🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

একবোন দ্বীনের বুঝ পাওয়ার আগে মেসেন্জারের ইনবক্সে মেসেজে এক ছেলে ৩ বার কবুল বলতে বললে ৩বার কবুল লিখে দেয়। তখন মেয়েটার আশেপাশে কেউ ছিল না। কিন্তু ছেলের আশাপশে কেউ ছিল কিনা তার জানা নাই। পরে মেয়েটা রাস্তায় হাটতে হাটতে তার বান্ধবীকে কবুল বলার বিষয়টা শেয়ার করে। এখন মেয়েটার দ্বীনের বুঝ পেয়েছে। তাই সে সেই ছেলের সাথে আর কথা বলে না। এখন মেসেজে এভাবে কবুল লিখে দেওয়ায় তাদের কি বিয়ে হয়ে গেছে?
সংক্ষেপে উত্তর: না — যদি আসলে মেয়েটি তখন নিকাহের অর্থ বুঝতেও না পেত (অর্থাৎ ইচ্ছা বা সম্মতি ছিল না), তাহলে মেসেঞ্জারে তিনবার "কবুল" লিখে দেওয়ায় নিকাহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়নি। কিন্তু যদি সে সচেতনভাবে, মানে জানতো যে এটি বরের প্রস্তাব ও সে সম্মত হয়েছে, তাহলে হানাফি মতে ইজাব–ক্ববুল (মৌখিক বা লিখিত) থেকে নিকাহ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, কারণ হানাফি মত অনুযায়ী বিধির জন্য গার্ডিয়ান বা সাক্ষীর অনুপস্থিতি আলাদা শর্ত নয় — মূল বিষয় হল ইচ্ছা ও সম্মতি।

নোটযোগ্য বিষয়গুলো:
- নিকাহের জন্য পক্ষদ্বয়ের স্পষ্ট ইজাব ও ক্ববুল এবং দুজনেরই বিবাহ করতে ইচ্ছা থাকা জরুরি।
- মেয়েটি যদি তখন দ্বীনি-অবগতির অভাবে বা বোঝায় অনভিজ্ঞতার কারণে সম্মতি দেয়নি, তাহলে তা বৈধ ক্ববুল গণ্য হবে না।
- মেসেজে কবুল লিখে দেওয়ার সময় যদি সে সচেতনভাবে সম্মত হয়ে থাকত, তাহলে পরবর্তী অনিদৃষ্টভাবে যোগাযোগ বন্ধ করেও নিকাহ বৈধ বিবেচিত হতে পারে; সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্পষ্ট করা ও নিরসন (পরামর্শ, ওয়ালীর হস্তক্ষেপ ইত্যাদি) প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র (হানাফি ফিকহ): Ibn Abidin, Radd al-Muhtar (Kitab al-Nikah).