আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
99 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম উস্তায। আমি একজন মেয়ে, আমার বিয়ে হয়েছে ২.৫ বছর হয়ে যাচ্ছে, বিয়ে টা হয়েছে দ্বীনদার পাটনার ওয়েবসাইট থেকে, উনি ওইখান থেকে আমার বায়ো নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয় আমি আমার বাসায় জানায়, বাসায় জানানোর পর আমার বড় বোন বলেন তোমরা নিজেরা বিয়ে করে ফেলো (কারণ আমাদের ফ্যামিলির অবস্থা তখন খুব ক্রিটিকাল ছিলো তাই ফ্যামিলিয়াল ভাবে বিয়ে দেওয়া টা তখন পসিবল ছিলো না, আমার বাবা নাই ভালো কোন অভিভাবক ও নাই) ওইদিকে পাত্রের বাবা তাকে এখন বিয়ে  করাতে চান না তাই নিজের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছিলেন সেও চাচ্ছিলো নিজেরা বিয়ে করে ফেলতে,, যাইহোক পরে আমরা অনেকদিন ইস্তেখারা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যেহেতু নিজেরা বিয়ে করতেছি ফ্যামিলি ছাড়া তাই কাবিন ১৫লাখ ধরা হয়েছিলো যেনো ফ্যামিলি জানার পর বিয়ে ভাংতে না পারে,,, এখন আড়াই বছর পর এসে ২ফ্যামিলি চায় অনুষ্ঠান করে আমাদের বিয়ে টা কে ঠিকঠাক করতে এই আড়াই বছর আমরা সংংসার করতেছি আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমার যিনি শশুড় উনি মারাত্মক জটিল আর ঝামেলা করার মানুষ,, মানে উনাকে উনার ছেলেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না উনি অতিরিক্ত বদমেজাজি, ঘাওড়া মানুষ,,  এখন উনি চায় এই কাবিন কমিয়ে ৫লাখে নিয়ে যাইতে নতুন করে আবার কাবিন করবে ৫লাখ করবে আর গোল্ড দিয়ে পুরোটা উসুল করে দিবে,,, উনি বলতেছে ভবিষ্যতে কোন ঝামেলা হলে উনার আত্নীয়স্বজন কোন ঝামেলা করতে চাইলে এই কাবিন তখন গলার কাটা হয়ে দাঁড়াবে তাই উনি কোন রিস্ক নিতে চান না সব শেষ করে মিটিয়ে ফেলতে চান,, ওইদিকে আমার ফ্যামিলি বেশি ভয় পাচ্ছে উনাকে উনি কাবিন কমিয়ে উসুলি দিয়ে পরে যদি আমাকে বিদায় করে দেন এই ভয়ে উনারা ও কাবিন কমানোর ব্যাপারে রাজি না।। আমি নিজে বুঝতেছি না আমি কি করবো, ওইদিকে আমার শশুড় আমার জামাইকে প্রেসার দিচ্ছে কাবিন কমাইতেই হবে আমার ফ্যামিলি রাজি না থাকলে নাই আমি কি চাই সেটা উনি জানতে চায়, মানে উনার কথা মেয়ে কি চায়, আমি কমানোর ব্যাপারে রাজি থাকলে উনি ব্যবস্থা করবে আর আমি রাজি না থাকলে উনিও আর এই ব্যাপারে আগাবে না।।। আমাদেরকে মেনে ও নিবে না,।। এখন আমার কি করা উচিত আমার পরামর্শ চায়,,,  আমার নিজের ও আমার শশুড়কে ভয় লাগে উনি অনেক জটিল আর রগচটা মানুষ আমাকে বাসায় উঠিয়ে নিলেও শান্তি দিবে না, আমার শাশুড়ী নাই উনি আরকেটা বিয়ে করছে,,  এই ২.৫ বছরে কখনো নাম ও জিজ্ঞেস করে নাই, আমাকে অনেক নেগেটিভ ভাবেই নেয় উনি,,  যাইহোক এমতাবস্থায় আমি কি করবো আমাকে একটু পরামর্শ দিন।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী বিয়েতে মোহর অপরিহার্য,এটা স্ত্রীর হক।

আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ  

واحل لكما ما وراء ذلكم ان تبتغوا باموالكم محصنين غير مسافحين فما استمتعتم به منهن فاتوهن اجورهن فريضة ولا جناح عليكم فيما تراضيتم به من بعد الفريضة ان الله كان عليما حكيما

উল্লিখিত নারীরা ছাড়া অন্যদেরকে তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে, যে স্বীয় সম্পদ দ্বারা প্রয়াসী হবে তাদের সাথে বিবাহবন্ধনে, ব্যভিচারে নয়। অতএব তাদের নিকট থেকে তোমরা যে আনন্দ উপভোগ করেছ (সে কারণে) তাদের ধার্যকৃত মোহর তাদেরকে প্রদান করবে। আর মোহর নির্ধারিত থাকার পরও কোনো বিষয়ে পরস্পর সম্মত হলে তাতে তোমাদের কোনো অপরাধ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।-সূরা নিসা : ২৪

 ★মোহর সম্পূর্ণরূপে নারীর প্রাপ্য। তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া অন্য কারো তাতে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। সুতরাং স্বামী যেমন স্ত্রীকে মোহর থেকে বঞ্চিত করতে, কিংবা পরিশোধ করার পর ফেরত নিতে পারে না তেমনি পিতা-মাতা, ভাইবোন বা অন্য কেউ নিজ কন্যার, বোনের বা আত্মীয়ার মোহর তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছাড়া নিতে পারে না। নিলে তা হবে কুরআনের ভাষায় অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা হবে।

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনাদের বিবাহের কাবিন নামায় মোহরানা হিসেবে যে ১৫ লক্ষ টাকার কথায় লেখা ছিল, এই ১৫ লক্ষ টাকাই আপনার মোহরানা হিসেবে সাব্যস্ত হবে।

এক্ষেত্রে পুনরায় যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আপনাদের বিবাহ দেওয়া হয়, তাতে যে মোহর উল্লেখ করা থাকবে সেই মোহর এবং বিবাহ কোনোটিই শরীয়তের দৃষ্টিকোণ হতে গ্রহণযোগ্য হবে না।

আপনাদের যে প্রথমবার বিবাহ পড়ানো হয়েছিল, প্রথমবার বিবাহের মোহরানাটাই এক্ষেত্রে মোহরানা হিসেবে ধার্য থাকবে।

সুতরাং পরবর্তীতে যদি এটিকে কমিয়ে দেওয়া হয়, সেটা কমবে না বরং আগেরটিই ধার্য থাকবে।

তবে যদি আপনি সন্তুষ্টি চিত্তি মোহরানা কমিয়ে দেন বা সম্পূর্ণ মোহরানা স্বামীকে মাফ করে দেন, সেটার অধিকার শরীয়ত আপনাকে দিয়েছে।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে শ্বশুরের ধমকি ও রাগ থেকে বাঁচার লক্ষ্যে আপনি যদি মোহরানা কমিয়ে দেন,এক্ষেত্রে যেহেতু আপনার সন্তুষ্টিতে এমনটি হচ্ছে না, অনেকটা চাপে পরে হচ্ছে,তাই শরীয়তের দৃষ্টিকোণ হতে এক্ষেত্রে মোহরানা কমবেনা।
আগের ১৫ লক্ষ টাকাই ধার্য্য থাকবে 

হ্যাঁ যদি আপনি সন্তুষ্টি চিত্তে ১৫ লক্ষ টাকা হতে ১০ লক্ষ ক্ষমা করে দেন, তাহলে সমস্যা নেই, এতে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষমা হয়ে যাবে। আর যে ৫ লক্ষ টাকার স্বর্ণ তিনি মোহরানা হিসেবে দিবেন, সেটির দরুন মোহরানা আদায় হয়ে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...