আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতূহ।
১।মার্চ মাসের ১৯ তারিখে পিরিয়ড শুরু হয়।১০ দিন পেরিয়ে গেলেও ফ্লো হতেই থাকে যদিও কম।ফলে ইস্তাহাযা ভেবে সালাত কন্টিনিউ করা হয়েছে।এখনো ফ্লো হয়েই যাচ্ছে।আজ ৮ এপ্রিল, পিরিয়ড হলে যেমন ব্যথা হয় সেরকম মনে হয়েছে।সেক্ষেত্রে কি এটাকে পিরিয়ড ধরে নিবে?এবং এক্ষেত্রে সালাতের বিষয়ে করণীয় কি?সালাত পড়া কি বন্ধ করবে?
২।নেফাস শেষ হওয়ার ১ মাস পর পিরিয়ড হয়।আবার ২ মাস গ্যাপ দিয়ে এরপর পিরিয়ড হয়।এর ১০ দিন পরেই আবার পিরিয়ড শুরু হয়েছে।এটাকে কি স্বাভাবিক পিরিয়ড ধরে নিয়ে সালাত আদায় বাদ দিবে নাকি ইস্তেহাযা ধরে নিবে।সালাতের বিষয় এ করণীয় জানাবেন দয়া করে।
জাঝাকুমুল্লহু খইরন
ওয়ালাইকুমুসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
সংক্ষিপ্ত ফতোয়া (হানাফী আইন অনুসারে):
১) ১৯ মার্চ থেকে রক্তপাত যদি অবিচ্ছিন্নভাবে চলেছে এবং ১০ দিন পার হয়ে গেছে, তাহলে হানাফী মতে প্রথম ৩–১০ দিনের মধ্যেই নিয়মিত মাসিক (হৈদ) গণ্য করা হয়; সাধারণভাবে মেনস্ট্রুয়েশনের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ দিন। অতঃপর চলতে থাকা রক্তপাতকে ইস্তিহাদাহ (مرضی রক্ত) ধরা হবে। তাই যে দিনগুলো ১০ দিন পারের পর হয়েছে, সেগুলোর জন্য সালাত বন্ধ করার দরকার নেই — প্রতিটি সালাতের জন্য ওয়াযু করবেন এবং পড়বেন। মাসিকের মতো ব্যথা অনুভূত হওয়া alleine (শুধু ব্যথা) আইন পরিবর্তন করে না। যদি আপনি ১০তম দিনেরপর ঘুসল করে সালাত শুরু না করে থাকেন, এখন অবশ্যই ঘুসল করে সালাত চালিয়ে যাবেন; ইস্তিহাদাহ হওয়ার সময় প্রতিটি নামাজের জন্য ওয়াযু যথারীতি করতে হবে এবং প্যাড/ট্যাম্পন ইত্যাদি ব্যবহার করবেন।
২) নেফাস শেষ হয়ে পরে যে রক্তপাত ঘটে সেটি যদি বিশুদ্ধ (পরিশুদ্ধ) অবস্থার পরে শুরু হয়ে থাকে এবং আগে-পরে বিশুদ্ধতার মেয়াদ যথেষ্ট দীর্ঘ (সাধারণ হানাফী প্রয়োগে ১৫ দিন বা তার অধিক বিশুদ্ধতা থাকলে) তাহলে নতুন রক্তপাতকে নতুন হৈদ (মাসিক) ধরা হয়; আর যদি দুই রক্তপাতের মাঝে বিশুদ্ধতার সময় ১৫ দিনের কম হয়, তাহলে সেটিকে একই চক্রের অব্যাহত রক্তপাত বা ইস্তিহাদাহ ধরে কাজ করবেন। প্রয়োগে তাই: আপনার ক্ষেত্রে যেগুলো মাঝে এক মাস বা দুই মাস বিশুদ্ধতা ছিল (অর্থাৎ ১৫ দিন থেকে বেশি), সেগুলো আলাদা-মাসিক ধরা যাবে। কিন্তু যেই ক্ষেত্রে ১০ দিন পরে আবার রক্ত শুরু হয়েছে এবং পূর্ববর্তী বিশুদ্ধতা ১৫ দিনের কম হয়ে থাকে, সেটি ইস্তিহাদাহ হিসেবে গণ্য হবে — ফলে ওই সময়ে সালাত বন্ধ করবেন না ও প্রতিটি নামাজের জন্য ওয়াযু করবেন। সাধারণ নিয়ম হলো আপনার ব্যক্তিগত সাধারণ (স্তনীয়) মাসিকের দৈর্ঘ্য যদি স্থিতিশীল থাকে তবে ঐ প্রতীয়মান দৈর্ঘ্যকে বিবেচনা করবেন; না থাকলে ৩ দিন ন্যূনতম ও ১০ দিন সর্বোচ্চ নিয়ম প্রযোজ্য।
হাদিস সূত্র (একটি): রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন — “মহিলারা যখন রক্তপাত করে (মাসিক থাকে) তখন তারা নামাজ ও রোজা করবে না।” (সাহিহ আল-বুখারি — বিষয়ে হায়দ)।
আপনি যদি নির্দিষ্ট তারিখ-ভিত্তিক হিসাব বা আপনার ননিয়মিততা নিয়ে সন্দেহ থাকেন, তাহলে নিজ অভিজ্ঞ মাসিক দৈর্ঘ্য লিখে রাখলে পরবর্তী ক্ষেত্রে সহজ হবে।