আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
49 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম হুজুর।

শুরুতেই আমার সালাম নিবেন।

প্রশ্ন ১-
★ রাসূল (ছাঃ) বলেন, নবীগণের সংখ্যা হল, ১,২৪,০০০। তার মধ্যে ৩১৩ জন, অন্য বর্ণনায় ৩১৫ জন রাসূল (আহমাদ, সনদ হাসান, আলোচনা দ্রঃ সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬৬৮; ফাৎহুলবারী ১০/১০৪; মিশকাত হা/৫৭৩৭)।

এই বিবরণ কি কুরআন হাদিস অনুসারে সত্যি?

প্রশ্ন ২-
★ রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আদম ও নূহ (আঃ)-এর মাঝে দশ শতাব্দীর ব্যবধান ছিল (হাকেম হা/৩৬৫৪; ছহীহ ইবনু হিববান হা/৬১৯০; ছহীহাহ হা/২৬৬৮)

নূহ (আঃ) ও ইব্রাহীম (আঃ)-এর মাঝে দশ শতাব্দীর ব্যবধান ছিল (হাকেম হা/৪০১৬; ছহীহাহ হা/৩২৮৯)।

মূসা (আঃ) ও ঈসা (আঃ)-এর মাঝে ব্যবধান এক হাযার সাতশত বছর (তাফসীরে কুরতুবী ৬/১৬)

এই তিনটি বিবরণ কি কুরআন হাদিস অনুসারে সত্যি?

1 Answer

0 votes
by (766,140 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ
مِنْهُم مَّن قَصَصْنَا عَلَيْكَ وَمِنْهُم مَّن لَّمْ نَقْصُصْ عَلَيْكَ

“আর অবশ্যই আমি তোমার আগে বহু রাসুল পাঠিয়েছি।
তাদের মধ্যে কিছুর কাহিনি আমি তোমাকে বলেছি,
আর কিছুর কাহিনি বলিনি।”
(সূরা গাফির: ৭৮)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَمِ الْأَنْبِيَاءُ  قَالَ: مِائَةُ أَلْفٍ وَأَرْبَعَةٌ وَعِشْرُونَ أَلْفًا قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَكَمِ الرُّسُلُ؟ قَالَ: ثَلَاثُ مِائَةٍ وَثَلَاثَةَ عَشَرَ، جَمًّا غَفِيرًا

আবু যর (রা.) বলেন: আমি বললাম,
“হে আল্লাহর রাসুল! নবিগণের সংখ্যা কত?”
তিনি বললেন, “এক লক্ষ চব্বিশ হাজার।”
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, “হে আল্লাহর রাসুল! রাসুল কতজন?” তিনি বললেন,
“তিনশ তেরো জন—যারা অনেক।”
(মুসনাদ আহমাদ: ২১৪৭০, তাবারানি আল-মু‘জামুল কাবীর)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
উক্ত হাদীসটি জয়ীফ। 
ইমাম ইবনু কাসীর, ইমাম ইবনু তাইমিয়্যা (রহ.) প্রমুখ আলেম এ বিষয়ে দুর্বলতার কথা বলেছেন।

তবে নবি রাসুলের সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্যটি মিথ্যা নয়। এটি বিশ্বাস যোগ্য।

(০২)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنَبِيٌّ كَانَ آدَمُ؟ قَالَ: نَعَمْ، مُكَلَّمٌ قِيلَ: فَكَمْ كَانَ 
بَيْنَهُ وَبَيْنَ نُوحٍ؟ قَال: عَشْرَةُ قُرُونٍ

হযরত আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ কে জিজ্ঞাসা করা হলো, “হে আল্লাহর রাসুল! আদম কি নবী ছিলেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” জিজ্ঞেস করা হলো, “আদম ও নূহের মাঝে কত সময়?”
তিনি বললেন, “দশ কুরূন (শতাব্দী/প্রজন্ম)”।
(হাকেম ৩৬৫৪; ইবনু হিববান ৬১৯০; সিলসিলা ছহীহাহ ২৬৬৮)

ইমাম হাকেম হাদীসটিকে সহিহ বলেছেন।

সুতরাং এ তথ্যটি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

★নূহ (আঃ) ও ইব্রাহীম (আঃ)-এর মাঝে দশ শতাব্দীর ব্যবধান ছিল।

এটি সহীহ নয়।

অনেকে হাদীসটিকে মওকুফ বলেছেন। তবে যেহেতু বর্ণনাটি হাদিসে এসেছে তাই এটি বিশ্বাস যোগ্য।

★মূসা (আঃ) ও ঈসা (আঃ)-এর মাঝে ব্যবধান এক হাযার সাতশত বছর।

এটি হাদীসের কোনো কিতাবে পাইনি।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...