আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। প্রিয় শায়খ,
এক বছরের কন্যা সন্তান থাকা অবস্থায় কন্যার মা বিভিন্ন অসুস্থতা সহ শারীরিক ভাবে দূর্বল থাকলে।। অর্থাৎ শিশুর মা এর সাস্থের উন্নতি এবং শিশুর বর্তমান লালন পালনের হক আদায়ের বিবেচনায় যদি পুণরায় গর্ভধারণ হতে বিরত থাকে তাহলে কি এর জন্য গুণাহ হবে?
#নোট- এই অবস্থায় এক মাস তেরো দিনের কন্সিভ করলে তা কি ইকতাদার ইজহাদ (আবর্ট) করা সম্ভব?
ওয়ালাইকুমুসসালাম ওয়া রহমানুল্লাহ।
সংক্ষেপে উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী — ifatwa.info থেকে):
1) কন্যার মা যদি শারীরিকভাবে দুর্বল থাকেন এবং পরবর্তী গর্ভধারণ স্থগিত রাখা তাঁর স্বাস্থ্য ও শিশু তত্ত্বাবকের স্বার্থে প্রয়োজনীয় মনে করেন, তাহলে অস্থায়ী প্রতিরোধক পদ্ধতি (রিভার্সিবল কনট্রাসেপশন/আসল্-জাতীয় পন্থা) ব্যবহার করা জায়েজ এবং এতে গোনাহ নেই। ঐতিহাসিকভাবে সালাফরা ‘আজল’ (শুধু প্রসব রোধের উদ্দেশ্যে বিরত রাখা) করত এবং এটি রসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেও ছিল; এতে উতরে নিষেধ পাওয়া যায়নি। (হাদিস: "আমরা রাসূলের (সা.)-এর সময়ে আজল করতাম..." — সাহিহ আল-বুখারি)
2) স্থায়ী সাবতি প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি (টিউবল লাইগেশন/ভ্যাসেক্টমি) সাধারণভাবে ইসলামিক শরিয়া অনুসারে অবাঞ্ছিত এবং শুধুমাত্র গুরুতর চিকিৎসাগত জরুরী অবস্থায় (মায়ের জীবন রক্ষার জন্য বা ডাক্তারের পরামর্শে অন্য কোনো মারাত্মক বিপদ থাকলে) শাস্ত্রীয় অনুমতি বিবেচ্য। এতেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসা ও ফিকহী পরামর্শ নেয়া জরুরি।
3) গর্ভপাত (অ্যাবরশন) সম্পর্কে: হানাফি গোত্রে সাধারণ নীতি — সহজাত কারণ ছাড়া গর্ভপাত করা মুয়াহহাদ (নিষিদ্ধ)। যদি গর্ভধারণের কারণে মায়ের জীবন বা স্থায়ী স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার প্রকৃত ও গুরুতর ভয় থাকে এবং ডাক্তার তা প্রমাণ করে, তবেই প্রয়োজনে গর্ভপাত শাস্ত্রীয়ভাবে বিবেচিত হতে পারে। গর্ভাবস্থার ১ মাস ১৩ দিনের (প্রায় ৪৩ দিন) অবস্থায় গর্ভপাত করা কেবলমাত্র মাতৃস্বাস্থ্যের গুরুতর ঝুঁকি বা চিকিৎসাগত অত্যাবশ্যকতার ভিত্তিতেই জায়েজ; শুধুমাত্র দুর্বলতা বা পরবর্তী সন্তান লালনের কষ্টকে সন্তোষজনক কারণ ধরে গর্ভপাত করা অনুমোদিত নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের লিখিত পরামর্শ ও স্থানীয় জামো আলেমের নির্দেশ লওয়া উচিত।
সারাংশ: পরবর্তী গর্ভধারণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা (রিভার্সিবল পদ্ধতি) জায়েজ এবং গোনাহ নয়; আর ইতিমধ্যে গর্ভধারণ হয়ে থাকলে সাধারণত অ্যাবরশন নিষিদ্ধ — কেবল মায়ের জীবন/স্বাস্থ্যের গুরুতর বিপদের ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত জরুরীতা থাকলে অনুমতি পাওয়া যেতে পারে। বিস্তারিত ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের আগে স্থানীয় আলেম ও চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ নিন।