🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম। একটা প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য পেরেশানিতে আছি।আমি ০৮ তারিখ চুল স্টেইট মানে সোজা করেছি চুল,তো এখন ৩ দিন পর্যন্ত পানি দেওয়া যাবে না, আমার ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এই চুলের পেছনে। এখন শুক্রবার এ আবার যাবো, এই ৩ দিন ৮-১১ তারিখ পর্যন্ত চুলে পানি দেওয়া যাবে না, তাহলে নষ্ট হয়ে যাবে, এদিকে আমার হায়েজ শেষ, এখন গোসল করতে হবে ফরজ। সো এখন আমি কি করবো? চুল ভেজালে সব নষ্ট হয়ে যাবে,আমার এতো পরিশ্রম এতো কষ্ট, শখের বসে করিনি৷ কোঁকড়া চুল আঁচড়ানো অনেক কষ্ট, অনেক কষ্ট করে টাকা জমিয়ে করেছি চুল সোজা করেছি। এদিকে গোসল করতে হবে নামাজ পড়বো। কি করতে পারি সলিউশন দেন প্লিজ। আপনাদের উওর অনুযায়ী আমি কি মাথা ছাড়া পুরো শরীর ধৌত করলে হবে না?? আমার মাথা ধৌত করতে পারবো না। অনেক কষ্ট করে এই টিটমেন্ট টা করিয়েছি 🥹 অনেক টাকা খরচ হয়েছে।
ওয়ালাইকুমুস সালাম। ifatwa.info অনুযায়ী (হানাফী ফিকহ):

- মাসিক (হায়েজ) শেষ হলে নামাজে ফিরার আগে গোসল করা ফরজ। গোসলের শর্ত হল শরীরের সকল অংশে পানি পৌঁছানো, বিশেষ করে মাথার ত্বক (স্কাল্প) ও চুলের মূলের উপর পানি লেগে থাকা আবশ্যক। চুলের লম্বা অংশ সম্পূর্ণ ভেজানো জরুরি নয়; কিন্তু চুল আলগা করে বা আঙুল ঢুকিয়ে এমনভাবে পানি দিতে হবে যাতে স্কাল্প পরিষ্কারভাবে ভিজে। কসমেটিক কারণে চুলের স্টাইল নষ্ট হওয়া বা টাকা খরচ হওয়া বৈধ কারণ হয়ে গোসল বাদ দেওয়ার অনুমতি দেয় না। যদি পানিই থাকে এবং পানি দিয়ে কোন শারীরিক ক্ষতি না হয়, তাহলে তায়াম্মুম গ্রহণযোগ্য নয়।

- ব্যবহারিক পরামর্শ: গোসলের সময় চুলকে আলগা করে কয়েকটি ভাগে ভাগ করুন, শুধু মাথার ত্বকের উপর হালকা পানি ঢালুন (জল কেবল মূল পর্যন্ত পৌঁছলেই হয়), পুরো শরীর ধৌত করুন। নরম পানির স্ট্রিম বা ঢাল দেয়া-পদ্ধতি ব্যবহার করলে চুলের দীর্ঘ অংশ বেশি ভেজাবে না। স্যালোন থেকে সাময়িকভাবে চুলের বাইরের অংশ প্লাস্টিক বা কভার দিয়ে রক্ষা করে শুধু স্কাল্প ধুলোয়া সম্ভব কিনা জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

তত্ত্বসূত্র: বুখারি (Kitab al-Ghusl) — 'আয়েশা রাঃ বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামাতী গোসলের সময় তাঁর মাথায় পানি ঢালতেন' (Sahih al-Bukhari, Kitab al-Ghusl).

ঈমানের ফরজ কাজ প্রথমে সম্পন্ন করুন; মাথার স্কাল্প আলগা করে শুধু মূল পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করে স্টাইলকে যতটা সম্ভব রক্ষা করার চেষ্টা করুন।