হায়েয ও ইস্তিহাযার রক্তের পার্থক্য
সংক্ষেপে (হানাফী ফিকহ অনুযায়ী)
1) সংজ্ঞা
- হায়েজ (মাসিক): নিয়মিত চক্র অনুযায়ী প্রতিবছর হওয়া রক্তক্ষরণ; এই সময় নারী নামাজ, রোজা এবং যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকে; ক্বিয়া বা গুস্ল করা হয় চক্র শেষ হলে।
- ইস্তিহাযা (অস্বাভাবিক রক্ত): হায়েজ‑এর স্বাভাবিক দিনগুলোর বাইরেই হওয়া হালকা বা পাতলা/লাল রক্তক্ষরণ; এটি রোগজনিত বা অনিয়মিত। ইস্তিহাযা হলে নামাজ ও রোজা চালানো যায়, নিয়মিত ওযু রেখে ইবাদত করতে হবে; গুস্ল শুধুমাত্র হায়েজ অনুযায়ী করা হয়।
2) পার্থক্যের লক্ষণ (হানাফী দৃষ্টিতে)
- নিয়ম ও অভ্যাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: কোনো নারী যদি পূর্বে নির্দিষ্ট দিন বা দৈর্ঘ্যে মাসিক পেয়েছে (তার অভ্যাস), তবে ঐ অভ্যাসকৃত দিনগুলোই হায়েজ গণ্য হবে; অন্য সময়ের রক্ত ইস্তিহাযা।
- রং ও গঠন: সাধারণত হায়েজের রক্ত গভীর/গাঢ়, ঘন, থকথকে বা ক্লটসহ হতে পারে; ইস্তিহাযার রক্ত বেশি পাতলা, উজ্জ্বল লাল বা ঝরঝরে।
- ব্যথা/লক্ষণ: হায়েজে পেটে ব্যথা বা অন্যান্য মাসিক লক্ষণ থাকতে পারে; ইস্তিহাযায় সাধারণত এমন লক্ষণ থাকে না।
3) সময়গত সীমা (হানাফী উস্তাদান)
- হায়েজের ন্যূনতম দৈর্ঘ্য ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়; যদি রক্তক্ষরণ ৩ দিনের কম হয় → ইস্তিহাযা ধরা হয়; যদি অধিক হয় তবে প্রথম (স্বাভাবিক) ১০ দিনকে হায়েজ ধরা হয়ে অতিরিক্ত দিনগুলোকে ইস্তিহাযা বলা হয় (এবং সেগুলোর জন্য আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য)।
- যদি নারীকে নিজের পুরোনো অভ্যাস জানা থাকে, তার অভ্যাসকে প্রধান্য দেবে; অভ্যাস না থাকলে উপরোক্ত ৩–১০ দিনের বিধান প্রযোজ্য হবে।
4) বাস্তবিক ফিকহি কার্যাবলী (সংক্ষেপে)
- হায়েজে: নামাজ ও রোজা অবৈধ; শাব ইবতিহাদ (যৌন সম্পর্ক) হারাম; চক্র শেষ হলে গুস্ল করতে হবে।
- ইস্তিহাযায়: নামাজ ও রোজা করা যাবে — প্রতি নামাজের আগে ওযু করতে হবে; গুস্ল শুধুমাত্র হায়েজ অনুযায়ী করা হয়; যৌন সম্পর্ক ইস্তিহাযায় মুক্কাদ্দার (অনুমোদিত)।
রেফারেন্স: আল‑হিদায়া (কিতাবুন নিসা' — হানাফী ফিকহ)।