🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমি আমার রুমে একটা কাজ করতে চাচ্ছিলাম যেটা অবশ্যই কোন খারাপ কাজ না কিন্তু আমি চাচ্ছিলাম এই কাজের বিষয়ে কেউ যেন কিছু জানতে না পারে। আমি যে রুমে ছিলাম আমার পাশের রুমে আমার দুলাভাই রাত জেগে কাজ করছিলেন।আমার রুমের দরজা বন্ধ থাকায় আমি বুঝতে পারছিলাম না যে আমার দুলাভাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে কিনা বা তিনি পাশের রুম থেকে চলে গেছেন কিনা। আমার দুলাভাই পাশের রুমে আছেন কিনা না থাকলেও কখন যাচ্ছেন তা দেখার জন্য আমি আমার রুমের দরজা খুলে দিয়েছিলাম এবং পানি খেতে গিয়েছিলাম। এমতাবস্থায় আমার রুমের দরজা খুললে দুলাভাই আমার দিকে তাকান এবং পরপরই তার ব্যক্তিগত রুমে চলে যান। এখন এই যে আমি চাচ্ছিলাম যে আমি আমার রুমে আমি উক্ত কাজ করার সময় আমার রুমে এমনকি আমার পাশের রুমে কেউ না থাকুক এবং আমি দরজা খোলার পরপরই যে দুলাভাই তার ব্যক্তিগত রুমে চলে গেল এতে কি আমি তাকে অন্য জায়গায় যেতে বাধ্য করলাম? এতে কি আমার গুনাহ হবে? উল্লেখ্য এটা দুলাভাইয়েরই বাসা এবং আমি তাকে কোথাও চলে যেতে বলিনি। শুধু চাচ্ছিলাম যে আমি আমার রুমে উক্ত কাজ করার সময় আমার পাশের রুমে যেন কেউ না থাকে।
আপনার বর্ণনার ওপর নির্মিত ফতোয়া (হানাফি হিকমত):

আপনি যে কাজটা করতে চেয়েছিলেন সেটি নৈতিকভাবে অবৈধ নয় এবং আপনি কাউকে বলেও বা জোর করে কোথাও পাঠাননি — শুধুমাত্র দরজা খুলে পাশের রুমে লোক আছে কি নেই তা দেখেছেন। পাশের ব্যক্তি দরজা দেখেই স্বেচ্ছায় নিজের ব্যক্তিগত ঘরে চলে গেছেন। ইসলামী শরীয়তে “বাধ্য করা” (إكراه) বলতে বোঝায় কারো উপর বলবৎ করে বা জোরপূর্বক তাকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া; আপনার ঘটনায় এমন কোনও বলবৎ বা জোর প্রয়োগ ঘটেনি। ফলে এতে আপনার পক্ষে কোনো গুনাহ আরোপযোগ্য নয়।

একান্ত সংযম ও ভদ্রতা বজায় রাখা উচিত; অন্যের বিব্রত বা সন্দেহের কারণ হতেইদূর থেকে আচরণ এড়িয়ে চলাই উত্তম। শরীয়তগত সাধারণ বিধান—নিজের কর্মকাণ্ডে অন্যকে কষ্ট না দেওয়া—প্রযোজ্য।

তাকাইদসূত্র (একটি কিতাব/হাদিস): "لا ضرر ولا ضرار" — (হাদিস হিসেবে উদ্ধৃত; যুগ্ম নীতিরূপে গ্রহণ করা হয়) — অর্থাৎ: কোনো ক্ষতি নয় এবং ক্ষতিসাধনও করা যাবে না।