🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته ১- উস্তাজ আমি একটা বইয়ে পড়লাম যে কেউ যদি নিজের ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ থেকে বলে যে, " ইন্ন শা আল্লহ আমি মুমিন" তাহলে সে কাফের। এটা আমাকে একটু বুঝিয়ে বললে মুনাসিব হতো। ২- কি কি কথা বললে মানুষ মুর্তাদ হয়ে যায়? ৩- ঈমানের সাথে মৃত্যু হওয়ার কি কি আমল আছে উস্তাজ? ৪- উস্তাজ অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি অন্য কোনো কাজ করলে কি গুনাহ হবে? ৫- উস্তাজ আমি জানি যে আল্লহর সত্তা নিয়ে চিন্তা করা নিষেধ। এটাকে মূলনীতি ধরে যদি আমি এই রকম বিশ্বাস রাখি যে আল্লহ তা'আলা তাঁর নিজের জন্য যেসব সিফাত সাব্যস্ত করেছেন আমি ও তাঁর জন্য কোনোরুপ প্রশ্ন করা ব্যতীত সেসব সিফাত সাব্যস্ত করি এবং বিশ্বাস করি। এটা কি সমস্যা হবে? এই বিষয়ে সঠিক আকিদা কেমন রাখা উচিত?
ওয়ালাইকুমুস সালাম ও রাহমাতুল্লাহি ও বারকাতুঃ

নীচে হানাফী ফিকহ অনুযায়ী সংক্ষিপ্তভাবে জবাব দিচ্ছি (একটি হাদীস/কিতাবের উল্লেখ করা হয়েছে) —

1) “ইন্না ইনশা-আল্লাহ আমি মুমিন” বলে কেউ যদি নিজের ঈমান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে, তাহলে কি সে কাফের?
- সংক্ষেপে: না। সাধারণভাবে এমন বাক্য বললেই কাফের হয়ে যায় না। “ইনশা-আল্লাহ” বলা ইসলামী কথাবিনিময়ে ভবিষ্যতের ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছা স্মরণ করানো; এটি নিজের ঈমান অস্বীকার করা নয়। কাদ্র (কাফির ঘোষণা) তখনই হবে যখন কেউ স্পষ্টভাবে কোরআন-সুন্নাহ্‌র ভিত্তিভিত্তিক মৌলিক ঈমানের কোর বিষয়াবলি (একতাত্ব, রসূলিয়াত, অমলিয়াত ইত্যাদি) খন্ডিত বা অস্বীকার করবে। কথ্য সন্দেহ, আত্ম-অনিশ্চয়তা বা অভিব্যক্তিগত ভাষ্য সাধারণত কাফির হওয়ার কারণ নয়; ইচ্ছাকৃতভাবে ও স্পষ্টভাবে ঈমানের মৌলিক উৎসগুলো অস্বীকার করলে মুরতাদ ঘটনা ঘটে।

2) কোন কোন কথা বললে মানুষ মুর্তাদ (ইসলাম ত্যাগী) হয়?
- সংক্ষেপে এমন শব্দ/বাক্য যা স্পষ্টভাবে ইসলামের মৌলিক নীতিগুলো অস্বীকার করে, যেমন:
- আল্লাহকে পুরোপুরি অস্বীকার করা বা কোনো আল্লাহকে গ্রহণ করা;
- রিসালত (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী/রাসূল বলে অস্বীকার করা) বা কোরআন আল্লাহর অবতারণা নয় বলা;
- ইসলামকে খারিজ করে অন্য ধর্ম নেওয়া বা প্রকাশ্যে ইসলামের মূল বিশ্বাস মিথ্যা বলা;
- আল্লাহ বা নবীকে গালি দেয়া, কোরআনকে অকৃতকার্য বা মানহীন বলা (স্পষ্ট কুফরস্বরূপ)।
- নোট: বক্তব্যের সূত্র, প্রেক্ষিত ও বলার প্রত্যাশিত মানে বিচার করতে হবে; নীরব অনিচ্ছা বা ভুল অভিব্যক্তি সবসময় মুরতাদী বলে গণ্য হবে না।

3) ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু হওয়ার জন্য কি কি আমল আছে? (কোন অবস্থা/কথায় মৃত্যু হওয়া উত্তম)
- মূল জিনিস: মৃত্যুর সময় হৃদয়ে খাঁটি ঈমান ও মুখে শিহাদাত (لا إله إلا الله محمد رسول الله) থাকা অত্যন্ত বিরাট নয়নের বিষয়। প্রয়োজনে দ্রুত তাওবা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, কিয়ামাতের ভয় ও রহমতের দোয়া করা। আলেকমাত্রিকভাবে: নামাজ পালন করা, ক্বরবানী/সদকা করা যদি সম্ভব, নিজেদের বড় গুনাহ থেকে তওবাও করতে হবে।
- হাদীস (উল্লেখিত কিতাব): রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন — “مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ” — যে ব্যক্তি মারা যাবে এবং মৃত্যুর সময় আল্লাহকে কোনো কিছুতে শরীক না ভাববে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সাহিহ; হাদিসের মাত্রা এবং অর্থ বিবেচ্য)।

4) অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি অন্য কোনো কাজ করলে কি গুনাহ হবে?
- সাধারণভাবে না, গুনাহ নয় যদি:
- আপনি নিজের দায়িত্ব (ক্লাসে যথাযথ মনোযোগ/সম্মান, শিক্ষার্থীর অধিকার, চুক্তিভিত্তিক কাজ ইত্যাদি) ঠিকভাবে পোষণ করেন;
- দুই কাজ করার ফলে নামাজ, ফরজী দায়িত্ব বা পারিবারিক অধিকার অবহেলিত না হয়;
- সেই অন্য কাজ হালাল হয় (হারাম কাজ না)।
- যদি অন্য কাজের কারণে ক্লাস বা দায়িত্বে জালিয়াতি, মিথ্যা বা অবহেলা ঘটে, তবে সেটা গুনাহ হবে।

5) আল্লাহর সত্তা নিয়ে চিন্তা না করে, তাঁর জন্য যে সিফাত কোরআন-সুন্নাহতে সাব্যস্ত সেগুলো সত্য ও মান্য করা — এটা কি ঠিক? সঠিক আকিদা কেমন রাখা উচিত?
- হানাফী (সালাফী/আহলে সুন্নাহ) ম্যানার অনুযায়ী: আল্লাহর সিফাত কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী নির্দিষ্টভাবে স্বীকার করতে হবে; কিন্তু সেগুলোকে সৃষ্টি বা তত্ত্বগত ভাবে মানুষের সৃষ্টির অনুরূপ করা যাবে না (তাশবিহ্ বর্জন), এবং সেগুলি থেকে অর্থগতভাবে অবমাননা/নির্যাসও করা যাবে না (তাঅতীল্ বর্জন)। অর্থাৎ: সিফাত স্বীকার করো “কিন্তু কেমনভাবে” (কাইফ) তা জিজ্ঞাসা করে ব্যাখ্যা করো না — bilā kayf (বিনা কাইফ)।
- সংক্ষেপে: আপনি যা বলছেন (সিফাত স্বীকার করে, কিন্তু কেমন তা না খোঁজা) সেটাই সঠিক ও সাব্যস্ত পথ — যদি নিশ্চিতভাবে কোরআন-সুন্নাহের বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা না দাও, না তা মানব-রূপে সমতুল্য করো, এবং না তা নাকচ করো। এই আকিদা সালাফের মধ্যেই প্রচলিত।

এই উত্তরগুলো সংক্ষিপ্ত ও হানাফী গাইডলাইন স্বরূপ। আল্লাহ তাআলা তওফিক দান করুন।