🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি হিফজের ছাত্রী। একইসাথে কুরআনের মাক্বামাতের সুর শিখছি। হায়েজ চলাকালীন অবস্থায় কী আমি কুরআন স্পর্শ ছাড়া হিফজ এবং মাক্বামাত শিখা চালিয়ে যেতে পারব? প্রতি মাসে ৭-৮ দিন সময়গুলো বাদ গেলে পড়াশোনা পিছিয়ে যায়। আমি নিজেও মনযোগ হারিয়ে ফেলি। আমার করণীয় কী? আমি কী পড়া চালিয়ে যাব?
ওয়ালাইকুমুস সালাম।

হানাফী ফিকহ অনুসারে হায়েজে (মাসিকের সময়ে) কুরআন মুখস্থ থেকে পড়া ও রিভিশ (ইযতিমাদে স্মরণ থেকে তিলাওয়াত) করা জায়েয; কিন্তু সাধারণত মুশাফ (আরবি লিখিত কোরআন) সরাসরি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। তাই আপনার হিফজ ও মাকামাত শেখা বন্ধ করার দরকার নেই — শুধু শেখার উপায় কিছুটা বদলান:

কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন (প্র্যাকটিক্যাল উপায়)
- মুখস্থ থাকা আয়াতগুলো দৈনন্দিন মুখস্থভাবে জোরে-বাজে অথবা মনস্থভাবে পুনরাবৃত্তি করুন।
- আপনার মাস্টার/মুরব্বির রেকর্ড করা তিলাওয়াত শুনুন এবং তার অনুকরণ করে নিজে রেকর্ড করে শুনে সংশোধন করুন।
- মাকামাত শেখার জন্য বেশি করে শ্রবণ (listening) ও কণ্ঠ অনুশীলন করুন — সুর, লয় ও তাজউীদ ব্যবহার শুনে অনুকরণ করা খুব কার্যকর।
- ছোট লক্ষ্যমাত্রা নিন (প্রতিদিন সামান্য অংশ – ২–৩ আয়াত বা কয়েক লাইন) যাতে হায়েজের দিনগুলোতে পিছিয়ে না পড়ে যান।
- হায়েজ শেষে শুদ্ধ সময়ে (নজাৎ হলে) দ্রুত অতিরিক্ত রিভিশন ও নতুন হিফজ যোগ করে ক্ষতিপূরণ করুন।
- গদ্যে বা ট্রান্সলিটারেশন, তাজউীদ নোট বা শব্দচিত্র লিখে রাখুন; অনেকে মুশাফ না ছুঁয়ে মোবাইল/অডিও-ফাইল থেকে পড়া ও অনুশীলন করে থাকেন।
- মেন্টাল ফোকাস বাড়াতে নিয়মিত ক্লান্তি কমাতে ছোট বিরতি, ভাল ঘুম ও পানি-খাওয়ার খেয়াল রাখুন।

সংক্ষিপ্তভাবে: হায়েজ থাকা মানে হিফজ-শিক্ষা বাদ দেওয়ার নির্দেশ নয় — মুখস্থ থেকে পুনরাবৃত্তি, শ্রবণ ও কণ্ঠ অনুশীলনের মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যান; মুশাফ সরাসরি স্পর্শ করা এ সময়ে এড়িয়ে চলুন এবং হায়েজ শেষে অতিরিক্ত রিভিশন করুন।

তফসিলি হানাফী বিবরণ সম্পর্কে দেখুন: Ibn ʿĀbidīn, Radd al-Muḥtār (مسألة في قراءة الحائض للقرآن).