আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
79 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (20 points)
১. `` মাহাম " এবং " মাহাসা " এই দুইটা আরবি শব্দ | এই শব্দ দুইটার বাংলা অর্থ হলো " সিংহী বা মেয়ে  সিংহ " | এখন প্রশ্ন হলো : মুসলিম মেয়ে  বাচ্চাদের কি এমন নাম রাখা জায়েজ ?


২. মুরুব্বিরা বলে , সন্তান জন্মের আগে তার জন্য কিছু কিনলে , বাবুর ক্ষতি হয় বা বাবু মারা যায় | ইসলামে কি আসলেও এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া আছে ? আমি যদি আমার সন্তান জন্মের আগে , তার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনি , তাহলে কি আমার বাবু মারা যাবে ? বা তার কোনো ক্ষতি হবে ?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
মাহাম (ماہم / Maham)
উৎস: ফারসি / উর্দু থেকে ধরা হলে এর অর্থ: চাঁদ বা চাঁদের মতো সুন্দর

‘মাহ’ (ماہ) মানে চাঁদ, আর ‘-আম’ যুক্ত হয়ে স্নেহবাচক রূপ নিয়েছে।

মাহাসা (ماهسا / Mahasa বা Mahsa)

উৎস: ফারসি থেকে ধরা হলে এর অর্থ: চাঁদের মতো বা চাঁদের সৌন্দর্যসম্পন্ন কন্যা

ফারসিতে ‘ماه’ (মাহ) = চাঁদ, ‘-سا’ (সা) = মতো/সদৃশ।

উক্ত অর্থে উপরোক্ত নাম দুটি রাখা যাবে।
এর অর্থ সিংহী ধরা হলেও সেই নাম রাখা নাজায়েজ হবেনা।

(০২)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
ইমরান বিন হুসাইন (রদ্বি, ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন,

لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَطَيَّرَ، أَوْ تُطُيِّرَ لَهُ أَوْ تَكَهَّنَ، أَوْ تُكُهِّنَ لَهُ أَوْ سَحَرَ، أَوْ سُحِرَ لَهُ-

, ‘‘সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি (কোন বস্ত্ত, ব্যক্তি কর্ম বা কালকে) অশুভ লক্ষণ বলে মানে অথবা যার জন্য অশুভ লক্ষণ দেখা (পরীক্ষা) করা হয়, যে ব্যক্তি (ভাগ্য) গণনা করে অথবা যার জন্য (ভাগ্য) গণনা করা হয়। আর যে ব্যক্তি যাদু করে অথবা যার জন্য (বা আদেশে) যাদু করা হয়।’’ (ত্বাবারানী ১৪৭৭০, সহীহুল জামে’ ৫৪৩৫ ,সিলসিলা ছহীহা ২১৯৫)

এগুলোতে বিশ্বাস করা শিরক। এভাবে শুভ অশুভ নির্ণয়ের বিধান প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ (স) বলেন,

اَلطِّيَرَةُ شِرْكٌ

‘কুলক্ষণে বিশ্বাস করা শিরক’।[আবুদাঊদ, তিরমিযী; মিশকাত, ৪৫৮৪]

আব্দুল্লাহ বিন আমর বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স) একদা বললেন, কুলক্ষণ যে ব্যক্তিকে কোন কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে, নিশ্চয়ই সে শিরক করে। ছাহাবীগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উহার কাফফারা কি হবে? তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি বলবে-

اَللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُكَ وَلاَ طَيْرَ إِلاَّ طَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

‘হে আল্লাহ! আপনার কল্যাণ ছাড়া কোন কল্যাণ নেই। আপনার সৃষ্ট কুলক্ষণ ছাড়া কোন কুলক্ষণ নেই। আর আপনি ছাড়া কোন মা‘বূদও নেই’    [আহমাদ ৭০৪৫, সিলসিলা ছহীহা ১০৬৫]

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
এটা স্পষ্ট কুঃসংস্কার। বানোয়াট একটি বিষয়।
এটি বিশ্বাস করা জায়েজ নেই। এটি বিশ্বাস করা ঈমানের জন্য ক্ষতিকর। 
ইসলামে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া নেই।

সুতরাং আপনি যদি আপনার সন্তান জন্মের আগে , তার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করে ,তাহলে  এর দরুন আপনার বাবু মারা যাবেনা,এর দরুন তার কোনো ক্ষতি হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...