আমার পরিচিত একজনের শশুর অন্যের বন্ধকি জমিতে ফসল ফলায় +ব্যবসা করে।তাই দিয়ে সংসার চলে।ব্যবসা সবসময় করতে পারেননা।উনার ছেলে আলাদা বাড়ি করবেন বউকে উঠানোর জন্য।বর্তমান বাড়িতে পর্দার পরিবেশ নেই।তাই বউকে বাড়িতে উঠাতে পারছেননা।ছেলে কাজের সুত্রে অন্য বিভাগে থাকেন।এখন প্রশ্ন হলো, পরিচিতার শশুর কি তার ইনকাম দিয়ে ছেলেকে হেল্প করতে পারবে?অন্যের বন্ধকি নেয়া জমিতে যেহুতু ফসল ফলান।
[বর্তমান বন্ধক পদ্ধতি নাজায়েজ।ছেলে চাকরি থেকে যা বেতন পায় তা থেকে বউ এর ভরণপোষন ব্যতিত কিছু টাকা বাড়ি করার জন্য জমান কয়েক মাস থেকে।এর আগে ২ বছরের বেশি বাড়িতে টাকা দিতো না জমিয়ে।বিয়ের অনেকদিন হওয়াতে ছেলের জন্য বাড়ি করা জরুরত হয়ে গেছে।তাই কয়েকমাস থেকে টাকা জমাচ্ছে।এখন ছেলের বাবা বলেন ফসল ফলায় সেখান থেকে আয়ের টাকা আর জমানো টাকা দিয়ে বাড়ি করবেন।এক্ষেত্রে করণীয় কি?
সারসংক্ষেপ (হানাফী মাযহাব অনুযায়ী):
1) রিবা সম্পূর্ণ হারাম; রিবা খাওয়া/দেওয়া-লেনদেন সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন/আহারিত হয়েছে: "লَعَنَ اللَّهُ آكِلَ الرِّبَا وَمَوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَهِيدَهُ" — রিবা খাওয়াকে ও তার সাথে সংশ্লিষ্টদের ওপর বর্ণিত অপমান আছে। (সূত্র: Sahih Muslim)
2) আপনার বর্ণনা অনুযায়ী যদি পরিচিতার শশুর ব্যক্তি যে আয় করেন তা সরাসরি ফসলি কাজ ও তার বিক্রয়/ব্যবসা থেকে হয় — অর্থাৎ আয়টি রিবা/সুদ-লেনদেন থেকে নয় — তাহলে সেই আয় দিয়ে তিনি তাঁর ছেলেকে সাহায্য (বউ ওঠানো/বাড়ি নির্মাণ) করতে পারবেন; এটা বৈধ। কারণ জমির উপর যদি মালিকানা ব্যাংক-মর্টগেজের মাধ্যমে হওয়া সত্ত্বেও সরাসরি কৃষিজীবিকা থেকে উপার্জন কর্মীর/চাষীর জন্য হারাম হয়ে যায় না; মূল ফসল ও মজুরি সাধারণত জায়েজ ধরা হয় যতক্ষণ না আয়টি নিজে রিবায় নিহিত থাকে।
3) অন্যদিকে—যদি ওই আয় সরাসরি রিবা/সুদ-লেনদেনের ফল (যেমন সুদ হিসেবে লাভ বা সুদ দিয়ে পরিশোধ হওয়া বিশেষ বণ্টন) হয়, বা কোনোভাবে রিবার টাকার সরাসরি ব্যবহার থেকে অর্জিত—তাহলে তা ব্যবহারে পরিহার করা উচিত এবং যেভাবে সম্ভব তা পরিশোধ/পবিত্র করা প্রয়োজন।
4) নিষ্পত্তির উপায় (যদি সংশয় থাকে): যদি সন্দেহ থাকে যে কিছু টাকা রিবাযুক্ত/নাজায়েজ ছিল এবং সেটা ইতিমধ্যে খরচ করা হয়, তবে সংশয়মুক্তির জন্য সেই পরিমাণ টাকা দান (সদকাহ) করা উত্তম — দানটিকে নেয়ার উদ্দেশ্য বা পুরস্কার প্রত্যাশা ছাড়া শুধু পবিত্র করার উদ্দেশ্যে করতে হবে। আর যদি নিশ্চিতভাবে দেখা যায় যে আয় বৈধ, তবে বিনা হিচকিতে সাহায্য করা যায়।
নিচে সংক্ষেপে করণীয়:
- আয়ের প্রকৃতি যাচাই করুন — সরাসরি রিবা-সম্পর্ক আছে কি না।
- যদি আয় কৃষি/ব্যবসা থেকে এবং রিবা-সূত্রে না হয় — সাহায্য করা জায়েজ।
- যদি আয় রিবা-সম্পর্কিত বলে সন্দেহ থাকে — ব্যবহার এড়িয়ে চলুন; নাজায়েজ অংশ নিষ্কাশন/দান করে পবিত্র করুন।
(সূত্র একটিমাত্র: হাদীস — Sahih Muslim)