আমার নিকটতম একটা আত্নীয় ব্যাংকে টাকা রাখে সুদে সেই টাকা দিয়ে সংসার চালায় তার দেওয়া খাবার খাওয়া কি জায়েজ যেহেতু উনি একদম পরিবারের মানুষ সেহেতু কিভাবে এড়িয়ে চলবো কারন উনি সুদ জানে তবুও খায়
সংক্ষিপ্ত উত্তর:
সাধারণভাবে না — যদি স্পষ্টভাবে জানা থাকে যে আত্নীয়ের দেয়া খাবার বা অর্থ সরাসরি সুদের („রিবা“) আয় থেকে আসে, তা খাওয়া জায়েজ নয়। ধর্মীয়ভাবে সুদের অর্থ থেকে অর্জিত সম্পদ হালাল ধরা হয় না, তাই সে অর্থ দিয়ে সরবরাহকৃত খাওয়া-দাওয়া গ্রহণ করা উচিত নয় (ধারাবাহিক পরোক্ষা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ব্যতিক্রম আছে — নিচে স্পষ্ট করা হলো)।
নারকরণকরণমূলক আধ্যাত্মিক উৎস (হাদিস):
রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিস কুদ্সি আছে: “إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا…” — “নিশ্চয়ই আল্লাহ তয়্যিব, তিনি কেবল তয়্যিব (পবিত্র/হালাল)ই গ্রহণ করেন…” (সাহিহ; সাধারণভাবে মুসলিমে বর্ণিত)। এই নীতির আলোকে হালাল ও হারাম আলাদা করে বিবেচনা করতে হয়।
বিস্তারিত ফিকা (হানাফি বিধান ও প্রয়োগ):
1. যদি আপনি নিশ্চিত যে দেওয়া খাবার পুরোপুরি সুদের আয় থেকে হয়েছে, তা সরাসরি গ্রহণ করা হারাম এবং থেকে বিরত থাকা উচিত।
2. যদি আত্নীয়ের আয় মিশ্র (কিছুটা হারাম, কিছুটা হালাল) এবং নির্দিষ্টভাবে জানা না যায় কোন টুকরো থেকে খাবারটি এসেছে, হানাফী সাধারণত মূল অনুমান (أصل الإباحة) অনুসারে বিবেচনা করে: অবিশ্বাস্যভাবে সবকিছু হারাম ধরা হবে না; এমন অবস্থায় গ্রহণে কিছুটা রিবা-সংক্রান্ত সমস্যার সীমিততা থাকতে পারে। তবে যদি সন্দেহ জেড়ে স্পষ্ট হয় যে প্রধানভাগই সুদ থেকে, তখন বিরত থাকা উত্তম।
3. যদি আপনি প্রত্যাখ্যান করলে পরিবারে বড়োর ক্ষতি, ঝগড়া বা গুরুতর অনিষ্ট ঘটবে এবং বিকল্প নেই, তখন হানোফী রীতিতে প্রয়োজন (darūra) বা গুরুতর কষ্ট এড়াতে অল্প গ্রহণে ছাড় দেওয়া যেতে পারে — কিন্তু এ অবস্থাও ব্যতিক্রম; সুযোগ পেলেই সেই খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে ও দাওয়াত/পরামর্শ দিতে হবে যে এটি পরিবর্তন করুক।
কীভাবে এড়িয়ে যাবেন (প্রযোজ্য উপায়সমূহ):
- সুদবিহীন (ইসলামী) ব্যাংক বা জিলহাজ/নন-রেবেটিভ বিকল্প প্রস্তাব করা; তাকে বোঝানো যে সুদের আয় থেকে পরিবার-খরচ বন্ধ করলে ধর্মীয় ও দুনিয়াবী মঙ্গল হবে।
- তিনি যদি চান তো তার থেকে পরিষ্কারভাবে বলুন যে তিনি হালাল আয় থেকে আপনাকে দিন (যেমন তার চাকরি/বোনাস ইত্যাদি), সুদের অংশ না দিতে।
- উপহার/খাবার প্রত্যাখ্যান করতে সতর্কভাবে এবং স্নেহে বলতে পারেন, বলুন আপনি ব্যক্তিগতভাবে হারামগুলো গ্রহণ না করার চেষ্টা করেন।
- যদি আপনি নির্ভরশীল ও বিকল্প না থাকে, সাময়িকভাবে গ্রহণ করে নিন কিন্তু তাকে বোঝান, তাকে তওবা ও রিবা বন্ধ করতে অনুপ্রাণিত করুন।
- তার সাথে আলাপ করে সুদের অংশ হাদিয়াহ/দদান/বিতরণ না করে, বরং মূলধন/বিল/খরচ মিটাতে হালাল উপায়ে সহায়তা করতে বলুন।
সংক্ষেপে:
হাদিসের নীতির আলোকে (إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا) সচেতনভাবে সুদের অর্থ থেকে পাওয়া খাবার/অর্থ গ্রহণ করা উত্তম নয়। যদি সরাসরি বিরত থাকা সম্ভব হয়, বিরত থাকার চেষ্টা করুন। পরিবারে মারাত্মক অসুবিধা সৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে গ্রহণের শর্তগুলো মাথায় রেখে নিতে পারেন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আত্নীয়কে সুদের কাজ থেকে বিরত করানোর চেষ্টা চালান।