আমার হাসবেন্ড এবং আমার ইচ্ছা দেশের বাইরে সেটেল্ড হওয়ার। যদিও দেশে আমাদের ভালো ক্যারিয়ার করার সুযোগ আছে সেক্ষেত্রে যদি পারমানেন্টলি সেটেল্ড হতে হয় কোনো অমুসলিম দেশে এতে আমাদের গুনাহ হবে কিনা। আমাদের পরবর্তী জেনারেশন বিপথে গেলে আমরা গুনাহগার হবো কিনা
iftawa.info — হানাফি ফিকহ অনুযায়ী:
সংক্ষেপে বিধান
- কোনো অমুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুনাহ নয়। যদি সেখানে ইসলামী পালন (নামাজ, কুরআন শিক্ষা, হালাল রোজগার, নিকাহ ইত্যাদি) স্বাধীনভাবে করা যায় এবং ইসলামত্যাগ করতে বাধ্য করা না হয়, তবে হানাফী উলামা সাধারণত সেটিকে জায়েজ মনে করেন।
- কিন্তু যদি বসবাসের কারণে ফরজ ইবাদত ত্যাগ করতে হয়, বা সন্তানদের ইসলাম শিক্ষাদানে সম্পূর্ণ বাধা থাকে, বা সেখানে থেকে বেলায় কুফরী কার্যকলাপে জড়ানো অনিবার্য হয়, তাহলে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকা নিষেধযোগ্য ও গুনাহ হতে পারে।
- সন্তানদের যদি পরবর্তী প্রজন্ম বিপথগামী হয়, তবে তোমাদের দায়িত্ব হলো তাদের যথাসম্ভব ইসলামী শিক্ষায়, পরিবেশে ও আদর্শে বড় করা। যদি যথেষ্ট প্রচেষ্টা ও শিক্ষা করেও সন্তান নিজের ইচ্ছায় বিপথে যায়, তার দায় তাদের ব্যক্তিগত; কিন্তু পিতামাতার যদি প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিকভাবে দায়িত্বে শিথিলতা থাকে (ধর্মীয় শিক্ষা না দেয়া, বাজে পরিবেশে ছেড়ে দেয়া ইত্যাদি), তাহলে তাদের ওপর দোষ থাকতে পারে।
প্রয়োগগত পরামর্শ (সংক্ষিপ্ত)
- নতুন দেশে মুসলমান কমিউনিটি, মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থা খুঁজুন; সন্তানদের জন্য ইসলামি স্কুল/হিফজ/তালিমের ব্যবস্থা করুন।
- নিজে ও পরিবারের জন্য স্থায়ীভাবে নৈতিক ও আলেম-গাইডেন্স নিশ্চিত করুন; নৈতিক-আধ্যাত্মিক ছাঁকনি বজায় রাখুন।
- হালাল রোজগারের উদ্যোগ নিন; যেখানে প্রয়োজনে ইসলামি আইনগত বিষয় (নিকাহ, উত্তরাধিকার) সমাধান করা যায়।
- যদি ইসলাম পালনে বড় বাধা থাকে, তখন হানাফী মত অনুযায়ী দেশান্তর বা অন্য কোনো মুসলিম দেশে স্থায়িত্ব বিবেচনা করা উচিত।
তাকরীরি সূত্র (একটি)
- হাদিস: "كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ" — (সহীহ বুখারি) — অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তি একজন রক্ষক/দায়ী এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্বের জন্য জবাবদিহি করা হবে। এই হাদিস পিতামাতার সন্তানদের প্রতি দায়িত্বের মৌলিক নীতিটি নির্দেশ করে।
(iftawa.info — হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)