بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
اَلسَلامُ عَلَيْكُم وَرَحْمَةُ اَللهِ وَبَرَكاتُهُ এক দোকান থেকে স্ক্রাব কিনে তাতে কোন কিছু যোগ না করে সংস্কার বা সংযোজনমূলক কাজ না করে বা মেরামত না করে অন্য দোকানে যত দিয়ে কিনেছি তা থেকে বেশি দামে বিক্রি করা হালাল কিনা? শুনেছি হালাল ভাবে যিনি যত বেশি সম্পদ আয় করেন তিনি তত বেশি মানুষের উপকার করেন, এখানে কোনো উপকার হচ্ছে কিনা, শুনেছি চুরি করে স্ক্রাবের দোকানে বিক্রি করে, আনেকে জিনিস চুরি করে সেখানে বিক্রি করে, কিন্তু আমি নির্দিষ্ট দোকান সম্পর্কে জানি না যেখনে চুরি করে বিক্রি করা কিছু আছে কিনা,
এটি কোনো নিদর্দিষ্ট দোকান সম্পর্কে নয় স্ক্রাপের দোকানে এমন হয়ে থাকে শুনেছি,
এখন আমি যে যেকোনো দোকান থেকে কিনতে গেলে আমি জানি না সেই দোকানে কোউ চুরি করা কিছু বিক্রি করেছে কিনা এমন দোকান থেকে আমি কিনতে পারবো কিনা ও বিক্রি করতে পারবো কিনা হালাল কিনা?
এখন কিনে বিক্রি করাটা বার বার করেতই থাকা করেতই থাকা পেশা হিসেবে নেওয়া পেশা হিসেবে শুরু করা হালাল কিনা? হালাল হয়ে থাকলে এই ব্যবসাটি কোনো হুজুর বা দ্বীনদার ব্যাক্তি করেন কিনা যার সাথে আমি এই ব্যাপারে পরামর্শ করতে পারি, এই ব্যাপারে আপনাদের পরামর্শ কি, এই ব্যাপারে উত্তম কি?
ওয়ালাইকুম আস্সালাম ورحمة الله وبركاتُه।
সংক্ষেপে হানাফী মাজহাব অনুযায়ী ফতোয়া (ifatwa.info এর স্টাইলে):
- যদি আপনি কোনো দোকান থেকে কোনো পণ্য (স্ক্র্যাপ/স্ক্রাব) কিনে থাকেন এবং আপনার কাছে সেই পণ্যের সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত জ্ঞান না থাকে যে তা চুরি করা—অর্থাৎ দোকানটি সাধারণত কী ধরনের মাল বিক্রি করে সে সম্পর্কে আপনার কাছে স্পষ্ট প্রমাণ না থাকে—তাহলে সে মাল কেনা ও পরে মুনাফা সহ বিক্রি করা আইনত জায়েজ। শরিয়া‑র মূলقاعدা হলো "বিস্মাহ (البراءة الأصل)" — যে বস্তু সম্পর্কে সন্দেহ আছে, তাকে মূলত جائز ধরা হয় যতক্ষণ না বর্জন বা হারাম হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ থাকে।
- যদি আলােমত বা সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকে যে নির্দিষ্ট দোকানটি নিয়মিতভাবে চুরি করা মাল বিক্রি করে (অর্থাৎ লোকেরা সাধারণভাবে জানে বা দৃঢ় প্রমাণ থাকে), তখন সেই দোকান থেকে কেনা বর্জিত ও নাযেজ; এতে অংশগ্রহণ করা হারাম। সন্দেহ থাকলে সাবধানতা অবলম্বন করা উত্তম।
- যদি আপনি নিকট অতীতে সচ্চরিত্রতা অবলম্বন করে (good faith) কিনে ফেলেন এবং পরে জানা যায় যে মালটি চুরি করা ছিল, তাহলে অনুগত মালিক যদি মাল দাবি করে তা ফেরত দিতে হবে। যে ব্যক্তি ভাল‑বিশ্বাসে ক্রেতা ছিলেন, তার অধিকার হচ্ছে বিক্রেতার প্রতি রেকভারি (বিক্রেতার কাছে দাবি) করা—কিন্তু মালিকের অধিকার বজায় থাকেই; মূল মালিক মাল ফেরত চাইলেই তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। বিক্রেতাকে খুঁজে না পেলে ক্রেতাকে ক্ষতিপূরণ জবরদস্তি করার বিষয়ে ঝুঁকি থাকতে পারে—সুতরাং পূর্বে যাচাই করা উত্তম।
- পেশা হিসেবে বারবার কিনে বিক্রি করা (স্ক্র্যাপ‑রিসেল) শর্ত হলে জায়েজ, যদি আপনি সচেতনভাবে চুরি বা প্রতারণামূলক জিনিস না বিক্রয় করেন এবং মাল যথাযথ উৎস থেকে কিনে থাকেন। ব্যবসায় সততা রাখা অপরিহার্য।
- ব্যবহারিক নির্দেশনা: যেখানে সম্ভব মালের চালান/চিঠি/স্বত্তাধিকার প্রমাণ চাওয়া, বিক্রেতার পরিচয় রাখুন, সন্দেহজনক দোকান থেকে কেনা এড়ান, এবং যদি কোনো মালিক আইনসম্মতভাবে মাল দাবি করেন তা দ্রুত মিটিয়ে দিন ও বিক্রেতার বিরুদ্ধে প্রতিকার অনুসরণ করুন।
হাদিসের এক কথায় সতর্ক হওয়া ও প্রতারণা ত্যাগ করার নির্দেশ রয়েছে: „مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا“ — “যে আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সাহিহ — দেখুন: সহীহ মুসলিম)
ঈমান ও সততার সঙ্গে ব্যবসায় লাগুন; সন্দেহ হলে পরামর্শ নিন এবং প্রমাণপত্র রাখুন।