সবার বউ চলে যায় আমার টা তো যায় ও না - এক্ষেত্রে নিয়ত থাকলে তালাক হবে? এটা কিনায়া কিভাবে হলো কিনায়া তে তো তালাক জাতীয় শব্দ উল্লেখ থাকতে হয় এটা তো ইচ্ছা প্রকাশ শুধু। এ জাতীয় কথায় নিয়ত কাউন্ট করে কিভাবে।
হ্যাঁ, যদি এই কথা বলার সময় স্বামীর তালাকের 'নিয়ত' (উদ্দেশ্য) থাকে, তাহলে তালাক সংঘটিত হবে।
বিশ্লেষণ:
1.
'কিনায়াহ' কী এবং কেন এটা কিনায়াহ?
* "সবার বউ চলে যায় আমার টা তো যায় ও না" – এই বাক্যটি সরাসরি তালাকের শব্দ (যেমন: "তোমাকে তালাক দিলাম" বা "তুমি তালাক") নয়। তবে, এতে স্ত্রীর কাছ থেকে বিচ্ছেদ বা তার প্রস্থানের আকাঙ্ক্ষা বা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে।
* হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, যে সকল শব্দ বা বাক্য সরাসরি তালাকের জন্য ব্যবহৃত হয় না কিন্তু বিচ্ছেদ, পৃথকীকরণ, বা চলে যাওয়ার অর্থ ধারণ করে এবং তালাকের সম্ভাবনা রাখে, সেগুলোকে ‘তালাকে কিনায়াহ’ (অপ্রকাশ্য বা ইঙ্গিতপূর্ণ তালাক) বলা হয়।
* "চলে যায়" শব্দটি প্রস্থানের ইঙ্গিত বহন করে, যা বিবাহ বিচ্ছেদের সাথে সম্পর্কিত। তাই, এই বাক্যটি তালাকে কিনায়াহ-এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তালাকে কিনায়াহ-তে "তালাক" শব্দটি সরাসরি উল্লেখ থাকা জরুরি নয়। বরং এমন কোনো শব্দ বা বাক্য, যা বিচ্ছেদ বা সম্পর্ক ছিন্ন করার অর্থ বোঝায়, তা নিয়ত সহকারে তালাকে কিনায়াহ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
2.
নিয়ত কাউন্ট করে কিভাবে?
* তালাকে কিনায়াহ কার্যকর হওয়ার জন্য স্বামীর ‘নিয়ত’ (intention) থাকা অপরিহার্য। স্বামী যদি এই কথা বলার সময় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্য করে থাকেন, তাহলে তালাক পতিত হবে। যদি তার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিরক্তি প্রকাশ, দুঃখ প্রকাশ, বা অন্য কিছু হয় এবং তালাকের কোনো উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে তালাক হবে না। নিয়ত সম্পূর্ণভাবে স্বামীর অন্তরের বিষয়, যা তিনি নিজেই সবচেয়ে ভালো জানেন।
সিদ্ধান্ত:
যদি স্বামী এই বাক্যটি বলার সময় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার নিয়ত করে থাকেন, তাহলে এক বায়েন তালাক সংঘটিত হবে। এই তালাকের পর ইদ্দত পালন করতে হবে এবং ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। পুনরায় একসাথে থাকতে চাইলে নতুন করে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আল-ফাতাওয়া আল-আলমগীরিয়া), কিতাবুত তালাক, বাবুল কিনায়াত:
"وكل لفظ يحتمل الطلاق وغيره فهو كناية، ولا يقع به الطلاق إلا بالنية أو دلالة الحال."
(অনুবাদ: "যে সকল শব্দ তালাক এবং অন্যান্য অর্থ উভয়ই ধারণ করে, সেগুলো কিনায়াহ। এবং এগুলোর মাধ্যমে তালাক পতিত হবে না, যতক্ষণ না নিয়ত বা অবস্থার ইঙ্গিত দ্বারা তা প্রমাণিত হয়।")