আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
163 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (7 points)
আমি আমার পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান আমার বড় বোন আর ভাই ছোট.  ছোট থেকে মায়ের অবহেলার সন্তান আমি,  একে একে তিনজন মেয়ে হওয়ার কারনে আমার মা আমাকে আর আমার ছোট বোনকে খুভ অবহেলা করতো. ছোট বোনটা ৭ মাস বয়সে ঠান্ডায় নিউমোনিয়া হয়ে মারা যায়, তারপর থেকে কিছু সময় সে আমাকে কাছে রাখছ বা আদর করতো. কিন্তু তার কিছু বছর পরে ছোট ভাই হওয়ার পর থেকে মায়ের চোখের বিষ হয়ে যাই আমি, সব সময় সব কিছুতেই সব দোষ আমার উপর দিতো. দু বোন কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া বা ঝামেলা হলে আব্বুর কাছে বিচার দিতো তোমার ছোট মেয়ের সব দোষ, ভাইয়ের সাথে কখনো কিছু ঝামেলা হলে তখন ও বলতো সব আমার দোষ,  মায়ের এই অন্যায় বিচার এ কখনো রাগ হয়ে কিছু বললে বা প্রতিবাদ করলে তখনো পুরো দুনিয়া, আত্তীয়-সজন,  পারা প্রতিবেশী সবার কাছে আমাকেই খারাপ প্রমান করতো. তারপরও তাদের পছন্দ মতো তাদের ইচ্ছেতেই আমার থেকে প্রায় ২০ বছরের বড় বয়স্ক একজন লোক কে বিয়ে করলাম বা বাধ্য হলাম. অথচ আমার স্বামীর কোন দোষ বা কিছু কারো সামনে আসলে বা কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে সবার কাছে এটা প্রমান করতে ব্যস্ত হয়ে যায় যে আমি নিজের ইচ্ছায় নিজের পছন্দে তাদের অমতে বিয়ে করেছি, অনেক টা লাভ ম্যরেজ করে পালিয়ে গেছি এমন ভাবে প্রকাশ করে,  অথচ সম্পুর্ন বিয়েটাই তাদের পছন্দে তাদের ইচ্ছাতেই করা. বিয়ের পর থেকে তাদের কে কোন কিছু দিলে বা গিফট করলে বা মাঝে মাঝে খাবার পাঠালে দুনিয়ার কারো কাছে বলতে নিষেধ করে, আর এদিক দিয়ে কেউ যদি কখনো আমার বিষয় কিছু জিজ্ঞেস করে তখন তাদের কাছে আমার আর আমার স্বামীর নামে এত্ত এত্ত বদনাম বলে আর এক কথায় বলে আমি সন্তান হিসাবে কোন দ্বায়িত্ব পালন করিনা, তারা না খেয়ে মরে গেলেও কখনো ফিরেও তাকাই না. কখনো তাদের একটা সুতার কাপড় ও গিফট করিনা, এক কথায় আমি কোনদিন তাদের কিছু দেই ই না. খুভ খারাপ সন্তান আমি. এরপর আবার যদি রাগ হয়ে কখনো কোন দ্বায়িত্ব অবহেলা করি বা তারা বলেছে আজ ভাইয়ের জন্মদিন তারা ঘুরতে যাবে পুরো ফ্যামিলি আমাকেও যেতেই হবে আর সেখানের অধেক খরচ আমাকে দিতেই হবে এই বিষয় রাজি হইনি বলে আমাকে ফোন করে অনেক খারাপ ভাষায় বকা দিয়েছে, আমার স্বামী সন্তানের সামনে ফোন করে অপমান করেছে, আবার আমার স্বামী যখন আমার সন্তান কে নিয়ে বাইরে গেছে রাস্তায় তাদের সাথে দেখা হওয়াতে আমার স্বামীর সামনে আমার ছেলের কাছে বলেছে আমাকে মারবে আমার বাবা. এভাবে বার বার আত্বীয়-স্বজন, পারা প্রতিবেশী,  স্বামী -সন্তানের সামনে বাবা মা যদি হেনস্তা করে অপমান করে, অসম্মান করে.  তখন সন্তান হিসাবে আমি কি করতে পারি?? আমি যদি তাদের সাথে যোগাযোগ যাওয়া আসা ফোনে কথা বলা বন্ধ করে দেই, কিন্তু যথা সম্ভব নিজের দ্বায়িত্ব গুলো, ঈদে তাদের পোশাক, রমজানের ইফতারির টাকা /খাবার, বা মাঝে মাঝে যথা সম্ভব বাজার করে ছোট ভাই বা আমার ছেলে মেয়ের মাধ্যমে তাদের কাছে পাঠাই,,  তাহলে কি আমার গুনাহ হবে??  বাবা মায়ের এমন আচরনের পর সন্তান হিসেবে আমি কি করতে পারি??

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ۖ وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا ۖ وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ۚ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।(সূরা লুকমান-১৪/১৫)

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا
তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।(সূরা বনি ইসরাঈল-২৩)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মাতাপিতার সাথে সর্বদা উত্তম আচরণ করবেন। তাদের সাথে কখনই দুর্ব্যবহার বা রাগ করবেন না। 
বিশেষ হেকমতে তাদের সাথে যোগাযোগ বা যাওয়া আসা ও ফোনে কথা বলা বন্ধ করে দিয়ে , যথা সম্ভব নিজের দ্বায়িত্ব গুলো যেমন, ঈদে তাদের পোশাক, রমজানের ইফতারির টাকা /খাবার, বা মাঝে মাঝে যথা সম্ভব বাজার করে দেওয়া। বাবা মায়ের সাথে এভাবে আচরণ করলে, আশা করা যায়, কোনো সমস্যা বাকী থাকবে না়


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...