পরকিয়া করতে গিয়ে ধরা খেলে তার স্বামী বিদেশে থেকে তালাক দিলে ইদ্দত পালন না করে বিয়ে করিয়ে দেয় এই বিয়ে শুদ্ধ হবে কি হানাফি মাজহাব ব্যাতিত অন্যন্য মাজহাবে
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত উত্তর:
না, এই বিয়ে শুদ্ধ হবে না।
ব্যাখ্যা:
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীর জন্য ইদ্দত (নির্দিষ্ট সময়কাল) পালন করা ফরয বা ওয়াজিব। ইদ্দতের উদ্দেশ্য হলো গর্ভসঞ্চার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা এবং প্রথম বিয়ের পবিত্রতা ও গুরুত্ব বজায় রাখা। স্বামী বিদেশে থাকুক বা না থাকুক, কিংবা স্ত্রী পরকিয়ায় লিপ্ত থাকুক বা না থাকুক, তালাক হওয়ার পর ইদ্দত পালনের আবশ্যকতা বাতিল হয় না। ইদ্দতকালীন সময়ে কোনো নারী যদি অন্য কোনো পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তবে সেই বিবাহ ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ/বাতিলযোগ্য) বা বাতিল বলে গণ্য হবে। পরকিয়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত পাপের সাথে সম্পর্কিত, কিন্তু এটি ইদ্দতের আবশ্যকতাকে প্রভাবিত করে না বা ইদ্দত পালন না করে বিয়েকে শুদ্ধ করে না।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক, বাবুল ইদ্দাত। (Al-Hidayah, Kitab al-Talaq, Bab al-Iddah)। এখানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ইদ্দত অবস্থায় বিয়ে করা ফাসিদ এবং তা বাতিল করতে হবে।
---
অন্যান্য প্রধান মাযহাব (শাফিঈ, মালিকী, হাম্বলী) অনুযায়ী:
অন্যান্য প্রধান মাযহাব, যেমন শাফিঈ, মালিকী এবং হাম্বলী মাযহাবেও এই বিষয়ে মূলনীতি একই। তাদের মতেও তালাকের পর ইদ্দত পালন করা ফরয এবং ইদ্দত অবস্থায় বিয়ে করা হারাম ও বাতিল। এই বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই।
- শাফিঈ মাযহাব: তাদের মতেও ইদ্দত পালন করা আবশ্যক এবং ইদ্দতকালীন সময়ে সম্পাদিত বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে (বাতিলুন)।
- মালিকী মাযহাব: মালিকী মাযহাব অনুযায়ী, ইদ্দতকালে বিবাহ করা সুস্পষ্টভাবে হারাম এবং এই বিবাহ ফাসিদ/বাতিল।
- হাম্বলী মাযহাব: হাম্বলী মাযহাবও এই বিষয়ে একমত যে, ইদ্দতকালীন বিবাহ সম্পূর্ণ বাতিল।
তাই, উপরোক্ত পরিস্থিতিতে ইদ্দত পালন না করে বিয়ে করা সকল প্রধান মাযহাবেই অশুদ্ধ বা বাতিল বলে গণ্য হবে। ইদ্দত পালন শেষ হওয়ার পর নতুন করে শরীয়াহ সম্মত উপায়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।