🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আগের প্রশ্ন গুলা অনেক মাথায় ঘুরে। তো সামনে পরীক্ষা। নিজেকে শান্তনা দি ওগুলা নিয়া চিন্তা না করতে। হুজুর রা ফতোয়া দিছে ওটাই ফাইনাল। এখন নিজের পরীক্ষার পড়ায় মন দেওয়ার জন্য নিজেকে যদি বলি - ( কখনো মনে মনে, কখনো হালকা আওয়াজ এ অনেক বার ) " এই এক মাস তালাক হয়ে যাক, চলে যাক, মরে যাক, চলে যাক ইত্যাদি যা কিছু হোক তুমি মাথা ঘামাই ও না, এক মাস পরে সব দেখবো" * এই হয়ে যাক বলতে আমি বুঝাইছি আগের ফতোয়া গুলার ক্ষেত্রে হয়ে গেলে যাক মাথা ঘামাবো না এমন না যে নতুন করে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলছি। আবার মনে হইলো এটা এখনি উদ্দেশ্য করে ধরা হইলো নাতো। বাট আমি জানি এটা আগের ফতোয়া গুলার জন্যই বলছি ***কিন্তু হঠাত মনে হইলো এগুলা যে বললাম এগুলা তো সরীহ শব্দ হয়ে গেলো। প্রশ্ন, এতে তালাক হয়ে গেলো নাতো? ভয়ে আছি আর এটা যদি ওয়াসওয়াসা হয় কোর্স তো বিশাল একটু শটে যদি কিছু দিতেন।
আপনার প্রশ্ন এবং অবস্থা বিবেচনা করে, ইফতাওয়া.ইনফো (ifatwa.info) অনুযায়ী হানাফি মাজহাবের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো:

আপনার বর্ণিত পরিস্থিতিতে কোনো তালাক পতিত হয়নি।

ব্যাখ্যা:

আপনি যে বাক্যগুলো ব্যবহার করেছেন— "এই এক মাস তালাক হয়ে যাক, চলে যাক, মরে যাক, চলে যাক ইত্যাদি যা কিছু হোক তুমি মাথা ঘামাই ও না, এক মাস পরে সব দেখবো"— এগুলো আপনি নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য এবং আগের ফতোয়াগুলো নিয়ে চিন্তা বন্ধ করার জন্য বলেছেন, আপনার স্ত্রীকে নতুন করে তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী:

1. নিয়ত বা উদ্দেশ্য (Intention): তালাকের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে শব্দগুলো সরীহ বা স্পষ্ট তালাকের জন্য ব্যবহৃত হয় না (যেমন: "তোমাকে তালাক দিলাম" বা "তুমি তালাক"), বরং কিনিয়া বা অস্পষ্ট শব্দ (যেগুলোর একাধিক অর্থ হতে পারে) সেখানে তালাক পতিত হওয়ার জন্য তালাকের স্পষ্ট উদ্দেশ্য থাকা আবশ্যক। আপনার ক্ষেত্রে, আপনার স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল নিজেকে ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্ত করা, স্ত্রীকে তালাক দেওয়া নয়।
2. শব্দের প্রকৃতি (Nature of Words): "তালাক হয়ে যাক" বাক্যটি সরাসরি তালাক ঘোষণার (সরেহ তালাকের) শব্দ নয়। এটি বরং একটি ইচ্ছামূলক বা অনুমতিকমূলক বাক্য, যা একটি পরিস্থিতির প্রতি আপনার অনীহা বা চিন্তার অবসান ঘটাতে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি এমন নয় যে, আপনি আপনার স্ত্রীকে সরাসরি বলছেন "তুমি তালাক"।
3. ওয়াসওয়াসা (Waswasa): আপনি যেহেতু নিজেই উল্লেখ করেছেন এটি ওয়াসওয়াসা হতে পারে, ইসলামি শরীয়তে ওয়াসওয়াসাগ্রস্ত ব্যক্তির অনিচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যহীন কথাকে তালাকের ক্ষেত্রে সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয় না, বিশেষত যদি তার সুস্পষ্ট তালাকের উদ্দেশ্য না থাকে। আপনার কথাগুলো আপনার চিন্তাকে বশে আনার একটি প্রচেষ্টামাত্র, যা তালাকের ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত হবে না।

অতএব, আপনার বর্ণিত কথাগুলো দ্বারা আপনার স্ত্রীর উপর কোনো তালাক পতিত হয়নি। আপনি নিশ্চিন্তে আপনার পরীক্ষার পড়াশোনায় মন দিতে পারেন।

রেফারেন্স: