🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম শায়েখ, সাউদিতে চাকুরি করি এক কোম্পানিতে প্রায় ৬.৫ বছর যাবত, প্রথম প্রথম নিয়মিত বেতন মাসে মাসে সময়মত পরিশোধ করে দিত। বিগত কয়েক বছর যাবত বেতন মাস পেরিয়ে পরের মাসের কোন সময় ১০ তারিখ, কোন সময় ১৪,১৫ তারিখেও দেয়, খাবার ও হাত খরছ আছে সাথে আরো অনেক খরছ আছে নিজে থেকে কখনো হাত খরছের টাকা দেয়না, চেয়ে মাজে মাজে কিছু টাকা নেই হাত খরচের জন্য, এরজন্যও কথা শোনতে হয়, আরো অনেক সমস্যায় আছি আল্লাহর কাছে দোয়া করে যাচ্চি সব জেন ঠিক করে দেন আল্লাহ, শায়েখ আমার জানার বিসয় এই যে মাসের বেতন সময়মত দেয়না, এতে কি জুলুম না ? এরপরে চাকুরিতে জয়েন করার পুর্বে জানতাম জুমাবার ছুটি কাজ করলে টাকা পাব, এখন মাজে মাজেই আমাকে দিয়ে জুমা বারে কাজ করিয়ে নেয় এইটা কি জুলুম না? নতুন করে চার বছরের চুক্তি করছে গত বছর জানুয়ারিতে অই চুক্তি করার সময় একটা শর্ত ছিল এমন যে আমি চাকুরি রেখে বাংলাদেশ চলে যেতে চাইলে আমাকে ২৫ হাজার রিয়াল জরিমানা দিয়ে এরপরে যেতে হবে, আর আমাকে চাকুরি থেকে বের করে দিলে আমাকে দিবে ১০০ রিয়াল আমি অই সময় প্রতিবাদ করলেও শেস পর্যন্ত চুক্তি করতেই হইছে আমাকে, মোমাইলে নিয়ে ইনটারনেটে চুক্তি করেছে, শায়েখ নানা কারনে আমার এই চাকুরিটা আর করতে মন চাচ্চে না, এখন আমি দেশে যেতে চাইলে অই চুক্তির ২৫ হাজার রিয়াল পরিশোধ করে এরপরে যাইতে বলে এখন আমার কি করনিয়? চুক্তিটা এক প্রকার জোর করে করেছে আরবিতে অনেক কিছুই লেখা ছিল আমি মোবাইলে অনুবাদ করে যেসব জিনিস যেমন ২৫ হাজার রিয়াল উল্লেখ করেছিল আমি প্রতিবাদ করেছি কিন্তু কিছুই হয়নি।
ওয়ালাইকুমুস সালাম। ifatwa.info (হানাফি ফিকহ) অনুসারে সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট উত্তর নিচে দিলাম।

১) বেতন দেরি করা কি জুলুম?
- নিয়মিত সময়মতো মজুরির পরিশোধ না করা—বিশেষত সেই বেতনের ওপর কর্মী পরিবারের খরচ নির্ভর করে—স্পষ্টভাবে অন্যায় ও জুলুম। মজুরি চাকরির মালিকের কাছে আমানত ও কর্মীর হক, এবং তা দ্রুত দেওয়া উচিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «أَعْطُوا الْأَجِيرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهُ» — (সুনানে ইবনে মাজাহ)। এ থেকে বোঝায় যে মজুরি সময়মতো দিতে হবে।
- হানাফি দৃষ্টিকোণ থেকে: প্রথমে মালিককে মালুম করে দাবী করা ও লিখিত রেকর্ড রাখা কর্তব্য। যদি মালিক বারবার দেরি করে এবং জীবনযাত্রা কঠিন হয়, কর্মীর জন্য বৈধ বিচারহীন কষ্টের ভিত্তিতে কর্মস্থল ত্যাগ বা কাজ বন্ধ করার অধিকার রয়েছে, কিন্তু সম্ভব হলে আগে ন্যায্য উপায়ে সালিশ করুন বা শ্রম অফিসে অভিযোগ দিন।

২) জুমার ছুটির কথা বলে পরে জুমায় কাজ করানো—এইটা জুলুম নাকি?
- যদি কাজ শুরুতে এমন শর্তে নিয়োগনামায়/মৌখিকভাবে বলা হয়ে থাকে যে জুমা ছুটি থাকবে, কিন্তু পরে তারা সেই শর্ত অমান্য করে, তাহলে তা শর্ত ভঙ্গ ও অন্যায়—অর্থাৎ জুলুম। চাকুরিতে যোগদানের সময় শর্ত যদি নির্ধারিত না থাকে এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান শুক্রবার কর্মদিবস রাখে, তখন নিয়োগকর্তার আইনগত ক্ষমতা আছে; কিন্তু সাধারণভাবে মুসলমান কর্মীকে জুমায় নামাজের ব্যবস্থা দেওয়া উচিত—অপেক্ষিত অবস্থায় ছুটি না দেওয়া অন্যায় হিসাবেই গণ্য হবে, বিশেষ করে যদি পূর্বে আশ্বাস দেওয়া হয়ে থাকে।

৩) চুক্তিতে ২৫ হাজার রিয়াল জরিমানার শর্ত — কি করণীয়?
- শর্তটি যদি অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে অত্যধিক ও অন্যায় হয় বা আপনাকে জবরদস্তির মাধ্যমে চাপিয়ে স্বাক্ষর করানো হয়ে থাকে, তবে শারীয়ভাবে সেটি বাতিলযোগ্য। হানাফি ফিকহে জবর (জবরদস্তি) দ্বারা নেওয়া চুক্তি অবৈধ বা বাতিলযোগ্য বলে গণ্য করা হয়। যদি আপনি ইচ্ছাশক্তি ছাড়াই, ভয় বা বাধ্যবাধকতায় সই করে থাকেন, আপনি চুক্তি বাতিলের দাবী করতে পারেন।
- প্রতিকারগত পরামর্শ (প্রায়োগিক):
1) সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করুন: মোবাইল চ্যাট, মেসেজ, চুক্তির কপি (স্ক্রিনশট), বেতন রিসিপ্ট, উপস্থিতির রেকর্ড ইত্যাদি।
2) প্রথমে কোম্পানির মানবসম্পদ/সুপারভাইজরের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ ও প্রস্তাব রাখুন এবং সময় দিন সমস্যার সমাধানের জন্য।
3) কোম্পানি না মেনে চললে সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয়/লেবার অফিসে (Labour office) অফিসিয়াল অভিযোগ করুন — সেখানে সাধারণত যৌক্তিক সমাধান, মধ্যস্থতা ও চুক্তির শর্ত পরীক্ষা করা হয়।
4) যদি অনতিবিলম্বে ফিরে যেতে চান এবং জীবন বিপন্ন বা অপমান সহ্য করা যাচ্ছে না, আপনি দেশের কনস্যুলেট/দূতাবাসে যোগাযোগ করে আইনগত ও কনস্যুলার সহায়তা নিতে পারেন।
5) শারীয়ভাবে: অবৈধভাবে চাপিয়ে নেওয়া জরিমানা আদায় শরি‘য়তে বৈধ নয়; তাই দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে আদালত/লেবার অফিসে মামলা করুন এবং সম্ভব হলে দেশে ফিরে পরিস্থিতি সমাধান করুন।

সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা ও সতর্কতা:
- ধৈর্য ও চেষ্টা করুন প্রথমে সালিশ ও লিখিত দাবি করে সমস্যার ন্যায়সম্মত সমাধান করতে; কিন্তু যদি অব্যাহত নিপীড়ন ও বেতন-বঞ্চনা হয়, নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন প্রথমে বিবেচনা করে আইনগত উপায়ে চলুন অথবা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কায় দেশফেরত নেওয়া যুক্তিযুক্ত।
- সব ধরনের অভিযোগ বা পদক্ষেপের জন্য প্রমাণ সংরক্ষণ অপরিহার্য।

দোয়া: আল্লাহ আপনাকে সহজ ও হকপ্রাপ্ত সক্ষমতা দান করুন ও আপনার ক্ষতিপূরণ করিয়ে দিন।