🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

প্রেগন্যান্সির ১২ সপ্তাহে মিস ক্যারেজ হয়েছে এবং এবোশন করতে হয়েছে। এখন এর জন্য যে ব্লিডিং হচ্ছে তার বিধান কি?
হানাফী ফিকহ অনুসারে সংক্ষিপ্ত হুকুম (আপনার বিবরণ—১২ সপ্তাহে গর্ভপাত/এবোরশন ও এরপর রক্তপাত):

1) ১২ সপ্তাহে সাধারণত সন্তান জীবিতভাবে ভূমিষ্ঠ হয়নি; অতএব এ ধরনের গর্ভপাতকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে "নিফাস" (সন্তান প্রসবের পরবর্তী রক্ত) বিবেচনা করা হয় না। নিফাসের বিধান শুধুমাত্র তখনই প্রযোজ্য যখন প্রসবকালে সন্তান জীবিতভাবে জন্মায়।

2) তাই এখন চলছে এমন রক্তস্রাবকে দুইভাবে বিবেচনা করতে হবে:
- যদি রক্ত আপনার স্বাভাবিক মাসিক চক্র ও দিনগণনায় মেলে (আপনার আগের মাসিকের মতো সময় ও প্রকৃতি), তাহলে তা হাইদ (মাসিক) — এতে নামাজ ও রোজা স্থগিত থাকবে; রক্ত বন্ধ হলে গোসল (ঘুসল) করে ইবাদত পুনরায় শুরু করবেন।
- যদি রক্ত মাসিকের স্বভাব মেলে না (অসংগঠিত/অবিরত), তাহলে তা ইস্তিহাদা (অস্বাভাবিক রক্তস্রাব) — এই অবস্থায় নামাজ ও রোজা চালিয়ে যাবেন; প্রতিটি সালাতে আগে ওজু করবেন; রক্ত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইবাদতে অংশগ্রহণ করবেন; পরিশুদ্ধি লাগলে (যেমন যৌনসম্পর্কের পরে) ঘুসল করবেন।

3) যদি নিশ্চিত না হতে পারেন যে এটি হাইদ নাকি ইস্তিহাদা, সাধারণ হানাফী নিষ্কর্ষ: নিজের নিয়মিত মাসিক দিনের উপর নজর রেখে, মেলে থাকলে হাইদ ধরুন; না মেলে হলে ইস্তিহাদা ধরে প্রতিটি সালাতের আগে ওজু করে নামাজ পড়ুন এবং রোজা রাখুন।

4) চিকিৎসাসংক্রান্ত বা ব্যাপক/দীর্ঘস্থায়ী রক্তস্রাব হলে দ্রুত চিকিৎসকের দেখানো এবং স্থানীয় আলেমের সঙ্গে পরামর্শ নেয়া উত্তম।

তথ্যসূত্র (কিতাব/কুরআন): আল-কুরআন, সূরা আল-বাকরা 2:222 — “তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; বলো, এটি এক কষ্ট; অতএব ঋতুস্রাবকালে নারীদের থেকে বিরত থেকো; এবং যখন তারা পরিশুদ্ধ হয় তখন তাদের কাছে যাও।”