🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম , ১/ আমার শশুরের প্রয়োজনের বাইরেও জমিজমা আছে এবং দীর্ঘদিন যাবত ওনার হয়ে ছেলেরা কুরবানির টাকার যোগান দিচ্ছেন, শরিক হিসেবে নাম আমার শশুরের থাকে। ১ বছর যাবতকাল থেকে আমার স্বামীর কাছে ২.৫ লাখের কম বেশি কিছু টাকা শুধু সম্পদ হিসেবে ছিল এবং এখন যেটা আরো কিছুটা বেশি এবং এর মধ্যেই সে একটা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে। সে ক্ষেত্রে তার উপর যাকাত এবং কুরবানির ফয়সালা কি? ২/ তার উপর যদি কুরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে শরিক হিসেবে তার নাম দিতে হবে কিনা? নাকি পরিবারের পক্ষ থেকে ২ ভাগ দিচ্ছি উল্লেখ করলেই হবে? যেটা করতে চাওয়া হচ্ছে। উপরন্তু যদি পরিবারের কেউ সেটাকে ১ ভাগে হচ্ছে না ভেবে ২ ভাগে শরিক হচ্ছে ভাবে তাহলে কি কুরবানির নিয়ত পরিপূর্ন হবে? ৩/ ৩ বছর কাল যাবত আমার কাছে ২৬ আনা স্বর্ন ও কয়েকমাস যাবত ৩ আনা রুপা আছে , আমার উপর যাকাত এবং কুরবানি যায়েজ কিনা?
ওয়ালাইকুমাসসালাম। নিচে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী ifatwa.info-র মতানুসারে সংক্ষেপে জবাব দিলাম (তথ্যসূত্র: Al‑Hidayah — Kitab al‑Udhiyah ও Kitab al‑Zakah):

1) আপনার স্বামীর ওপর যাকাত ও কুরবানির ফয়সালা
- যাকাত: যদি তার মোট নগদ/দ্রব্য (ব্যালান্স, জমা, বিনিয়োগে যেটা সে ব্যক্তি মালিক) nisab-এ পৌঁছেছে এবং সেই পরিমাণ এক খেজুরি (হয়ল = ১ চন্দ্রবছর) ধরে তার মালিকানায় রইেছে, তাহলে 2.5% (১/৪০) যাকাত ওয়াজিব। যদি nisab না হয় বা হাওল পূর্ণ না হয়ে থাকে, তখন যাকাত ওয়াজিব নয়।
- Nisab হিসাবের ক্ষেত্রে হানাফি অটল সূচক: সোনার 87.48 গ্রাম (অথবা রূপার nisab ব্যবহার করলে তিনি রূপার 612.36 গ্রাম অনুযায়ী গণনা করবেন) — আপনার দেশি মূল্য দিয়ে বর্তমান সোনার মূল্যে তুলনা করুন।
- কুরবানি (উদহীয়া): হানাফি শরিয়তের অনুযায়ী কুরবানি ওয়াজিব হয় তার ওপর যদি ঈদুল আজহা (১০ জুলহিফা‑ইয়ার ভোরবেলা)‑র সময়ে তার হাতে nisab-র সমমূল্য সম্পদ থাকে। অর্থাৎ কেবল মাসিক/ক্ষুদ্র জমা নয় — ঈদের ভোরে তাকে nisab সমমূল্য সম্পদ থাকতে হবে। যদি তখন নেই, কুরবানি তার ওপর ওয়াজিব হবে না। (নোট: কুরবানি‑র জন্য হাওল প্রয়োজন নয়; কেবল nisab‑এর উপস্থিতি জরুরি।)

আপনি বলছেন কোনো স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন — সেটা যদি নিজের সম্পদে বিনিয়োগ/জমা থাকে বা যথাযথ মালিকানা থাকে, তাতে যাকাত কি হবে তা মালিকানার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। (যদি টাকা সম্পূর্ণভাবে অন্যত্র হস্তান্তর করে দেন এবং আপনি মালিক না থাকেন, তাহলে আপনার ওপর নয়।)

2) শরিক হিসেবে নাম দেওয়ার ব্যাপার ও নিয়ত
- কুরবানি ওয়াজিব হলে অনুরূপভাবে সেই ব্যক্তির জন্য কুরবানি করানো জরুরি। নাম কাগজে লিখে “শরিক” হিসেবে রাখতে বাধ্যতা নেই; যে ব্যক্তি খরচ দিবে বা যিনি পশু কোরবানি করবেন, কেবল তার নিয়ত (ইনটেনশন) স্পষ্ট হলে যথেষ্ট। অন্য কথায়, যদি পরিবারের কেউ তার পক্ষ থেকে কুরবানি করে এবং সেই কুরবানিটি উদ্দেশ্য করে “فلان کے عنائے” (এই ব্যক্তির পক্ষ থেকে) — তৎক্ষণাৎ তা বৈধ।
- এক পশুতে একাধিক লোকের অংশ নেওয়া: হানাফি মতে গরু/উট/বৈকালিংঃ এক আলোতে একাধিক লোক শেয়ার করতে পারে (প্রত্যেকের অংশ অনুযায়ী) — সাধারণত গরু/উট একাধিক ব্যক্তির মধ্যে ভাগ করা যায় (শর্ত অনুযায়ী)। ছোট পশু (ছাগল/ভেড়ার)‑এ প্রত্যেক জনকে নিজেকেই একটি পশু দরকার।
- যদি পরিবারের কেউ ওই ব্যক্তিকে “শরিক” রেখে দুই ভাগ দেখিয়ে থাকে (অর্থাৎ দুই ভাগের মধ্যে এক ভাগ তার নামে করা হয়) এবং নিয়ত সঠিকভাবে করা হয় (তিনি/তারা স্পষ্টভাবে বলেন: এটা فلان‑এর জন্য), তাহলে কুরবানির নিয়ত পরিপূর্ণ বলে গণ্য হবে। মূল বিষয়: নিয়ত স্পষ্ট ও উদ্দেশ্য তার পক্ষে করা হওয়া — নাম বোর্ডে থাকা বাধ্য নয়।

3) আপনার কাছে ৩ বছর ধরে থাকা ২৬ আনা সোন (এবং কয়েক মাস ধরে ৩ আনা রূপা) — যাকাত/কুরবানি হবে কি?
- সিদ্ধান্তের প্রধান কটক: এগুলোর মোট ওজন/মূল্য nisab‑এর সমপরিমাণ কি না এবং সোনায় হাওল পূর্ণ হয়েছে কি না।
- যদি ২৬ আনা সোন‑এর ওজন/মূল্য বর্তমান বাজার মূল্য হিসেবে সোনার nisab (≈ 87.48 গ্রাম)‑এর সমান বা অধিক হয় এবং সেই পরিমাণ আপনার মালিকানায় এক বছর (হাওল) ধরে ছিল, তাহলে যাকাত (২.৫%) ওয়াজিব। যদি হাওল না পেরিয়ে থাকে, আজও যাকাত ওয়াজিব নয়।
- কুরবানি: কেবল ঈদের ভোরে আপনার হাতে যদি সোনার মূল্য nisab সমান বা অধিক থাকে, তখন কুরবানি ওয়াজিব হবে (হাওল প্রয়োজন নেই)।
- ৩ আনা রূপা সাধারণত খুবই ছোট পরিমাণ; সম্ভাব্যভাবে nisab‑এর তুলনায় বহুত কম হবে — তাই সাধারণত তার ওপর যাকাত/কুরবানি হবে না। কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আপনার সোনার মোট ওজন (গ্রামে) বা বাজার মূল্য হিসাব করে nisab‑এর সঙ্গে তুলনা করুন।

চূড়ান্তভাবে করণীয়: আপনার এবং স্বামীর মোট যেকোনো অন্য সম্পদ (নগদ, ব্যাংক ব্যালান্স, বিনিয়োগ, স্বর্ণ/রূপা ইত্যাদি) একত্র করে বর্তমান বাজার মুল্যে nisab‑এর সঙ্গে তুলনা করুন; যাকাত জন্য হাওল পূরণ হয়েছে কি না যাচাই করুন; কুরবানি‑র জন্য ঈদের ভোরে nisab থাকলে ওই ব্যক্তির পক্ষে কুরবানি করাতে হবে বা পরিবারের কেউ তার পক্ষে করাতে পারে — নিয়ত স্পষ্ট রাখবেন।

তথ্যসূত্র (একটি): Al‑Hidayah (Kitab al‑Udhiyah ও Kitab al‑Zakah) — হানাফি ফিকহ।