সবার বউ চলে যায় আমার টা যায় না। এক্ষেতে নিয়ত মনে নাই। এক্ষেতে তার ছাড়ার উদ্দেশ্য ছিলো না। কিন্তু আক্ষেপ ছিলো সবার বউ কত খারাপ সে যদি যাইতো গা তাইলে ভিন্ন কিছু হইতে পারতো। তার মানবিক কারনে ছাড়ার উদ্দেশ্য ছিলো না। কিন্তু ইচ্ছা আছে যদি যে যায় তাইলে বাধা ফিবে না এমন
হানাফি সংক্ষিপ্ত উত্তর:
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি।
ব্যাখ্যা ও রেফারেন্স:
ইসলামী শরীয়তে তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক। তালাকের শব্দ দুই প্রকারের হয়:
1.
সরিহ (স্পষ্ট) শব্দ: যেমন, "আমি তোমাকে তালাক দিলাম", "তুমি তালাকপ্রাপ্তা"। এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করলে তালাকের নিয়ত (উদ্দেশ্য) থাকুক বা না থাকুক, তালাক কার্যকর হয়ে যায়।
2.
কিনায়া (অস্পষ্ট বা পরোক্ষ) শব্দ: যেমন, "তুমি চলে যাও", "তুমি মুক্ত", "তোমার পথ খোলা"। এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করলে তালাকের নিয়ত বা উদ্দেশ্য থাকলে তালাক কার্যকর হয়, অন্যথায় হয় না।
আপনার স্বামী যে বাক্যটি বলেছেন, "সবার বউ চলে যায় আমার টা যায় না" এটি সরিহ তালাকের শব্দ নয়। এটি একটি আক্ষেপ বা হতাশা প্রকাশমূলক বাক্য। এটি কিনায়া তালাকের শব্দের পর্যায়েও সরাসরি পড়ে না, কারণ এতে সরাসরি স্ত্রীকে চলে যেতে বলা বা সম্পর্ক ছিন্ন করার ইঙ্গিত সুস্পষ্টভাবে নেই। বরং এটি অন্যের অবস্থার সাথে নিজের অবস্থার তুলনা এবং একটি মানসিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।
সর্বোপরি, আপনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে:
- তার "ছাড়ার উদ্দেশ্য ছিলো না"।
- এমনকি "নিয়ত মনে নাই" বলা হলেও, "ছাড়ার উদ্দেশ্য ছিলো না" দ্বারা এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে তালাকের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল না।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, কিনায়া শব্দে তালাকের উদ্দেশ্য না থাকলে তালাক হয় না। যেহেতু এক্ষেত্রে তালাকের উদ্দেশ্যই ছিল না এবং ব্যবহৃত বাক্যটি স্পষ্ট তালাকের শব্দও নয়, তাই কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি। তার মানবিক কারণে ছাড়ার উদ্দেশ্য না থাকা বা ভবিষ্যতে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় চলে যায় তবে বাধা না দেওয়ার ইচ্ছা – এগুলো তার মানসিক অবস্থা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ, যা উক্ত বাক্য উচ্চারণের সময় তাৎক্ষণিক তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি): কিতাবুত তালাক, বাবুল কিনায়াত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৬২। (এখানে কিনায়া তালাকের বিভিন্ন শব্দ এবং সেগুলোতে নিয়তের শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে)।
- আদ-দুররুল মুখতার মা'আ রদ্দিল মুহতার (ইবনে আবিদীন): কিতাবুত তালাক, বাবুল কিনায়াত, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৫১-২৫২। (এখানেও কিনায়া তালাকের ক্ষেত্রে নিয়তের গুরুত্ব এবং বিভিন্ন শব্দের প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা আছে)।