মনে মনে তোমাকে তালাক দিলাম এই কথাটা বলি আয়নার তাকিয়ে এমন ভাবে করি যাতে জোরে বললে কেউ বুঝতো কত সুন্দর করে কথা বলে। কিন্তু ঠোট জিহবা নেড়ে এটা বলছি ঠিকি। কিন্তু একবারে শান্ত পরিবেশ আমার কানে কোন শব্দ্ ও যায় নাই। একদম শিউর বাইরের আওয়াজ ও নাউ। তালাক হবে কিনা? আয়নায় দেখার কারনে হয়ে যাবে কিনা। বা অন্য কেউ যদি দেখতো কিছু বলতেছি। আর আমি শুনি নাই ঠিকি কিন্তু শব্দ টা উচ্চারণ হইলে যেমন হইতো তেমন করে ঠিক ই বলছি। এই ব্যাপারে সব মাঝাব ই কি এক ভয় লাগে তো
ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি মাজহাবের সংক্ষিপ্ত উত্তর এবং রেফারেন্স নিচে দেওয়া হলো:
আপনার বর্ণিত পরিস্থিতিতে, যেখানে আপনি ঠোঁট ও জিহ্বা নেড়ে "তোমাকে তালাক দিলাম" এই কথাটি বলেছেন, কিন্তু কোনো প্রকার শব্দ উৎপন্ন হয়নি যা আপনার নিজের কানেও যায়নি (অর্থাৎ সম্পূর্ণ নীরবে), হানাফি মাজহাব অনুযায়ী তালাক সংঘটিত হবে না।
কারণ:
ইসলামী শরীয়তে মৌখিক কোনো কাজ (যেমন তালাক, কসম, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি) কার্যকর হওয়ার জন্য শর্ত হলো, ব্যক্তিটিকে শব্দ উচ্চারণ করতে হবে এবং সেই শব্দ নিজে শুনতে সক্ষম হতে হবে, যদিও তা খুব নিচু স্বরে হয় এবং শান্ত পরিবেশে হয়। শুধুমাত্র ঠোঁট ও জিহ্বা নাড়ানো কিন্তু কোনো শব্দ উৎপন্ন না হওয়াকে "হাদিসুন নফস" বা মনের কথা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা মৌখিক উচ্চারণ হিসেবে বিবেচিত নয় এবং এর দ্বারা তালাক সংঘটিত হয় না।
আপনি আয়নার দিকে তাকিয়ে বলেছেন কি না, অথবা অন্য কেউ আপনাকে কথা বলতে দেখেছে কি না, তা তালাকের জন্য শর্ত নয়। মূল বিষয় হলো, শব্দ উৎপন্ন হয়েছে এবং আপনি নিজে তা শুনতে পেয়েছেন কি না। যেহেতু আপনার নিজের কানেও কোনো শব্দ যায়নি, সেহেতু এটি কেবল মনের কথা বা ইশারা বলে গণ্য হবে, যা তালাক কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট নয়।
রেফারেন্স:
হানাফি ফিকহের অন্যতম প্রামাণ্য গ্রন্থ ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) রচিত 'রাদ্দুল মুহতার আলা আদ-দুররিল মুখতার' (যা 'শামী' নামে পরিচিত) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
> "والشرط في التلفظ أن يسمع نفسه، ولو حرك شفتيه ولسانه بالكلمات ولم يسمع نفسه لا يعتبر متلفظا."
> (Radd al-Muhtar, Kitab al-Talaq)
অর্থাৎ: "মৌখিক উচ্চারণের শর্ত হলো, ব্যক্তিটিকে নিজে শুনতে হবে। যদি সে তার ঠোঁট ও জিহ্বা দিয়ে শব্দগুলো নাড়ায় কিন্তু নিজে না শোনে, তাহলে তাকে উচ্চারণকারী হিসেবে গণ্য করা হবে না।"
এই মাসআলাটি সালাতের কিরাত (তিলাওয়াত) এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যেখানে ন্যূনতম শব্দ করে নিজেকে শোনানোর শর্ত রয়েছে। তালাকও যেহেতু মৌখিক ইবাদত বা কর্ম, তাই একই মূলনীতি এখানেও প্রযোজ্য।
অন্যান্য মাজহাবের ক্ষেত্রে:
চারটি প্রসিদ্ধ সুন্নি মাজহাব (হানাফি, মালেকি, শাফেঈ, হাম্বলী) এর অধিকাংশ ফকীহদের মতে, মৌখিক কোনো কথা কার্যকর হওয়ার জন্য ন্যূনতম শব্দ উচ্চারণ করা এবং নিজেকে শুনতে পারা আবশ্যক। মনের কথা বা শুধু ঠোঁট নাড়িয়ে শব্দ উৎপন্ন না হলে তা মৌখিক কাজ হিসেবে গণ্য হয় না। তাই এই ক্ষেত্রে অন্যান্য মাজহাবের অবস্থানও সাধারণত একই রকম হবে। আপনার বর্ণিত পরিস্থিতিতে তালাক সংঘটিত না হওয়ার ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ আপনি স্বস্তি বোধ করতে পারেন।
তবে, ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক থাকা উচিত এবং তালাকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্পষ্ট এবং শ্রুতিমধুর শব্দ উচ্চারণ করা উচিত, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা সন্দেহের অবকাশ না থাকে।