🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

যদি আল্লাহর নামে কসম করে ভেঙে ফেলা হয় তাহলে কত টাকা কাফফারা দিতে হবে? টাকা কি একবারে একজনকে দিয়ে দিলেই হবে, নাকি ১০ জনকে দিতে হবে, অথবা ভেঙে ভেঙে দিলেও হবে? কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কি দান করে দেওয়া যাবে, যেমন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের বেকার কর্মসংস্থান বা রোজায় খাদ্য বিতরণ টাইপ প্রজেক্টে?
ifaṭwa.info — হানাফী ফিকহ অনুসারে উত্তর

আধার: আল-কুরআন — সূরা আল-মায়িদা ৫:৮৯ (কসম ভাঙার কাফফারা সম্পর্কিত নির্দেশ)

মূল সিদ্ধান্ত (হানাফী):
- কসম বা শপথ ভেঙে ফেললে কাফফারা হিসেবে আল্লাহর নির্দেশে যে বিকল্পগুলো আছে তা মেনে চলতে হবে: দরিদ্র দশজনকে খাবার খাওয়ানো বা তাদের জন্য পোশাক দেওয়া (অথবা কুতুবি যুগে দাস মুক্ত করা); যদি এসব করা সম্ভব না হয় তাহলে তিন দিন রোজা। (সূত্র: আল-কুরআন ৫:৮৯)
- "খাবার খাওয়ানো" বলতে প্রতিজন দরিদ্রকে যে স্বাভাবিক এক বেলার খাদ্য দেওয়া হয় তার সমপরিমাণ বোঝায়; আজকের যুগে তার নগদ মূল্য দিতে পারেন — অর্থাৎ প্রতিজন দরিদ্রের এক বেলার খাবারের বর্তমান বাজারমূল্যের সমষ্টি মোট দশজনের জন্য দিতে হবে।

প্রশ্নভিত্তিক নির্দেশনা:
1) কত টাকা দিতে হবে?
- টাকা নির্ধারণ করবেন স্থানীয়ভাবে সাধারণ এক বেলার খাবারের মূল্য অনুযায়ী। মোট হবে (এক বেলার খাবারের মূল্য) × ১০। যদি আপনি নিশ্চিত না হয়ে থাকেন, মসজিদ/বিশ্বাসযোগ্য আলিমের কাছে স্থানীয় সাধারণ পরিমাণের মূল্য জিজ্ঞাসা করে নির্ধারণ করুন।

2) টাকা একবারে একজনকে দিলেই হবে, নাকি ১০ জনকে দিতে হবে, অথবা ভেঙে ভেঙে দিবে?
- মূল যেটা চায় তা হলো দশজন দরিদ্রের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসমতুল্য সম্পূর্ণ দেওয়া। তাই আপনি চাইলে এক একজনকে একবারে দশজনের সমগ্র অংশই দিতে পারেন যদি সে প্রকৃত দরিদ্র এবং আপনার অজুহাতে প্রতিটি অংশ উপভোগ করবে। ভাঙা–ভাঙা করে কিস্তিতে দিলেও চলে যদি কি আপনি সম্পূর্ণ পরিমাণ শেষ করুন; তবে উদ্দেশ্য হবে সরাসরি দরিদ্রদের উপকার করা এবং দায়িত্বশীলভাবে তা পৌঁছে দেওয়া। মুশকিল হলে সংশ্লিষ্ট মুহতামিম/ইমাম বা বিশ্বস্ত দাতব্যকে কাজে লাগাতে পারেন — শর্ত: টাকা নিশ্চয়ই দরিদ্রদের কাছে পৌঁছবে।

3) কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা যাবে কি? (যেমন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন—বেকার কর্মসংস্থান বা রোজায় খাদ্য বিতরণ প্রজেক্ট)
- হ্যাঁ, যদি প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাসযোগ্য হয় এবং আপনার দেওয়া অর্থ সরাসরি কাফফারা উদ্দেশ্যে—অর্থাৎ দরিদ্রদের খাদ্য/পোশাক/অন্য নিবিড় তাত্ক্ষণিক সহায়তা—রূপে বিতরণ করে।
- সরাসরি রোজায় খাদ্য বিতরণ প্রকল্প গ্রহণযোগ্য (কারণ তা তাত্ক্ষণিক খাদ্যসাহায্য)।
- বেকার কর্মসংস্থান (লং-টার্ম উন্নয়ন) প্রকল্পে দান দেওয়া সাধারণত বিতর্কিত: যদি সেই প্রকল্প রোগের মত তাত্ক্ষণিক দরিদ্রের খাদ্য/পোশাক বা দারিদ্র্য সরাসরি লাঘব করে এবং দ্রুত দরিদ্রদের উপকারে আসে তবে গ্রহণযোগ্য; কিন্তু যদি ফান্ডটি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত প্রশাসনিক খরচ বা এমন কাজে যায় যা সরাসরি দরিদ্রের জন্য নয়, তাহলে সেটি কাফফারা হিসেবে ঠিক মত নয়। তাই দেওয়ার আগে নিশ্চিত হন যে প্রকল্পটি বাস্তবে কাফফারার উদ্দেশ্য পূরণ করছে — দরিদ্রদের হাতে সরাসরি খাদ্য/পোশাক বা তেমনই তাত্ক্ষণিক সহায়তা পৌঁছে যাচ্ছে।

অতিরিক্ত ছোট নির্দেশ:
- যদি আপনি প্রদানে সক্ষম হন, রোজা তিন দিন করে দেওয়া কাফফারা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না — অর্থাৎ যদি খাবার দেওয়া/পোশাক দেওয়া সম্ভব থাকে, তাহলে রোজা বেছে নেওয়া উচিত নয়। রোজা কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য যদি আপনি উপরের বিকল্পগুলো করতে সক্ষম না হন।
- যেকোন বিতরণ/দানে সততা রাখুন ও নিশ্চিত করুন যে প্রকৃত দরিদ্ররা তা পাচ্ছে; নতুবা কাফফারা শর্ত পূরণ হবে না।

সূত্র: আল-কুরআন, সূরা আল-মায়িদা ৫:৮৯।