একবার আরো আগে বিভিন্ন নিউজ এ মানুষের স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার নিউজ দেখি, চলে যাওয়ার৷ তো নিজে নিজে বলি ( হইতে পারে মনে মনে ঠোট নেড়ে হালকা আওয়াজ শুনছিলাম হয়তো মবে নাই)। আমাদের টা যায় ও না, আমাদের টা বেশি ভালো হয়ে গেছে৷ আমার টাও যদি চলে যাইতো! এরকম বললে কি তালাক হয়
না, আপনার এই ধরনের কথায়
তালাক সংঘটিত হবে না।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত উত্তর ও ব্যাখ্যা:
১.
তালাকের স্পষ্ট বা পরোক্ষ শব্দ: তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য হয় সুস্পষ্টভাবে তালাকের শব্দ (যেমন: "আমি তোমাকে তালাক দিলাম," "তুমি তালাকপ্রাপ্তা") উচ্চারণ করতে হয়, অথবা তালাকের নিয়তে এমন কোনো পরোক্ষ (কিনায়াহ) শব্দ ব্যবহার করতে হয় যা তালাকের ইঙ্গিত বহন করে (যেমন: "তুমি তোমার বাপের বাড়ি চলে যাও," "তুমি মুক্ত")।
২.
আপনার উক্তির বিশ্লেষণ: আপনার উল্লেখিত বাক্যটি ("আমার টাও যদি চলে যাইতো!") কোনো সুস্পষ্ট তালাকের শব্দ নয়। এটি একটি আকাঙ্ক্ষামূলক বা কল্পিত পরিস্থিতির প্রতিধ্বনি মাত্র, এর দ্বারা আপনি আপনার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কোনো কার্য সম্পাদন করেননি। এতে তালাকের কোনো উদ্দেশ্যও প্রতিফলিত হচ্ছে না, বরং এটি মানুষের স্ত্রীর চলে যাওয়ার খবর শুনে আপনার মনের একটি বিরূপ বা হতাশাজনক ভাবনা মাত্র।
৩.
নিছক চিন্তা বা হালকা আওয়াজ: শুধুমাত্র মনে মনে কোনো কিছু চিন্তা করলে (হাদিসুন নাফস) তালাক হয় না। এমনকি যদি খুব হালকা আওয়াজে ঠোঁট নেড়ে বিড়বিড় করে থাকেন এবং তাতে তালাকের সুস্পষ্ট নিয়ত না থাকে এবং উচ্চারণকৃত শব্দগুলো তালাকের ইঙ্গিতবহ না হয়, তবুও তালাক হবে না। তালাক কার্যকর হতে হলে এমন শব্দ উচ্চারণ করতে হয় যা সাধারণত তালাকের ইঙ্গিত দেয় এবং তার পেছনে তালাকের সুনির্দিষ্ট নিয়ত থাকে (যদি শব্দগুলো কিনায়া হয়)।
সুতরাং, আপনার এই উক্তিটি তালাক বলে গণ্য হবে না।
তথ্যসূত্র:
- আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক, বাবুত তালাকিস সারীহ ওয়াল কিনায়াহ (Al-Hidayah, Kitab al-Talaq, Bab al-Talaq al-Sareeh wal Kinayah): এই কিতাবে তালাকের সুস্পষ্ট (সারিহ) ও পরোক্ষ (কিনায়াহ) শব্দ এবং তাদের শর্তাবলী বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আপনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দগুলো কোনোটির আওতায় পড়ে না, কারণ এতে তালাকের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ঘোষণাই নেই, বরং একটি পরিস্থিতি নিয়ে কল্পনামাত্র।