আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
127 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (21 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ উস্তায।

উস্তায, আমার স্বামী প্রচন্ড ঘাড়ত্যাড়া। যে কোন বিষয় যৌক্তিক বা অযৌক্তিক হোক চূড়ান্ত ঘাড়ত্যাড়ামি করে, লিমিটের বাইরে কথাবার্তা বলে৷ যা যেকোন রক্ত মাংসের মানুষের পক্ষে সহ্য করা দুঃসাধ্য। কোন তর্কে জেতার জন্য পুরনো কাহিনী ঘাটা, ছোটবড় সব জিনিসের খোটা দেয়া, এক কথাই ১০০বার রিপিট করে ঝগড়াকে ঘন্টার ঘন্টা তরতাজা রাখা তার মূল অস্ত্র।

স্বামীকে কোন বিষয় নিয়ে ইসলাহ করতে চাইলে তিনি শুনেন না। যেমনঃ মেয়ে বড় হয়েছে মেয়ে ঘুমালে তার রুমে যেওনা, কারন তার কাপড় ঠিক থাকেনা। বাচ্চাদের সামনে এত খোলামেলা ভাবে ড্রেস চেইঞ্জ কইরোনা, এই ধরনের কথাও তাকে দিনের পর দিন বলতে বলতে শুনেনা, উলটো কোন বিষয় বলার পর বাজেভাবে রিয়্যাক্ট করে, অপমান করে কথা বলে। সে ঘরের কর্তা, তার উপর কোন বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবেনা এ ধরনের কথা বলে।।।

সে একজন শিক্ষক। কলেজের বা নিজের ব্যাচের স্টুডেন্ট দের নিয়ে বিভিন্ন ইভেন্ট ফেসবুকে আপ্লোড করে। আমি মেয়েদের ছবি দিতে নিষেধ করেছি, একান্তই দিতে হলে ফেইসে স্টিকার দিয়ে দিতে বলেছি। মিউজিক সহ স্টোরি শেয়ার করতে নিষেধ করেছি বহুবার। নিষেধ বলতে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে আদবের সাথে বুঝিয়ে বলেছি। কিন্তু সে শুধু আচ্ছা আর করবোনা বলে আর সেগুলোর তোয়াক্কা করেনা।।।

এছাড়াও তার সাথে যেকোন বিষয়ে পরামর্শ বা আলোচনা করতে গেলে এক পর্যায়ে হুট করেই তা বড় ঝগড়ায় রূপ নেয়। বাসায় যতক্ষণ থাকে ফোন নিয়ে থাকে। স্ত্রী সন্তানের হক বলতে অর্থনৈতিক দিক সামলানোর বাইরে সে আর কিছু বুঝতে বা মানতে রাজি না। অশ্লীল গালিগালাজ করে সুযোগ পেলেই।

এসব কারনে তার সাথে অনেক ঝগড়াঝাটি হয়, ঝগড়াঝাটি দেখে দেখে বাচ্চারা বিগড়ে যাচ্ছে। আর আমারও তার উপর উচ্চস্বরে কথা, তর্কাতর্কি, মারামারি-হাতাহাতি হয়ে যাচ্ছে বারংবার। আমাকে সুযোগ পেলেই রোজগারের খোটা দেয়, লাথি মেরে বের করে দিবে বলে দাপট দেখায়, এসবের জন্য আমারও জেদ উঠে। প্রচুর ঝগড়াঝাটি হয়

উস্তায, এমতাবস্থায় আমার কি করনীয়?

১. আমার কি তাকে ইসলাহ করা কন্টিনিউ করা উচিত?

২. আলোচনা/পরামর্শ বেশিরভাগই ঝগড়ায় রূপ নেয়, এক্ষেত্রে করনীয় কি?

৩. বিয়ের আগে আমি একদম কোমল, নমনীয় এবং শান্ত একটা মেয়ে ছিলাম। বিয়ের পর অনেকগুলো বছর এসব আচরন সহ্য করতে করতে একসময় প্রতিবাদ করা শুরু করেছি। আর এখন তার সাথে তাল মিলিয়ে আমি যেন আমার আখলাককে সর্বনিকৃষ্ট বানিয়ে ফেলেছি বলে মনে হয়।

আমাকে প্লিজ কিছু নাসীহা করুন উস্তায। আমার মাঝে মাঝে খুলা তালাক নিতে ইচ্ছা করে।কিংবা মরে যেতে ইচ্ছা করে।বাচ্চাকাচ্চা সংসারের মায়া ত্যাগ করে দূরে কোথাও চলে যেতে ইচ্ছা করে।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন,

 وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ فَإِن كَرِهۡتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰٓ أَن تَكۡرَهُواْ شَيۡٔٗا وَيَجۡعَلَ ٱللَّهُ فِيهِ خَيۡرٗا كَثِيرٗا [النساء: ١٩] 

আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস কর। আর যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোন কিছুকে অপছন্দ করছ আর আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রাখবেন। [সূরা আন-নিসা: ১৯] 

রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেনঃ  

فَاتَّقُوا اللّٰهَ فِى النِّسَاءِ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللّٰهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللّٰهِ وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَه فَإِنْ فَعَلْنَ ذٰلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

‘‘তোমরা তোমাদের নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে। কেননা তোমরা তাদেরকে গ্রহণ করেছো আল্লাহর আমানাত হিসেবে এবং আল্লাহর নামে তাদের গুপ্তাঙ্গকে হালাল করেছো। তাদের ওপর তোমাদের হাক্ব হলো তারা যেন তোমাদের বিছানায় এমন কাউকেও আসতে না দেয়, যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা তা করে, তবে তাদেরকে মৃদু প্রহার করবে। আর তোমাদের ওপর তাদের হাক্ব হলো, তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের খাদ্য ও পোশাকের ব্যবস্থা করবে।’’
সহীহ : মুসলিম ১২১৮, আবূ দাঊদ ১৯০৫, নাসায়ী ২৭৬১, ইবনু মাজাহ ৩০৭৪, ইবনু আবী শায়বাহ্ ১৪৭০৫, দারিমী ১৮৯২।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْقُشَيْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا حَقُّ زَوْجَةِ أَحَدِنَا عَلَيْهِ؟، قَالَ: «أَنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طَعِمْتَ، وَتَكْسُوَهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ، أَوِ اكْتَسَبْتَ، وَلَا تَضْرِبِ الْوَجْهَ، وَلَا تُقَبِّحْ، وَلَا تَهْجُرْ إِلَّا فِي الْبَيْتِ» 

হাকীম ইবন মুআবিয়া রহ. তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! স্বামীদের উপর স্ত্রীদের কী হক? তিনি বলেন, “যা সে খাবে তাকেও (স্ত্রী) খাওয়াবে, আর সে যা পরিধান করবে তাকেও তা পরিধান করাবে। আর তার (স্ত্রীর) চেহারার উপর মারবে না এবং তাকে গালাগাল করবে না। আর তাকে ঘর হতে বের করে দিবে না। [আবু দাউদ: হাদীস নং ২১৪২।] 

আরো জানুনঃ- 

প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,

إِذَا صَلَّتِ الْمَرْأَةُ خَمْسَهَا، وَصَامَتْ شَهْرَهَا، وَحَصَّنَتْ فَرْجَهَا، وَأَطَاعَتْ بَعْلَهَا، دَخَلَتْ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ.

‘‘রমণী তার পাঁচ ওয়াক্তের নামায পড়লে, রমযানের রোযা পালন করলে, ইজ্জতের হিফাযত করলে ও স্বামীর তাবেদারী করলে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে।
(মিশকাতুল মাসাবিহ ৩২৫৪।)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيْ النِّسَاءِ خَيْرٌ؟ قَالَ: «الَّتِي تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ وَتُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَ وَلَا تُخَالِفُهُ فِي نَفْسِهَا وَلَا مَالِهَا بِمَا يَكْرَهُ» . رَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَان

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, কোন্ রমণী সর্বোত্তম? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে স্বামী স্ত্রীর প্রতি তাকালে তাকে সন্তুষ্ট করে দেয়, স্বামী কোনো নির্দেশ করলে তা (যথাযথভাবে) পালন করে এবং নিজের প্রয়োজনে ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধাচরণ করে না।
হাসান :
(নাসায়ী ৩২৩১, আহমাদ ৭৪২১, ইরওয়া ১৭৮৬, সহীহাহ্ ৮৩৩৮, সহীহ আল জামি‘ ৩২৯৮.মিশকাত ৩২৭২।)

★স্ত্রীর নিকট স্বামীর মর্যাদা বিরাট। এই মর্যাদার কথা ইসলাম নিজে ঘোষণা করেছে। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, ‘‘স্ত্রীর জন্য স্বামী তার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।’’

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 
একবার এক নারী সাহাবী রাসূলের কাছে এলেন নিজের কোনো প্রয়োজনে। যাওয়ার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি স্বামী আছে? তিনি বললেন, জী, আছে। নবীজী বললেন, তার সাথে তোমার আচরণ কেমন? সে বলল, আমি যথাসাধ্য তার সাথে ভালো আচরণ করার চেষ্টা করি। তখন নবীজী বললেন, فانظري أين أنت منه، فإنما هو جنتك ونارك
 হাঁ, তার সাথে তোমার আচরণের বিষয়ে সজাগ থাকো, কারণ সে তোমার জান্নাত বা তোমার জাহান্নাম। (মুআত্তা মালেক, হাদীস ৯৫২; মুসনাদে আহমাদ, ৪/৩৪১ হাদীস ১৯০০৩; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ২৭৬৯; সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস ১৪৭০৬)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
যখন তিনি শান্ত, অধিকাংশ সময় ফোন/সামাজিক মাধ্যম না দেখে — ব্যক্তিগত নিরিবিলি সময়ে নম্র কণ্ঠে কথা বলুন।

ভাষা বদলান: “তুমি এটা ঠিক করো না” না বলেও বলুন, “আমরা/বাচ্চাদের জন্য আমি উদ্বিগ্ন, তুমি কি আমাকে সাহায্য করবে?” — সমস্যা ব্যক্তিগত আক্রমণ করে নয়, পারিবারিক সুরক্ষার দিক থেকে উত্থাপন করুন।

সংক্ষিপ্ত, এক বিষয়ে একবারে বলুন। বারবার একই বিষয় নিলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া বাড়ে।

★এতেও কাজ না হলে তাকে ইসলাহ করা কন্টিনিউ করা উচিত হবেনা।

(০২)
যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে ঝগড়ায় রূপ নেয়, সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা না করার পরামর্শ থাকবে।

তারপরও ঝগড়া হলে সেক্ষেত্রে পারিবারিক মুরব্বিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার পরামর্শ রইল।

(০৩)
যেহেতু প্রতিবাদ করে কোন কাজ হচ্ছে না, তাই এক্ষেত্রে প্রতিবাদ না করার পরামর্শ রইল।

আপনি চেষ্টা করবেন নিজের ঈমান আমল সংরক্ষণ রাখার।

আর আল্লাহর কাছে দোয়া চালিয়ে যাবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...