতে নামাজ ছুটে যায়, তবে কিছু ফকীহ এর উপর শিথিলতা রেখেছেন, বিশেষত যদি কাজটির সময় পরিবর্তন করা সম্ভব না হয়। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তির উচিত সাধ্যমতো জামাত ধরার চেষ্টা করা। যদি একান্তই জামাত ছুটে যায়, তবে অবশ্যই একা হলেও নামাজ আদায় করে নিতে হবে এবং জামাত ছুটে যাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। সওয়াব অর্জনের জন্য বিকল্প উপায়ে যেমন নফল ইবাদত, দান-সদকা ইত্যাদি করা যেতে পারে। তবে, এমন কাজ বেছে নেওয়া উচিত নয় যা নিয়মিত জামাত থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে।
৩. সম্পদ ও সন্তান এবং পরকালীন পাথেয়:
কুরআন ও হাদিসে সম্পদ ও সন্তানকে 'ফিতনা' বা পরীক্ষার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, তারা inherently (স্বভাবগতভাবে) খারাপ, বরং তাদের প্রতি অত্যাধিক ভালোবাসা বা তাদের কারণে আল্লাহর আদেশ অমান্য করা পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি সম্পদ হালাল উপায়ে অর্জিত হয় এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করা হয় (যেমন স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ, দান-সদকা) এবং সন্তানকে দ্বীনের পথে লালন-পালন করা হয়, তবে তারাই পরকালে পাথেয় ও সওয়াবের কারণ হবে। সম্পদ ও সন্তানকে দুনিয়াবি মোহ হিসেবে না দেখে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত হিসেবে দেখা এবং তাদেরকে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করাই হল মুমিনের কাজ। শয়তান ও নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য সর্বদা আল্লাহর সাহায্য চাওয়া এবং তাকওয়া অবলম্বন করা আবশ্যক।
সারসংক্ষেপ: রিজিক নির্ধারিত হলেও হালাল উপায়ে ইনকামের চেষ্টা করা ফরয। স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ ওয়াজিব। হালাল ইনকামের প্রয়োজনে যদি জামাতে নামাজ মাঝে মাঝে ছুটে যায়, তাহলে তা ওজরের মধ্যে গণ্য হতে পারে, তবে সাধ্যমতো জামাত ধরার চেষ্টা করতে হবে এবং একা হলেও নামাজ আদায় করতে হবে। সম্পদ ও সন্তান আল্লাহর পরীক্ষা, তবে সঠিকভাবে পরিচালিত হলে তারা পরকালের পাথেয় হতে পারে, প্রতিবন্ধকতা নয়।
১ রেফারেন্স:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "হালাল রুজি অন্বেষণ করা অন্যান্য ফরয আদায়ের পর একটি ফরয।"
(শু'আবুল ঈমান, বায়হাকী: ৮৬৩৭)