ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি মাজহাবের সংক্ষিপ্ত উত্তর এবং অন্যান্য প্রধান মাজহাবের মত নিচে দেওয়া হলো:
---
ফরজ রোজা কাজা আদায়: চার প্রধান মাজহাবের মত
যেসব ফরজ রোজা (যেমন রমজানের রোজা) কোনো বৈধ কারণে (যেমন অসুস্থতা, সফর, ঋতুস্রাব) বা অবৈধভাবে ছুটে যায়, সেগুলো পরে কাজা করা সর্বসম্মতভাবে ফরজ। তবে কাজা আদায়ের পদ্ধতি ও বিলম্বের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাজহাবের ভিন্ন মত রয়েছে।
---
১. হানাফি মাজহাব (সংক্ষিপ্ত উত্তর)
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, ছুটে যাওয়া ফরজ রোজা কাজা করা
ফরজ (বাধ্যতামূলক)।
- কাজা আদায়ের সময়সীমা: কাজা রোজা দ্রুত আদায় করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়), তবে অবিলম্বে আদায় করা ওয়াজিব নয়। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি চাইলে তার সুবিধা অনুযায়ী ধীরে ধীরে বা একবারে কাজা আদায় করতে পারে।
- বিলম্বের বিধান: যদি কেউ কোনো বৈধ ওজর (যেমন দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা) ছাড়া কাজা রোজা আদায়ে বিলম্ব করে, তাহলে তা মাকরুহ তানযিহি (অপছন্দনীয়), তবে এর জন্য কোনো অতিরিক্ত কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) দিতে হয় না। তবে, যদি কেউ কাজা রোজা আদায় না করেই মারা যায়, তাহলে তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে প্রতিটি রোজার জন্য একজন মিসকিনকে অর্ধ সা’ (প্রায় ১.৭৫ কেজি) গম বা তার সমপরিমাণ মূল্য ফিদিয়া হিসেবে আদায় করতে হবে।
- ধারাবাহিকতা: কাজা রোজাগুলো ছুটে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় আদায় করা জরুরি নয়।
- নিয়ত: কাজা রোজার নিয়ত ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে রাতে করতে হবে।
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার আলাদ্দুররিল মুখতার (ফতওয়া শামী), ইবন আবিদীন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪২৩-৪২৪, باب القضاء
---
২. মালিকি মাজহাব
মালিকি মাজহাব অনুযায়ী, ছুটে যাওয়া ফরজ রোজা কাজা করা ফরজ (বাধ্যতামূলক) এবং এটি দ্রুত আদায় করা ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক)।
- বিলম্বের বিধান: যদি কেউ কোনো বৈধ ওজর (যেমন অসুস্থতা) ছাড়া কাজা রোজা আদায়ে পরবর্তী রমজান আসা পর্যন্ত বিলম্ব করে, তাহলে তাকে কাজা রোজাগুলো আদায় করতে হবে এবং বিলম্বের জন্য প্রতিটি রোজার বিপরীতে একজন মিসকিনকে এক মুদ্দ (প্রায় ৫০০-৬০০ গ্রাম) খাদ্যশস্য ফিদিয়া হিসেবে দিতে হবে।
---
৩. শাফিঈ মাজহাব
শাফিঈ মাজহাব অনুযায়ী, ছুটে যাওয়া ফরজ রোজা কাজা করা ফরজ (বাধ্যতামূলক) এবং পরবর্তী রমজান আসার আগেই তা আদায় করা ওয়াজিব।
- বিলম্বের বিধান: যদি কেউ কোনো বৈধ ওজর ছাড়া কাজা রোজা আদায়ে পরবর্তী রমজান আসা পর্যন্ত বিলম্ব করে, তাহলে তাকে কাজা রোজাগুলো আদায় করতে হবে এবং বিলম্বের জন্য প্রতিটি রোজার বিপরীতে একজন মিসকিনকে এক মুদ্দ (প্রায় ৫০০-৬০০ গ্রাম) খাদ্যশস্য ফিদিয়া হিসেবে দিতে হবে।
---
৪. হাম্বলি মাজহাব
হাম্বলি মাজহাব অনুযায়ী, ছুটে যাওয়া ফরজ রোজা কাজা করা ফরজ (বাধ্যতামূলক) এবং পরবর্তী রমজান আসার আগেই তা আদায় করা ওয়াজিব।
- বিলম্বের বিধান: শাফিঈ ও মালিকি মাজহাবের মতোই, যদি কেউ কোনো বৈধ ওজর ছাড়া কাজা রোজা আদায়ে পরবর্তী রমজান আসা পর্যন্ত বিলম্ব করে, তাহলে তাকে কাজা রোজাগুলো আদায় করতে হবে এবং বিলম্বের জন্য প্রতিটি রোজার বিপরীতে একজন মিসকিনকে এক মুদ্দ (প্রায় ৫০০-৬০০ গ্রাম) খাদ্যশস্য ফিদিয়া হিসেবে দিতে হবে।
---
সারসংক্ষেপ:
চারটি মাজহাবই ফরজ রোজা কাজা করাকে বাধ্যতামূলক মনে করে। তবে, কাজা আদায়ের সময়সীমা এবং বিলম্বের ক্ষেত্রে হানাফি মাজহাবের সাথে অন্য তিনটি মাজহাবের মূল পার্থক্য হলো: হানাফি মাজহাব বিলম্বে শুধু মাকরুহ তানযিহি বলে, কোনো ফিদিয়া বা কাফফারা ওয়াজিব করে না (তবে মৃত্যুর আগে না আদায় করলে ওয়ারিশদের উপর ফিদিয়া আসে)। অন্যদিকে, মালিকি, শাফিঈ এবং হাম্বলি মাজহাব বিলম্বে ফিদিয়াকে অতিরিক্ত ওয়াজিব করে, যদি কোনো বৈধ ওজর ছাড়া পরবর্তী রমজান পর্যন্ত কাজা রোজা আদায় না করা হয়।