🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম। আমি জানি হারাম টাকা হাদিয়া পেলে সেটা সওয়াবের উদ্দেশ্য ব্যতীত গরিব কাউকে দিয়ে দিতে হয়। সেক্ষেত্রে আমার একটা জিজ্ঞাসা যে আমার বোনের স্বামী ব্যাংকার তিনি আমায় ইদে কিছু টাকা দিয়েছেন জামা কিনতে,(টাকা নিতে মানা করলে বোনের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে)। তো এই টাকা টা আমার বোনের পিছনেই বা বোনের মেয়ের পিছনেই খরচ করতে পারবো কি? খালা হিসেবে বোনের মেয়েকে ওই টাকা দিয়ে ওর জরুরি জিনিস যেমন হিজাব,ইত্যাদি জিনিস কিনে দিতে পারবো না? সে তো তার বাবার(আমার বোনের স্বামীর) হারাম উপার্জন ই খাচ্ছে। আর আমার ও সামর্থ্য নাই ওকে কিছু কিনে দেয়ার। তাই সেই টাকা থেকেই কি কিনে দিতে পারবো না কোনো কিছু?
ওয়ালাইকুমুস সালাম। সংক্ষেপে হানাফী সূত্রে ফতোয়া অনুযায়ী:

- যদি ওই টাকা নিশ্চিতভাবে হারাম উৎসের (যেমন চুরি, প্রতারণা বা স্পষ্টভাবে রিবা থেকে গ্রাহ্য) হয়, তাহলে সেই টাকা নিজে ব্যবহার করা হারাম; সম্ভব হলে মালিককে ফেরত দিতে হবে। ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে তা নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করে দরিদ্রদেরকে পড়ে দেওয়া উচিত (এখানে সওয়াবের উদ্দেশ্য নয়, শুধুমাত্র মালিকের حق ক্ষতিপূরণ হিসেবে) — অর্থাৎ এমন সম্পদ পরিবার বা নিজের প্রয়োজনের জন্য খরচ করা যাইবে না।

- কিন্তু যদি টাকার হারাম হওয়া নিশ্চিত না — শুধুমাত্র সন্দেহ আছে (যেমন সাধারণ ব্যাংকার হওয়া মানেই সরাসরি হারাম নিশ্চিত হবে না) — তবে মসকিন ধারণা অনুসারে সন্দেহকে সুফল দিয়ে গ্রহণ করা যায় এবং তা পারিবারিক জরুরি খরচে ব্যয় করা যায়; যদি টাকাটা গ্রহণ না করলে পরিবারে ঝগড়া/ফিতনা সৃষ্টি হয় তবেও গ্রহণ করা যাবে।

সূত্র (একটি কিতাব/আয়াত): আল‑কুরআন, সূরা আল-মায়েদা আয়াত 88 — “তোমরা খাও দাও এমনই যা আল্লাহ তোমাদেরকে হালাল এবং পবিত্র করে দিয়েছেন…” (المائدة: 88) — হারাম ও হালালের সাধারণ বিধান হিসেবে।

আপনার পরিস্থিতি যদি টাকার উৎস নিয়ে নিশ্চিত না হওয়া, বা বোনের সংসারে অশান্তি হবে বলে ভয় থাকে, তবে সন্দেহকে সুফল দিয়ে বোন বা বোনের মেয়ের জন্য কেনাকাটা করা হলেও সমস্যা নেই। আর যদি পরিষ্কার প্রমাণ থাকে যে তা হারাম, তবে নিজের জন্য বা পরিবারের জন্য খরচ করা ঠিক নয়; সে অর্থ ফেরত বা দরিদ্রদের দিয়ে দিন।