বিয়ের পূর্বে হারাম সম্পর্কের কথা পাত্রকে না জানালে গুনাহ হবে?
সংক্ষিপ্ত উত্তর — হ্যাঁ ও না; পার্থক্য দুটো দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
- ব্যক্তিগতভাবে পূর্বের হারাম সম্পর্ক (যেমন পূর্বে সর্বদাই চলা কাহিনী) করা নিজে একটি গুনাহ; তার জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করা জরুরি। কিন্তু বিয়ের আগে তা না জানানো আত্মশোধন হিসেবে সবসময় গুনাহ বাড়ায়—তবে ইসলামী শাস্ত্রে সব সময়ই কারও গোপন/অপকর্ম উন্মোচন করা বাধ্যতামূলক নয় যদি সেটা অন্যের কোনো তার‑ইন‑হক (rights) ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
- হুকুমের গুরুতর পার্থক্য: যদি ওই অতীত-কার্য সুস্থতা/সংক্রমণ (যেমন যোনীভিত্তিক অসুখ/এসটিআই), অথবা যৌন অক্ষমতা/বাস্তবিকভাবে বিয়ে সম্পূর্ণ করতে অক্ষমতা, অথবা সেই অতীত থেকে চলমান বিপজ্জনক অভ্যাস থাকে—এগুলো স্বামীর/স্ত্রীর মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে; সেগুলো অবশ্যই বিয়ের আগে জানাতে হবে। গোপনে রাখলে তা প্রতারণার পর্যায়ে পড়ে এবং শারীরিক ও আইনি পরিণতি হতে পারে।
- সাধারণ নীতি (হানাফী মাযহাব অনুযায়ী): বিয়ের সিদ্ধান্তে এমন কোনো জিনিস গোপন করা উচিত নয় যা সন্তানের অধিকার, স্বাস্থ্য বা দাম্পত্য জীবন জটিল করে তুলবে; থাকা‑সামনে করা অতীত পাপের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করা প্রধান কাজ। ঢেকে রাখা এবং অপরকে বিব্রত না করা—একই সঙ্গে যদি গোপন করা অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়—তাও ইসলামে প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য হিসেবে ধরা হয়।
সূত্র (একটি): রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি একজন মুসলিমের গোপন (ভুল) ঢেকে রাখে, আল্লাহ তাও দীনম্বরে তাঁর গোপন ঢেকে রাখবেন।” (সহীহ মুসলিম)
সংক্ষেপে: অতীত হারাম কাজ নিজে গুনাহ; কিন্তু সেটা বিয়ের আগে না জানানো সবক্ষেত্রেই আল্লাহর নিকট অতিরিক্ত গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে—কিন্তু শারীরিক/স্বাস্থ্যগত/দাম্পত্য অধিকার-সংক্রান্ত প্রভাব থাকলে অবশ্যই জানানো আবশ্যক এবং গোপন রাখা জঘন্য ও দায়ীকারী হবে।