🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

হায়েয ও ইস্তিহাযার পার্থক্য
সংক্ষিপ্তভাবে পার্থক্য (হানাফি ফিহক অনুসারে):

১) সংজ্ঞা
- হায়েয (মাসিক): নারী-জাতীয় প্রাকৃতিক মাসিক রক্তস্রাব, যে রক্তটি তার পরিচিত বা স্বাভাবিক মাসিক সময়ে ঘটে।
- ইস্তিহাজা (অনিয়মিত রক্ত): মাসিকের নিয়মিত সময়ের বাইরে বা মাসিকের সীমা অতিক্রম করে যে রক্তস্রাব হয়—অবসাদজনিত/রোগজনিত বা জেনিত অনিয়মিত রক্ত।

২) ইবাদতের রুলিংস
- নামাজ ও রোজা:
- হায়েয: নামাজ ও রোজা স্থগিত থাকবে যতক্ষণ রক্ত চলতে আছে; মূক্ত হলে (মাসিক শেষ হলে) অবিলম্বে ঘুসল করে ইবাদত পুনরায় শুরু করতে হবে।
- ইস্তিহাজা: ইবাদত স্থগিত নয়; তাকে প্রতিটি নামাজের পূর্বে ওয়ু’ করতে হবে এবং রোজা চালিয়ে যেতে হবে।
- ঘুসল ও ওয়ু’:
- হায়েয: মাসিক শেষ হলে ঘুসল ফরজ।
- ইস্তিহাজা: নিয়মিত ঘুসল প্রয়োজন নেই কেবল প্রতিটি নামাজের আগে ওয়ু’ (আদত অনুযায়ী) এবং রক্ত দাগ পরিষ্কার রাখতে হবে; যদিও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসা বা বিশেষ বিধান প্রয়োগ করা যেতে পারে।
- যৌন সম্পর্ক:
- হায়েয: নিষিদ্ধ যতক্ষণ মাসিক চলছে।
- ইস্তিহাজা: অনুমোদিত; এটি যৌনতার জন্য বাধা নয়।

৩) নির্ধারণের নিয়ম
- হানাফি আইনে মূল নীতি হলো নারীর নিজের সাধারণ/প্রচলিত মাসিককাল (adatuha) দেখতে হবে। যদি রক্তস্রাব তার স্বাভাবিক মাসিক সময়ের মধ্যে হয় তা হায়েয; যদি এর বাইরে বা স্বাভাবিক সীমা ছাড়িয়ে ঘটে তবে ইস্তিহাজা গণ্য হয়। যে ক্ষেত্রে নিশ্চিত না হওয়া যায়, সেখানে সাধারণ অভ্যাস ও মেয়াদ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র: আল-হিদায়াহ (Kitab al-Tahārah — al-Marghīnānī)