🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমার একজন ফ্রেন্ড কোর্ট মেরেজ করে, যখন ওদের বিয়ে হয় ছেলে আগে থেকেই কোর্ট এ ছিলো সাথে তার ফ্রেন্ড ও আরো কিছু মানুষ ছিলো। সে আগে কাগজ পত্র সব রেডি করে। মেয়ে যাওয়ার পর শুধু আমার উপস্থিতিতে মেয়ে সাইন করে৷ তখন অন্য সাক্ষ্যীরা ছিলো না পরে কাগজ নিয়ে যেয়ে বাকি কাজ শেষ করে। এরপর একটা রেস্টুরেন্টে এ বসে বাকি সাক্ষী হিসেবে যারা ছিলো তারা সাক্ষর করে। এভাবে কি বিয়ে টা সম্পন্ন হয়েছে ? আবার যখন মেয়ে আংগুলের ছাপ দিয়েছিলো তখন সাক্ষী কিছুটা দূর থেকে দেখেছিলো। আমি দেখলাম যে ইজাব কবুল নিতে হয় সাক্ষীর উপস্থিতিতে। আর একটা ব্যপার হলো ছেলের কুফু মেয়ের থেকে কিছুটা নিচে। এই অবস্থায় মোহর ও পরিশোধ করে নাই। পরবর্তীতে করবে। এখন এই বিয়ে কি শুদ্ধ হবে?
সংক্ষেপে উত্তর — শর্তসাপেক্ষে শুদ্ধ হতে পারে বা নাও হতে পারে।

আপনি বর্ণনা করেছেন যে মেয়ে আদালতে আংগুলের ছাপ/সাইন করেছে কেবল আপনার সামনেই, বাকী সাক্ষীরা তখন উপস্থিত ছিল না এবং পরে রেস্টুরেন্টে তারা সই করেছে; কেউ কেউ একটু দূর থেকে দেখেছে। হানাফি ফিকহ অনুসারে নিকাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য মূল শর্তগুলো হল:

1) ইজাব-কবুল (বিবাহের অফার ও গ্রহণ) — পক্ষগুলোর সম্মতি যেন নির্পেক্ষ ও স্পষ্টভাবে সংঘটিত হয়।
2) সাক্ষী — ন্যায়পরায়ণ কমপক্ষে দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতি ও প্রত্যক্ষতার প্রয়োজন (সাক্ষীরা ইজাব-কবুল শুনেছে বা দেখেছে)।
3) মহর — নির্ধারণ থাকলেই চলবে; পরিশোধ না করাও নিকাহ বাতিল করে না; পরবর্তীতে আদায় করা যাবে।
4) কুফু (পাত্র–পাত্রীর সামাজিক/বংশগত বৈষম্য) হানাফি মতে নিজে নিকাহকে অটল করে না; বয়স্ক সুস্থ মেয়ে নিজের স্বীকৃতি দিলে (হানাফি মতে) ওয়ালীর অনুপস্থিতিতেও নিকাহ শুদ্ধ বলে গণ্য হতে পারে।

আপনার অবস্থায় সিদ্ধান্ত:
- যদি সত্যিই ইজাব‑কবুল সেই মুহূর্তে ঘটেছিল এবং দু’জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী সেই ইজাব‑কবুলকে শুনেছে বা দেখেছে (অবস্থানুযায়ী একটু দূর থেকেই দেখেই বা শুনেই উপস্থিতি ধরে নেয়া যায় যদি তারা স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করে থাকেন), তাহলেই নিকাহ শুদ্ধ।
- কিন্তু যদি ইজাব‑কবুলের সময় অন্য সাক্ষীরা উপস্থিত ছিল না এবং পরে কাগজে সই করা লোকেরা পরে এসে কেবল সই করেছে অথচ তারা ইজাব‑কবুল দেখেনি/শোনেনি, তবে তা বৈধ সাক্ষ্য নয় ও নিকাহটি শুদ্ধ গণ্য হবে না।
- মহর না দেওয়া এখনো নিকাহের বাধ্যতামূলক শর্ত নষ্ট করে না; পরবর্তীতে দাবি করা যাবে।
- পাত্র‑পাত্রীর কুফু হানাফি দৃষ্টিতে স্বয়ং নিকাহ বাতিল করে না যদি মেয়ে নিজের ইচ্ছায় বিয়েতে রাজি হয়।

একটি ঐতিহাসিক হানাফি উৎসে একই নিয়মগুলোর ব্যাখ্যা আছে; দেখা যাবে রদ্দুল-মুৎহার (ইবন আবিদিন)‑এ।