আসসালামু আলাইকুম। ব্যাংক থেকে পাওয়া লভ্যাংশ/মুনাফা মানুষের মাঝে দিয়ে দিতে চাচ্ছি। যাদের দিতে চাচ্ছি, তাদের অবস্থা নিম্নরূপ:
১। প্রথমজন- উনার একটি জমি আছে, যেটা একটা কোয়া/খালের মতো। যেটা থেকে কোনো লাভলস কিছুই আসেনা, পরিত্যাক্ত জায়গা। একটা স্বর্ণের নাকফুল আছে। আর ১৮ ক্যারেটের কয়েক আনার ভাঙ্গা কানের দুল থাকতে পারে (অনিশ্চিত)। হাতে কোনো জমানো টাকা-পয়সা নেই। খুবই কষ্টে দিন যাচ্ছে বর্তমানে। ঋণগ্রস্ত। ছেলে আছে কিছু, ২জন কাজ করে বাকীরা পড়াশোনা করছে। যারা কাজ করছে তাদেরও হালতও অতো ভালো না বর্তমানে। আর উনার স্বামী মানসিকভাবে সুস্থ না।
২। দ্বিতীয়জন: উনার একটা দোকান আছে গ্রামে। তবে দোকানের জমি তার মালিকানাধীন না। জমানো আর কিছুই নেই। ঋণগ্রস্ত।
৩। তৃতীয়জন: উনার কিছু ছাগল আছে। একটা স্বর্ণের নাকফুল আছে। ছোট দুইটা বাচ্চা আছে। স্বামী বেকার, এক্সিডেন্ট করে কাজ করার এবিলিটি অর্ধেক হারিয়ে ফেলছে।
৪। চতুর্থজন: খুব অভাবী, স্বামী নেই। নিজে কাজ করে সংসার চালায় গ্রামে।
৫। অভাবী, ঋণগ্রস্ত, যাকাতের হক্বদার।
ওয়ালাইকুমুস সালাম। যদি ব্যাংক থেকে পাওয়া লভ্যাংশ/মুনাফা হয় সাধারণ (কনভেনশনাল) সুদ/রিবা — এটি হারাম। কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী রিবা বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে (বিবিধ আয়াতসমূহে নিষিদ্ধ কওয়া হয়েছে), দেখুন: "فَإِن تَبْتُمْ فَلَهُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِهِمْ لَا يَظْلِمُونَ وَلَا يُظْلَمُونَ" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৯)।
প্রয়োগ (হানাফী ফিকহ অনুসারে সহজ ও প্রাঞ্জলভাবে) — সংক্ষিপ্তভাবে:
1) যদি লভ্যাংশটি রিবা/হারাম থেকে আসে:
- সেই টাকা নিজে রাখা যাবেনা আর ন্যা’য়ব-ইবাদতের উদ্দেশ্যে (যেমন নিয়ত করে সওয়াব নেওয়ার জন্য) ব্যবহার করা যাবে না।
- এটিকে বিতরণ করে নিজের নেকী হিসেবে লিখানোও ঠিক নয়; বরং সম্পদ পরিশোধ (تَطْهِير) করার জন্য দীনদার দরিদ্রদের হাতে দান করা উত্তম। এই দান নৈতিক পরিশোধের উদ্দেশ্যে দেবেন; জান্নাতের সরাসরি সওয়াব ধরার নিয়ত নয়।
- এগুলো জাকাত হিসেবে গণ্য করা যাবে না। জাকাতের জন্য আলাদা, শুদ্ধ (হালাল) সম্পদ থেকে জাকাত দেওয়া লাগিব।
- দান করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হলো সত্যিই দরিদ্র/অভাবীদের দেওয়া; কোনো বাড়তি সুবিধা বা নিজস্ব ব্যয়-জাত কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
2) যদি লভ্যাংশটি শযূর-হালাল (যেমন ইসলামী ব্যাংক/মজারা/শেয়ার যেখানে হারাম উপাদান নেই) হয়ে থাকে, তাহলে তা সম্পূর্ণভাবে হালাল এবং সেটি চান যেভাবে চান — সাধারণ দান, জাকাত বা ব্যয়েই ব্যবহার করা যাবে।
আপনার তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে প্রয়োগ (সংক্ষিপ্ত পয়েন্ট):
- ১ নম্বর: বস্তিব্যর্থ, নিত্যচাহিদায় কষ্ট, ঋণগ্রস্ত — সাধারণত দরিদ্র/মাহতাজ; রিবা-টাকা দিয়ে সাহায্য করা যায় (পরিশোধ/তহবিল হিসেবে দান করে নিজের সম্পদ পরিশোধ করবেন)।
- ২ নম্বর: দোকান আছে কিন্তু মালিকানায় জমি নেই, ঋণগ্রস্ত — দরিদ্র; দেওয়া যায়।
- ৩ নম্বর: কিছু ছাগল ও স্বর্ণনাজফুল রয়েছে — যদি তাদের মোট সম্পদের মূল্য নিসাব অতিক্রান করে, তাহলে তারা নিসাবভোগী হতে পারে; নাহলে দরিদ্র। (বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শ: মোট সম্পদ যাচাই করে নিন)। রিবা টাকা দিয়ে সাহায্য করা যায় যদি তারা সত্যিই দরিদ্র।
- ৪ ও ৫ নম্বর: যদি তারা স্পষ্টভাবে অভাবী ও ঋণগ্রস্ত ও যাকাতের হকদার বলে থাকেন, তবে রিবা-টাকা দিয়ে সাহায্য করা যায় (কিন্তু জাকাত হিসেবে গণ্য নয়)।
সংক্ষেপে কার্যপদ্ধতি:
- প্রথমে নিশ্চিত করুন লভ্যাংশটি কিসের মুল থেকে আসছে — যদি হারাম (রিবা) হয়, তা নিজের নেকীর জন্য ব্যবহার নয়, বরং দরিদ্র/মাহতাজদের মাঝে বণ্টন করে নিজের ধন্যবাদ-অর্জন দেখাবেন না; এটি সম্পদ পরিশোধ করা ধরা হবে।
- যাদের দেবেন, তারা প্রকৃতই দরিদ্র হলে সমস্যাই নেই; যদি কারো কাছে ন্যূনতম নিসাব(স্বর্ণ/নগদ/ছাগল ইত্যাদি) থাকে, তাদের ওপর দান না করার জরুরি নয় — তবে জানুন সেটি তাদের স্থিতি বদলে দিতে পারে।
- লভ্যাংশ যদি হালাল হয়, তাহলে আপনি স্বাভাবিকভাবে দান ও জাকাত সবকিছু করতে পারেন।
(উপরে রিবা-নিষেধের আইনী উৎস হিসেবে কুরআন বলেছে — সূরাহ আল-বাকারা: ২৭৯)