🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

রিজিক তো নির্ধারিত বিষয় তবে হালাল ইনকাম করার জন্য চেষ্টা করতে হবে । আবার স্ত্রী সন্তানের ভরনপোষণ দেওয়া ওয়াজিব। হালাল ভাবে গাড়ি ড্রাইভিং করে ইনকাম করতে গেলে অনেক সময় জামাতে নামাজ মিস হতেও পারে । শত বেচে থাকার চেষ্টা করার পরেও মাকরুহ এবং গোনাহ হয়েও যেতে পারে যেহেতু মানুষ সয়তান এবং নফসের কারনে গোনাহ করে ফেলে সম্পদ এবং সন্তান এগুলো পরকালীন পাথেয় সংগ্রহ করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে?
আপনার প্রশ্নটি বেশ গভীর এবং বাস্তবসম্মত, যা হালাল উপার্জন, পারিবারিক দায়িত্ব, নামাজ এবং পরকালীন পাথেয় সংগ্রহের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। ইফাতওয়া.ইনফো (ifatwa.info) এবং হানাফি ফিকহের আলোকে এর একটি সংক্ষিপ্ত উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

১. রিজিক ও হালাল উপার্জনের চেষ্টা:
এটি সঠিক যে রিজিক আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত। তবে রিজিকের জন্য হালাল পন্থায় চেষ্টা করা ফরয বা ওয়াজিব। এটি মুমিনের ইবাদতের অংশ। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "যখন নামাজ সমাপ্ত হয় তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) সন্ধান করো।" (সূরা জুমু'আ: ১০)

২. স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ:
স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ দেওয়া একজন পুরুষ অভিভাবকের উপর ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক)। এটি একটি মহৎ কাজ এবং এর দ্বারা সওয়াব অর্জিত হয়, যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়।

৩. জামাতে নামাজ ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য:


সংক্ষিপ্ত উত্তর: রিজিক নির্ধারিত হলেও হালাল উপার্জনের চেষ্টা ওয়াজিব। স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণও ওয়াজিব। হালাল জীবিকার জন্য গাড়ি চালালে যদি জামাতে নামাজ মাঝে মাঝে ছুটে যায়, তবে তা একটি বৈধ ওজর হিসেবে গণ্য হতে পারে, যদি ব্যক্তি যথাসাধ্য চেষ্টা করে এবং ব্যক্তিগতভাবে সময়মতো নামাজ আদায় করে। এক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ মাকরুহ বা গুনাহ হবে না। সম্পদ ও সন্তান আল্লাহর পথে পরিচালিত হলে পরকালীন পাথেয় হবে, অন্যথায় প্রতিবন্ধক হতে পারে।

১টি রেফারেন্স:
ইমাম আলাউদ্দিন আল-হাসকাফী (র.) তার বিখ্যাত কিতাব 'দুররুল মুখতার'-এ জামাত ত্যাগের বৈধ কারণসমূহ উল্লেখ করেছেন। এর ব্যাখ্যায় ইবন আবিদিন (র.) 'রাদ্দুল মুহতার' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, জীবিকা অর্জনের এমন কাজ, যা ছেড়ে দিলে নিজের বা পরিবারের প্রয়োজনীয় ক্ষতি হয়, তা জামাত ত্যাগের একটি বৈধ ওজর। তবে, ফরজ নামাজ সময়মতো একাকী আদায় করতে হবে।

সূত্র:
ইবন আবিদিন, মুহাম্মদ আমিন। *রাদ্দুল মুহতার আলাদ্দুররিল মুখতার* (সাধারণত 'ফাতাওয়া শামী' নামে পরিচিত)। দারুল ফিকর, বৈরুত। [জামাত ত্যাগের ওজর সংক্রান্ত অধ্যায়ে, বিশেষত জুমা ও সাধারণ জামাতের মাসআলায় এটি উল্লেখ আছে।]
(উদাহরণস্বরূপ, "কিতাবুস সালাত" অধ্যায়ে "বাবুল জুমা" অথবা "বাবুল ইমামাত" এর আলোচনায় জামাত ত্যাগের ওজর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পাওয়া যায়।)