আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
92 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (8 points)
সম্মানিত উস্তাদ

প্রশ্ন ১:,আমার হাসবেন্ড রা ২ ভাই।আমার হাসবেন্ড এর টাকা পয়সা কম,কিন্তু ছোট ভাইয়ের টাকা পয়সা আমাদের থেকে বেশি। সেক্ষেত্রে আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি ২জনেই সারাদিন আমার হাসবেন্ড কে বদদোয়া করে, যে কোনদিন ও টাকা পয়সা হবে না। আর ছোট ছেলের জন্য দোয়া করে আল্লাহ তায়ালা জেন ওনার টাকা পয়সার পরিমান আর ও বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ছোট ছেলে অন্যায় করেছে, তাদের পরিবারের মান সম্মান নষ্ট করেছে এলাকায় উনাদের পরিবার ও লাঞ্চিত হয়েছে ছোট ছেলের জন্য। ছোট ছেলের অন্যায়ের জন্য ১৫লাখ টাকা ও ওদের শেষ হয়েছে। তবুও ছোট ছেলের জন্য দোয়া করে প্রতিনিয়ত। কিন্তু আমার হাসবেন্ড এর টাকা পয়সা হবে না কোনদিন ও এরকম দোয়া করে,হাদিসে এসেছে মায়ের দোয়া কবুল হয়, সেক্ষেত্রে মা যদি সব সময় অন্যায় না থাকা সত্ত্বে ও এরকম বদদোয়া করেন। তাহলে কি এরকম দোয়া কবুল হবার সম্ভাবনা আছে??

প্রশ্ন ২:আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি আমাকে প্রচন্ড মানসিক কষ্ট দেয়,সারাদিন ই উনারা আমাকে এটা ওটা মিন করে বলে যে উনাদের টাকায় চলতেছে আমার হাসবেন্ড আর আমি ও।সারাদিন কাজ করে রেস্ট নিলে ও কথা শুনতে হয়, সেক্ষেত্রে আমি যদি উনারা মিথ্যা বলার সময় সত্যি টা বলি, তাহলে কি মুখে মুখে তর্ক করার কারনে আমার গুনাহ হবে??আমার হাসবেন্ড সামান্য তুচ্ছ কারনে রাগারাগি করে এবং কথায় কথায় বলে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিবে।প্রচন্ড মানসিক যন্ত্রণা পেয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত শ্বশুর বাড়ির সবার থেকেই। আমার হাসবেন্ড এর মুখে মুখে যদি আমি ও কিছু কথার জবাব দেই, তাহলে কি আমার গুনাহ হবে??

জাজাকুমুল্লাহু খাইর উস্তাদ।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
পিতামাতার জন্য রাগের অবস্থায় সন্তানদের বদ দুয়া,অভিশাপ দেওয়া উচিত নয়। 
কারন কোন সময় যে আল্লাহ তায়ালা সেসব বদ দুয়া কবুল করে নিবেন,তাহা কেহই বলতে পারেনা।
এমনও হতে পারে যে পিতা মাতা বুঝে না বুঝে অযথাই সন্তানের জন্য বদ দুয়া করলো, আল্লাহ তায়ালা তা পুরোপুরি ভাবে কবুল করে নিলো,তখন এটা সন্তানের জন্য শাস্তির কারন হয়ে দাড়াবে।
বিষয়টি পিতামাতাকে বুঝানো দরকার।

উভয় পক্ষ থেকেই চেষ্টা করা দরকার,যে এই অবস্থায় যেনো পৌছাতে না হয়।

পিতা মাতা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এহেন কথা না বলার,আর সন্তান চেষ্টা করবে,এমন কোনো কাজ না করার,যাতে পিতা মাতা কষ্ট পায়।
(কিতাবুল ফাতওয়া ৬/২১৪)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِي جَعْفَرٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَادَتِ امْرَأَةٌ ابْنَهَا، وَهْوَ فِي صَوْمَعَةٍ قَالَتْ يَا جُرَيْجُ. قَالَ اللَّهُمَّ أُمِّي وَصَلاَتِي. قَالَتْ يَا جُرَيْجُ. قَالَ اللَّهُمَّ أُمِّي وَصَلاَتِي. قَالَتْ يَا جُرَيْجُ. قَالَ اللَّهُمَّ أُمِّي وَصَلاَتِي. قَالَتِ اللَّهُمَّ لاَ يَمُوتُ جُرَيْجٌ حَتَّى يَنْظُرَ فِي وَجْهِ الْمَيَامِيسِ. وَكَانَتْ تَأْوِي إِلَى صَوْمَعَتِهِ رَاعِيَةٌ تَرْعَى الْغَنَمَ فَوَلَدَتْ فَقِيلَ لَهَا مِمَّنْ هَذَا الْوَلَدُ قَالَتْ مِنْ جُرَيْجٍ نَزَلَ مِنْ صَوْمَعَتِهِ. قَالَ جُرَيْجٌ أَيْنَ هَذِهِ الَّتِي تَزْعُمُ أَنَّ وَلَدَهَا لِي قَالَ يَا بَابُوسُ مَنْ أَبُوكَ قَالَ رَاعِي الْغَنَمِ ".

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক মহিলা তার ছেলেকে ডাকল। তখন তার ছেলে গীর্জায় ছিল। বলল, হে জুরায়জ! ছেলে মনে মনে বলল, হে আল্লাহ্! (এক দিকে) আমার মা (এর ডাক) আর (অন্য দিকে) আমার সালাত! মা আবার ডাকলেন, হে জুরাইজ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ্! আমার মা আর আমার সালাত! মা আবার ডাকলেন, হে জুরায়জ! ছেলে বলল, হে আল্লাহ্! আমার মা ও আমার সালাত। মা বললেন, হে আল্লাহ্! পতিতাদের সামনে দেখা না যাওয়া পর্যন্ত যেন জুরায়জের মৃত্যু না হয়। এক রাখালিনী যে বকরী চরাতো, সে জুরায়জের গীর্জায় আসা যাওয়া করত। সে একটি সন্তান প্রসব করল। তাকে জিজ্ঞেস করা হল- এ সন্তান কার ঔরসজাত? সে জবাব দিল, জুরায়জের ঔরসের। জুরায়জ তাঁর গীর্জা হতে নেমে এসে জিজ্ঞেস করলো, কোথায় সে মেয়েটি, যে বলে যে, তার সন্তানটি আমার? (সন্তানসহ মেয়েটিকে উপস্থিত করা হলে) জুরায়জ বলেন, হে বাবূস! তোমার পিতা কে? সে বলল, বকরীর অমুক রাখাল। (বুখারী ১২০৬.২৪৮২, ৩৪৩৬, ৩৪৬৬; মুসলিম ৪৫/২, হাঃ ২৫৫০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১১২৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১১৩৩)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে এক্ষেত্রে বদ দুয়া কবুল হবেনা,ইনশাআল্লাহ।

তদুপরি প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে মায়ের সাথে ভালো ব্যবহার করার পরামর্শ থাকবে,হিকমতের সহিত দ্বীন বুঝানো অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি যেনো আল্লাহর কাছে আপনার স্বামীর জন্য ক্ষমা চান,এই দোয়া করতে বলতে হবে।

তাহলে আশা করি আর কোনো সমস্যা হবেনা।

আরো জানুনঃ- 

(০২)
আপনি যদি উঁচু বাক্য ব্যবহার না করেন,সেক্ষেত্রে শাশুড়ীর কাছে সঠিক কথা বলায় আপনার গুনাহ হবেনা।

তবে কথা-কাটাকাটি করবেননা।
ধৈর্য ধারন করার চেষ্টা করবেন।
তার জন্য হেদায়াতের দোয়া করবেন।

প্রয়োজনে পারিবারিক মুরব্বিদের মাধ্যমে মিটিং করে তাদেরকে এহেন ব্যবহার করা হতে বিরত থাকতে বলবেন।

স্বামীর কথার ন্যায্যতার সাথে জবাব দিতে পারবেন,তবে বেয়াদবি যেনো না হয়,সেদিকে খেয়াল রাখবেন,তার রাগের সময় কথা না বলার পরামর্শ থাকবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...