আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
142 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (21 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম।
হাদিসে দোয়ার আগে হামদ ও দুরুদ পড়ে দোয়া করার কথা আসছে। কিন্তু নামাজের সালাম ফিরিয়ে আমরা হাদিসে বর্ণিত অনেক গুলো দোয়া পড়ি যেমন
১) আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম....

২) আল্লাহুম্মা আইন্নি আ'লা যিকরিক....

আমার প্রশ্ন

১) এমন আরো দোয়া আছে। এগুলোর আগে আমরা আলাদা করে হামদ ও দুরুদ পড়ি না কেন?

২) সকাল সন্ধ্যায় হেফাজতের জন্য অনেক দোয়া আছে যেমন بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِيْ الْأَرْضِ وَلاَ فِيْ السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ (যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ও বিকালে তিনবার এই দুআ পড়বে, কোনো কিছুই তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।)

এই দোয়া ফজরের পর বাকি দোয়ার সাথে পড়লে আগে হামদ ও দুরুদ না পড়লে হবে কিনা জানাবেন।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত
عن عائشة، قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا سلم لم يقعد إلا مقدار ما يقول: «اللهم أنت السلام، ومنك السلام، تباركت يا ذا الجلال والإكرام»
তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাঃ ফরয নামাযে সালাম ফিরানোর পর 'আল্লাহুম্মা আনতাস-সালাম ওয়া মিনকাস-সালাম তাবারাকতা ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম' বলার পরিমাণ সময় ব্যতীত বসতেন না বরং পরবর্তী সুন্নত/নফল নামাযে দাড়িয়ে যেতেন।(যদি সুন্নত নফল থাকতো) (সুনানু ইবনি মা'জা-৯২৪-শামেলা)

ويكره تأخير السنة إلا بقدر اللهم أنت السلام
ফরযের পর সুন্নত কে পূর্ববর্তী দু'আর চেয়ে বেশী দেড়ী করা মাকরুহ। (আদ্দুর্রুল মুখতার-১/৫৩০)

সুতরাং যে সব নাসাযের পর সুন্নত নফল রয়েছে,সে সব নামাযে সুন্নত নফলের পরই যিকির দু'আ পড়া উত্তম আর যে সব নামাযে পরবর্তী সুন্নত নফল নেই সে সব নাসাযে ফরযের পরপরই দু'আ যিকির পড়া উত্তম।
ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-৫/৬৬৪(ফারুকিয়া করাচি তাহকিককৃত)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/2293

সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে  ফরয নামাযের পর 'আল্লাহুম্মা আনতাস-সালাম ওয়া মিনকাস-সালাম তাবারাকতা ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম' 

এই দুআর বেশী পড়া প্রমাণিত নয়। তাই এত্থেকে বেশী না পড়াই সুন্নাহ। তাছাড়া বিভিন্ন দু'আর বেলায় যতটুকু বর্ণিত ততটুকুই পড়া সুন্নাহ। হামদ ও দুরুদ পড়ার পৃথক ফযিলত রয়েছে। তবে যে সমস্ত জায়গায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়, তখন না পড়াই সুন্নাহ। বিশেষ করে দু'আয়ে মাছুরা তথা দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সব দু'আ বর্ণিত রয়েছে,সেই সব দু'আর ক্ষেত্রে যেহেতু হামদ ও দুরুদ সহকারে বর্ণিত হয়নি, তাই এক্ষেত্রে হামদ ও দুরুদ ব্যতিত শুধুমাত্র ঐ সব দু'আ পড়াই উচিত।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (21 points)
আসসালামু আলাইকুম। তাহলে ফরজ নামাজের পর যে আয়াতুল কুরসি, তাসবিহ (৩৩,৩৩,৩৪) ইত্যাদি পড়তে হয় সেটা সুন্নতের পর পড়ব? যেমন যোহর,মাগরিব ও এশার পর?
by (814,710 points)
জ্বী, সুন্নতের পর পড়বেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...