🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

কেউ যদি জোড় করে সুদের টাকা নেওয়ার জন্য তাকে নমুনি বা সাক্ষী বানায় সংসার বাঁচানো ঝগড়ার ভয়ে এটা কি জায়েজ হবে
উত্তর (ifatwa.info — হানাফি ফিকহ):

না—জ্ঞানপূর্ণভাবে (ইচ্ছার সঙ্গে) কাউকে কফিল/নামুনী বা সাক্ষী করে সুদে টাকা নেয়ার কার্যকে বৈধ করা জায়েজ নয়। সুদ (রিবা) হারাম এবং রিবায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী—দেওয়া, নেওয়া, লিখে রাখা ও সাক্ষ্যদান—এসব বিবেচনায় গুরুতর নিষিদ্ধ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি wassallam বলেছেন: “لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشُهَدَاؤُهُ” — “রাসূলুল্লাহ (সা.) রিবা খাওয়ানো, তাকে অর্পণ করা, লিখে রাখা এবং তার সাক্ষী দানকারীকে অভিশপ্ত করেছেন।” (উক্ত হাদিস)।

ইকরাহ (জবর/বাধ্যতামূলক ভয়) সম্পর্কে হানাফী নীতিঃ
- যদি কাউকে দমপতি-সংঘাত বা হালকা ঝগড়ার ভয়ে চাপে রাখা হয়, সেই নিরিদিষ্ট চাপ সাধারণত আল্লাহর রাস্তায় গৃহীত অসঙ্গত কাজকে বৈধ করে না؛ এ ধরনের পরিস্থিতিতে গোপনে অপপ্রয়াস কমানোর চেষ্টা করুন, স্পষ্ট সাক্ষ্য বা কফিল হতে শেষ পর্যন্ত বিরত থাকুন।
- কিন্তু যদি জবর এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে প্রাণহানির ভয়, মারধর বা গুরুতর ক্ষতির সনদে ঐ ব্যক্তি বাস্তবে ইচ্ছাশক্তি হারায় (অতি কঠোর জবর), তখন শারীরিকভাবে বাধ্য হয়ে করা কাজের জন্য ব্যক্তি দোষী বিবেচিত নাও হতে পারেন — তবে এটি সর্বদা সুমহান কঠোরভাবে বিচার করা হয় এবং কোনো সহজ ও সাধারণ ছাড়া নয়। সম্ভাব্য হলে তৎক্ষণাৎ সহায়তা নিন, ঘটনাটি লিখিতভাবে নথিভুক্ত রাখুন এবং পরে প্রয়োজনে শুরার পরামর্শ গ্রহণ করুন।

যদি ইতিমধ্যে আপনি জোরপূর্বক কফিল/সাক্ষী হয়ে থাকেন:
- চেষ্টা করুন বিষয়টি যথাসম্ভব শুদ্ধ (বিরোধী পক্ষকে জানানো, চিঠি/নথি) করে তুলতে; সুদধারাকে সুদ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করান; নিজ দায়গুলি পর্যালোচনা করতে স্থানীয় হুকুমত/শরীয়াহ কর্তৃপক্ষ বা বিষয়ভিত্তিক আলিমের কাছে যাচাই করুন।
- পস্তাবনা (তবাহ্) করুন এবং ভবিষ্যতে এ রকম জোরপূর্বক অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

সংক্ষেপে: সচেতনভাবে ও অনিচ্ছায় সুদের লেনদেনে কফিল/সাক্ষী হওয়া হারাম ও অসঙ্গত; কঠোর জবর থাকলে শারীরিক বাধ্যতার কারণে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিতে পারেন, কিন্তু পরিস্থিতি যত দ্রুত সম্ভব সংশোধন ও নতুন ব্যবহার এড়াতে হবে।