ام عمارة:
اَلسَّلاَمْ عَلَيْــــــــــــــــــــكُمْ وَ رَحْمَةُ اللہِ وَبَرَكَاتُهُ
অনেক সময় মাদ্রাসার উস্তাদ গণ বলে থাকেন যে একদিন দারস মিস দিলে নাকি ৪০ দিনের বরকত চলে যায়।কিন্তু এমনো ত হতে পারে যে অসুস্থতা কিংবা খুব জরুরত কোনো বিষয়। যেমন মায়ের যদি বেশি অসুস্থতা থাকে তখন কি যাওয়া উচিত মাদ্রাসায়??উস্তাদগণ বলেন যে আগের আকাবীর গণ নাকি বাবার মৃত্যুতেও দারস/মাদ্রাসা মিস দিতেন নাহ।সব হালাতেই যেতেন মাদ্রাসায়
ওয়ালাইকুমুস সালাম ও রাহমাতুল্লাহি ও বারাকাতুহু
iftatwa.info — হানাফী ফিকহ অনুসারে সংক্ষিপ্ত উত্তর:
1) যে কথা উস্তাদরা বলেন — “একদিন দারস মিস করলে ৪০ দিনের বরকত চলে যায়” — এর কোনো মান্য ও বাতিল নস (সাহিহ হাদিস বা কিতাবি আদল) দ্বারা সাধারণভাবে প্রমাণিত নেই। এটি বেশি‑সংঘবদ্ধভাবে ছাত্রদের নিয়মিত থাকার জন্য বলা হতেও পারে, কিন্তু এটি একধরনের রীতিমতো প্রচলিত কথাবার্তা; আন-নসীদ্বারা বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়।
2) কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার: পিতামাতা ও জরুরি প্রয়োজন রক্ষা করা ফরাযি/বড় গুরুত্বের কাজ। মাকে পরিষ্কারভাবে রওয়াজা দেওয়া ও তাঁর প্রতি যত্ম করা ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। রাসূলﷺ‑এর এক হাদিসে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় কাদের প্রতি সবচেয়ে বেশি ভদ্রতা/ভালোবাসা করা উচিত? তিনি বলেছিলেন: “তোমার মা” — তিনবার এবং তারপর “তোমার বাবা” (সাহিহ আল-বুখারি)। (রেফারেন্স: সহিহ আল‑বুখারি — মায়ের অধিকার সম্পর্কিত হাদিস)
3) প্রয়োগ (হানাফী দৃষ্টিতে):
- অসুস্থতা, মায়ের গুরুতর অসুস্থতা, পিতার মৃত্যুর মতো জরুরি ও আবশ্যকী কাজ হলে মাদরাসায় না যাওয়া جائز ও গ্রহণযোগ্য। এইগুলো আদায় করা, পিতামাতার সাথে সহানুভূতিশীল থাকা—ইসলামে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
- চেষ্টা করুন শিক্ষককে জানিয়ে অনুপস্থিতির অনুমতি নিন ও পড়া মকফ করা বা পরবর্তীতে মিটিয়ে নিন।
- যেখানে সম্ভব ঘরে থেকে পড়াশোনা চালান বা সহপাঠীদের মাধ্যমে নোট সংগ্রহ করুন, যাতে ছাত্রী জীবনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
সংক্ষেপে: নিয়মিত দারস যাওয়া ভাল ও প্ররোচিত, কিন্তু মায়ের অসুস্থতা, নিজের অসুস্থতা বা পিতার মৃত্যুর মতো সত্যিকারের জরুরি কারণে মিস করা হারাম না; বরং পিতামাতার খেদান্বিত দায়িত্ব পূরণ করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ (হাদিস‑সূত্রে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ)।